অলীক পাতার অন্যান্য সংখ্যা- পড়তে হলে ক্লিক করুন Library ট্যাব টি



। । "অলীক পাতা শারদ সংখ্যা ১৪৩১ আসছে এই মহালয়াতে। । লেখা পাঠানোর শেষ তারিখ ১৫ ই আগস্ট রাত ১২ টা ।.."বিশদে জানতে ক্লিক করুন " Notice Board ট্যাব টিতে"

Wednesday, October 2, 2019

কবিতা-নদী -হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়


নদী

হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়

 
Picture Courtesy: Pinterest.com

নদী আমার মায়ের নামে নাম
নদী নানা কথকতায় ভরা
নদী আমার ঘরে ফেরার ডাক
জন্মগ্রামের হৃদয় ভরা সুর ।

নদী তুমি আমাকে ভাই বলো
আমরা দুজন কতদিনের চেনা
সাতসকালে আমরা দুজন উঠে
হারিয়ে গেছি মাচানতলার বাঁকে ।

নদী তোমার দুঃখ আছে জানি
কে-ই বা তোমায় ডাকলো আপন করে
আমি তোমার চিরকালের সাথী
যখন তখন আমার ঘরে এসো ।

নদী আমার হৃদয় জুড়ে গান
গানের কথা তোমার শরীর জুড়ে
তুমি যখন আপন ধারায় চল
আমি তখন সুরের ধারায় ভাসি ।

নদী তোমায়, তোমার মতো চিনি
জীবন থেকে মৃত্যু জুড়ে আলো
তবুও সবাই বন্যা বলেই ডাকে
তোমার যেন অন্য নাম নেই ।


| Aleekpatamagazine.blogspot.in |
  | Editor: Swarup Chakraborty | Publisher: Debasree Chakraborty |
|ALEEK PATA-The Expressive World |Online Magazine |
|a DISHA-The Dreamer Initiative |
|Special Puja Issue,2019 | September-October, 2019 |
| Third Year Third Issue |20Th Edition|
|© All Rights Reserved By The Editor and The Publisher |





কবিতা -সবুজের প্রশ্নে-হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়


সবুজের প্রশ্নে


হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়






সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কবিতার ভেতর
একটুকরো চিঠি .........।" কাল এসো । "
বিছানার এককোণে আছে পড়ে
কখন সে এল, কোন পথ দিয়ে গেল চলে
একজনও তা জানে না


ব্রিজের মাথায় দাঁড়িয়ে থাকি
চারপাশ শুধু হলুদ আর হলুদ
কে এসে দাঁড়াবে এখানে, কোন ভরসায় ?
কে দেবে তাকে সাহস পথ চলার ?
তাকিয়ে থাকি পথের দিকে
আসে কে? দেখি চলে যায় সবাই
কে আসে এখানে ? কোন ভরসায় ?
তবু দাঁড়াই, দাঁড়িয়ে থাকি
ভরসার পালে দিতে হাওয়া


একটুকরো সবুজও চোখে পড়ে না
সে এসে দাঁড়াবে কোথায় ?
কোথায় এসে রাখবে নিজেকে ?
কোন মুখে দাঁড়িয়ে থাকি,
সবুজের প্রশ্নে কী উত্তর হবে ?

 | Aleekpatamagazine.blogspot.in |
  | Editor: Swarup Chakraborty | Publisher: Debasree Chakraborty |
|ALEEK PATA-The Expressive World |Online Magazine |
|a DISHA-The Dreamer Initiative |
|Special Puja Issue,2019 | September-October, 2019 |
| Third Year Third Issue |20Th Edition|
|© All Rights Reserved By The Editor and The Publisher |






গল্প- চিরন্তন সম্পর্ক -জ্যোতিকা পোদ্দার


চিরন্তন সম্পর্ক

জ্যোতিকা পোদ্দার
Collage Swarup Chakraborty


দৃশ্য ১

রাত দশটা বেজে গেল তনিমা এখন ও বাড়ি ফিরল না, গভীর চিন্তায় পড়ে গেলেন প্রণতি দেবী। খোকা ও বিদেশে গেছে দুবছরের জন্য প্রজেক্টের- কাজ নিয়ে। গোটা বাড়িতে তিনি আর তনিমা এখন একা। সকাল দশটা বাজতে না বাজতেই  মেয়ে অফিসে চলে যায়। প্রতিদিন মোটামুটি রাত আটটার মধ্যেই বাড়ি ফিরে আসে তনিমা ।এত দেরি তো কখনো হয়না! বারবার ফোন করছেন, ফোন ও সুইচড অফ বলছে।
এত বড় দায়িত্ব জ্ঞানহীন মেয়ে! প্রনতি দেবী বুঝতে পারছেন না কী করবেন এখন,_ শুধু ঘর বার করছেন।নিজের বড়দিকে ফোন করতে যাবেন ই ভাবছেন ,এমন সময় বাড়ির সামনে অটো এসে দাঁড়ালো। অটো থেকে নামল তনিমা। দরজা খুলে প্রচন্ড রেগে প্রণতি দেবী  তনিমা কে বললেন,-"নিজে তো ফিরতে দেরি হবে জানিয়ে ফোন করলি ই না, উল্টে আমি বারবার ফোন করছি ,কিন্তু ফোনটা সুইচ অফ করে রেখেছিস।বলি তোর ব্যাপারটা কি? আমার বাড়িকে কি হোটেল ভেবে রেখেছিস যে ,যখন খুশি আসবি,_যখন খুশি যাবি; চলবে না ,এইসব বলে দিলাম।"
তনিমা ছুটে এসে প্রণতি দেবীকে জড়িয়ে ধরে বলে, "মা ফোনের চার্জ শেষ হয়ে গিয়েছিল, আর তোমার প্রেসারের ঔষধ টা আমার অফিসের পাশের দোকানে পেলাম না ।একটু দূরে যেতে হল। তাই দেরি হয়ে গেল, রাগ করোনা মা প্লিজ"!
তার ঔষধ আনতে গিয়ে দেরি হয়েছে শুনে প্রনতি দেবীর রাগ একটু কমলো।  তিনি বললেন_ "যা তাড়াতাড়ি হাত মুখ ধুয়ে ফ্রেশ হয়ে আয়। আমি খাবার গরম বসাচ্ছি"।

দৃশ্য ২

সকাল সাড়ে নটা। তনিমা আর প্রনতি দেবীর মধ্যে খাওয়া নিয়ে যুদ্ধ চলছে। তনিমা কিছুতেই খেতে চাইছে না , প্রণতি দেবী জোর করে আর একটা রুটি দিলেন। বললেন -"শিগগিরিই এই রুটিটা খেয়ে নে ;অফিসে গিয়ে তো আর তেমন কিছুই খাবি না, টিফিনটাও আধা দিন পুরো খাস না এইটুকু না খেলে চলে"। বলে জোর করে রুটির টুকরোটা মুখে তুলে দিলেন।তনিমা প্রণতি দেবীর  কথা ফেলতে পারে না ;খেয়ে নেয় ।আর হেসে  বলে _"খাইয়ে খাইয়ে তুমি আমাকে এমন মোটা করে দেবে যে, তোমার খোকা এসে আর আমাকে চিনতেই পারবে না "_এই বলে হাসতে হাসতে অফিস চলে যায়।
দৃশ্য

প্রণতি দেবী বারান্দাতে এলে পাশের বাড়ির সেনগিন্নি বললেন,- "কাল তনিমাকে দেখলাম অনেক রাত করে বাড়ি ফিরলো,দিনকাল ভালো নয়। মেয়ে মানুষ, বদনাম ছড়াতে কতক্ষণ"! এতক্ষণ চুপ করে সব শুনছিলেন প্রণতি দেবী, আর থাকতে না পেরে বললেন,"তনিমা আমার খুব দায়িত্ব জ্ঞান পূর্ণ মেয়ে ;ওর প্রতি আমার পূর্ণ আস্থা_ বিশ্বাস_ ভরসা সব আছে। কেউ যদি ওর বদনাম করে ,সেটা তার ব্যাপার, আমার কিছু যায় আসে না"।শুনে সেন গিন্নি মুখ বেঁকিয়ে ভেতরে চলে গেলেন ।মনে মনে বললেন-"আজকাল কার দিনে লোকের ভালো করতে নেই"।

দৃশ্য ৪

ঝমঝম করে বৃষ্টি পড়ছে। এদিকে রান্নার দিদি বৃষ্টির জন্য বিকেলে কাজে আসতে পারেনি। প্রণতি দেবী ই রাতের রান্না করতে রান্না ঘরে ঢুকলেন। প্রনতি দেবী মনে মনে বললেন-"আহা ! মেয়েটা সকালবেলায় নাকেমুখে কোনমতে  দুটি গুজে অফিসে দৌড়ায়; ভালোমতো খেতেও পারে না ।আজ বরং  ওর জন্য খিচুড়ি আর ইলিশ মাছ ভাজা করি। বড্ড ভালোবাসে"।
খোকার বাবা গত হবার পর থেকে আমিষ ছেড়েছেন প্রনতি দেবী। মাছ-মাংস ছোন পর্যন্ত না। রান্নার দিদি  ই সব আমিষ পদগুলি রান্না করে। আর তনিমা বাড়ি থাকলে তনিমাই  বানায়। আজ আবার অনেকদিন পর নিজে হাতে আমিষ রান্না করলেন তিনি। পরম মমতায় ডাইনিং টেবিলে রাতের খাবার সাজালেন প্রণতি দেবী। কাকভেজা হয়ে তনিমা ঘরে ঢুকতেই ইলিশের গন্ধ নাকে এলো। হাতমুখ ধুয়ে তাড়াতাড়ি খেতে বসে গেল ‌ আজ রান্নায় অপূর্ব স্বাদ পেল।বুঝল এই রান্না ,রান্নার দিদি নয় মা বানিয়েছেন তার জন্য। খাওয়া শেষে প্রণতি দেবীকে জড়িয়ে ধরে চুমু খেলো তনিমা। প্রণতি দেবী কপট বিরক্তিতে বললেন-"ছাড় পাগলী"।

দৃশ্য ৫

বিকেল থেকেই প্রণতি দেবীর শরীরটা ভাল লাগছিল না। ও তেমন কিছু নয় বলে নিজেই নিজেকে প্রবোধ দিলেন। তনিমা অফিস থেকে ফিরলে দুজনে রাতের খাওয়া শেষ করলেন। অন্যদিন খাওয়ার পর মা-মেয়ে দু'জনে বসে একটু গল্প করেন। আজ আর গল্প না করে প্রণতি দেবী তাড়াতাড়ি শুতে চলে গেলেন। তনিমা পিছু ডেকে জিজ্ঞাসা করল-"মা তোমার কি শরীর খারাপ লাগছে"? প্রনতি দেবী উত্তরে হেসে মাথা নেড়ে বললেন -"ও তেমন কিছু না"। প্রণতি দেবীর চলে যাওয়ার দিকে তনিমা গভীর ভাবে তাকিয়ে রইল।

দৃশ্য ৬

হঠাৎ মাঝ রাতে বুকে প্রচন্ড চাপ অনুভব করে ঘুম ভেঙে গেল প্রণতি দেবীর। বুকে অসহ্য কষ্ট হচ্ছে । তনিমা কে যে ডাকবেন সেই গলার জোর পর্যন্ত নেই। চোখে ঝাপসা দেখতে শুরু করলেন ।জ্ঞান হারাতে লাগলেন। পুরোপুরি জ্ঞান লুপ্ত হওয়ার আগের মুহূর্তে মনে হল যেন, তনিমা তাকে ঝুঁকে পরে দেখছে। আর কিছু মনে নেই প্রনতি দেবীর।
জ্ঞান ফিরে দেখলেন হসপিটালের বেড়ে শুয়ে আছেন তিনি। পাশে বিধ্বস্ত ভাবে তনিমা বসে।  কেঁদে কেঁদে চোখ মুখ লাল। অন্যপাশে ডাক্তারবাবু দাঁড়িয়ে।প্রণতি তার দিকে তাকাতেই ডাক্তারবাবু বললেন -"আর ভয়ের কোন কারণ নেই ।এ যাত্রায় আপনি বেঁচে গেলেন। তবে তনিমা দেবী, আপনি যদি ঠিক সময়ে ওনাকে হসপিটালে না আনতেন ,তবে যে কোনো অঘটন ঘটতেই পারত"-এই বলে ডাক্তারবাবু চলে গেলন।
 তনিমা আর নিজেকে সামলাতে পারল না;-হাউমাউ করে কেঁদে ফেলল। বলতে লাগলো-" তোমার শরীর খারাপ লাগছিল কেন বললে না?রাত্রিবেলায় আমি যদি তোমার ঘরে না যেতাম, তাহলে কি হতো ? তুমি আর সোমু ছাড়া আমার আর কে আছে ?তোমার যদি কিছু হয়ে যেত তাহলে সোমুকে আমি কি জবাব দিতাম? আমি তোমার নিজের মেয়ে নই বলে কি ,আমাকে তোমার মনের কথা বলা যায় না"?
প্রণতি দেবী তনিমার  হাত দুটো ধরে বললেন-" ধুর পাগলী !তুই তো আমার মেয়ের থেকেও বেশি রে'!
মনে পড়ে গেল, তিন বছর আগের কথা, যখন সোমু মানে তার ছেলে সোমনাথএসে বলেছিল, ক্রিশ্চান মিশনারীতে  মানুষ পিতৃ-মাতৃ পরিচয়হীন তনিমাকে সে বিয়ে করতে চায়। মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছিল। আত্মীয়-স্বজন বন্ধু-বান্ধব সবাই না করেছিল। বলেছিল যে, বাপ মার পরিচয় হীন মেয়ে পরিবার সম্বন্ধে কি জানে? কোনো দায়িত্ব নিতে  পারবে না।  এ বিয়ে  সুখের  হবে না।
প্রথমে  প্রনতি দেবীর মনও  দ্বিধাগ্রস্থ ছিল। কিন্তু ছেলে  সোমুর  মুখের দিকে তাকিয়ে ,তিনি তনিমাকে পুত্রবধূ বলে মেনে নিয়েছিলেন।
 আজ বুঝলেন, তিনি সেদিন কোন ভুল করেননি,তনিমা কে  পুত্র বধূ করে। টক-মিষ্টি স্বাদে ভরা তার‌ আর তার পুত্রবধুর সম্পর্কটি বড়ই সুস্বাদু।
আপনারা নিশ্চয়ই এতক্ষণে বুঝে ফেলেছেন যে ,প্রণতি দেবী আর তনিমা হল ,শাশুড়ি -বৌমা ।আর তাদের সম্পর্ক হল, বিনি সুতোয় গাঁথা এক চিরন্তন সম্পর্ক।।

।। সমাপ্ত ।।


| Aleekpatamagazine.blogspot.in |
  | Editor: Swarup Chakraborty | Publisher: Debasree Chakraborty |
|ALEEK PATA-The Expressive World |Online Magazine |
|a DISHA-The Dreamer Initiative |
|Special Puja Issue,2019 | September-October, 2019 |
| Third Year Third Issue |20Th Edition|
|© All Rights Reserved By The Editor and The Publisher |






















কবিতা-ফেরিওয়ালা - ফিরোজ আখতার


ফেরিওয়ালা

ফিরোজ আখতার

Image Courtesy: Google Image Gallery




নিঝুম দুপুরে
যে ফেরিওয়ালা'র হাঁক
জাদুকরের জাদু'র থেকে
কোন অংশে কম না

কিন্তু,
কোন জাদুকরই আমাকে
ছোটবেলায় ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারে না

ফেরিওয়ালা এখন
অনলাইন মার্কেটিং-এর পিদিমে বন্দী






| Aleekpatamagazine.blogspot.in |
  | Editor: Swarup Chakraborty | Publisher: Debasree Chakraborty |
|ALEEK PATA-The Expressive World |Online Magazine |
|a DISHA-The Dreamer Initiative |
|Special Puja Issue,2019 | September-October, 2019 |
| Third Year Third Issue |20Th Edition|
|© All Rights Reserved By The Editor and The Publisher |





























কবিতা-অতল - মৌসুমী চৌধুরী


অতল

মৌসুমী চৌধুরী


Image Courtesy: Google Image Gallery:: Collage: Swarup Chakraborty



ফুল-লতাপাতা আঁকা তোরঙ্গ থেকে
উঠে আসছে তোমাকে লেখা চিঠিগুলো।
ইথার তরঙ্গে ভেসে আসছে ক্ষয়াটে শব্দেরা।
উথলে উঠছে  নদীকথার সুগন্ধি পংক্তিরা
বাতাস বিলাপ করে  মন...

শুধু বর্ণমালা ছেঁচে উঠে আসে
একটি কথা, এক অক্ষর-শ্বাস...
যার কম্পিত থরো থরো চূড়ে
জমাট বাঁধে আল্পসের বরফ।
যার অতল আহ্বানে
জেগে রয় হাজার অমরাবতী।

দুয়ারে দিয়েছো কাঁটা
কোথায় দাঁড়াই আমি......?



| Aleekpatamagazine.blogspot.in |
  | Editor: Swarup Chakraborty | Publisher: Debasree Chakraborty |
|ALEEK PATA-The Expressive World |Online Magazine |
|a DISHA-The Dreamer Initiative |
|Special Puja Issue,2019 | September-October, 2019 |
| Third Year Third Issue |20Th Edition|
|© All Rights Reserved By The Editor and The Publisher |





















গল্প-সব হারানোর ব্যথা - সুধাংশু চক্রবর্তী

সব হারানোর ব্যথা

সুধাংশু চক্রবর্তী

Image Courtesy : Google Image


রাত্রের শেষ লোকাল ট্রেনে চেপে বৈকুণ্ঠপুর থেকে বাড়ি ফিরছেন যজ্ঞেশ্বর । গিয়েছিলেন এক অসুস্থ আত্মীয়কে দেখতে । ট্রেন বসার পর স্ত্রী মন্দারের কথা মনে পড়লো তাঁর । ইস্, আজ অনেক রাত হয়ে গেল । বেচারী বাড়িতে একলা রয়েছেন । আজকাল একটাই ভয় তাড়া করে ফেরে যজ্ঞেশ্বরকে । স্ত্রীর কাছে কেউ এক জন নেই যে, হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়লে ডাক্তার ডেকে আনবে । একরাশ দুশ্চিন্তা নিয়ে ট্রেন থেকে নেমেই দ্রুত হাঁটতে থাকলেন বাড়ীর পথ ধরে ।

বাড়ীর অনতিদূরেই রয়েছে বিশাল একটা খেলার মাঠ । সেই মাঠের পাশ দিয়ে আসার সময় বাতাসে ভেসে আসা চাপা গোঙ্গানির আওয়াজ শুনে থমকে দাঁড়িয়ে পড়লেন । আওয়াজটা ভেসে আসছে মাঠের অন্ধকারাচ্ছন্ন বুক থেকে । কেউ নিশ্চয়ই কোনো বিপদে পড়েছে ! এদিকে আবার সাপখোপের বড়ই উপদ্রপ । কাউকে সাপে কাটলো না তো ! যজ্ঞেশ্বর দ্রুত চলে এলেন গোঙ্গানি লক্ষ্য করে । এসে ছোট্ট পকেট টর্চের আলোয় দেখেন বছর চোদ্দর একটি মেয়ে মাঠের মাঝখানে অর্ধউলঙ্গ অবস্থায় পড়ে থেকে ছটফট করছে নিদারুণ যন্ত্রণায় । দ্রুত কাঁধের ঝোলা থেকে জলের বোতল বের করে মেয়েটির মুখের সামনে ধরে বললেন, ‘জলটুকু খেয়ে নাও মা।’

মেয়েটি ওই অবস্থাতেই ছিটকে সরে গিয়ে ভয়ার্ত গলায় বলে উঠলো, ‘তোমাদের পায়ে পড়ি, আমাকে ছেড়ে দাও তোমরা ।’

নিঃসন্তান সৌমেনের বুকের ভিতরটায় মোচড় দিয়ে উঠলো । আহা রে, না জানি কতই না পাশবিক অত্যাচার হয়েছে কচি মেয়েটির ওপর । ধর্ষিতা মেয়েটিকে গুছিয়ে নেবার সময় দিয়ে যজ্ঞেশ্বর গলায় সহানুভূতি মিশিয়ে বললেন, ‘তোমার বাড়ি কোথায় মা ?’
- ‘আমি বড়রাস্তার মোড়েই একটা ঝুপরিতে থাকি এক পাতানো কাকীর সাথে । আমার মা-বাবা নেই ।’ বোঝা গেল সামান্য হলেও মেয়েটির ভয় কেটেছে ।
- ‘ভয় পেয়ো না মা । আমি তোমার বাবার মতো । যারা তোমার ক্ষতি করেছে তাদের চেনো তুমি ?’
- ‘চিনি । ওই এলাকারই বড়লোকের দুটো বখাটে ছেলে । ঘুমিয়েছিলাম । কাকীমার পাশ থেকে জোর করে তুলে এনেছে আমাকে ।  কাউকে বলে দিলে আমাকে জানে খতম করে দেবে বলে শাসিয়ে গিয়েছে ।’ মেয়েটি হাউ হাউ করে কেঁদে ফেললো ।
- ‘তোমার কোনো ভয় নেই মা । থাক, ওদের নাম বলতে হবে না তোমাকে । এখন চলো দেখি আমার সাথে ।’
- ‘কোথায় ?’
- ‘আমার বাড়িতে ।’
- ‘কিন্তু আমি যে অপবিত্র হয়ে গিয়েছি ! ওরা যে আমাকে......’ কথাটা অসমাপ্ত রেখে মেয়েটি ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে ওঠে ।
- ‘দূর বোকা মেয়ে । নর্দমার কাদা গায়ে লাগলে কেউ কি অপবিত্র হয়ে যায় ? বাড়িতে গিয়ে ভালো করে স্নান করে নিবি । ব্যাস, শরীরে লেগে থাকা সব নোংরা ধুয়েমুছে গিয়ে একেবারে পবিত্র হয়ে যাবি ।’ যজ্ঞেশ্বর ওর মাথায় স্নেহের হাত বুলিয়ে স্বান্তনা দেন ।
- ‘তোমরা আমাকে মেনে নিতে পারবে বাবা ? সমাজ তোমাদের কিছু বলবে না ?’

নিঃসন্তান যজ্ঞেশ্বরের গলা বুজে এলো আবেগে, ‘ওরে, তুই আমাকে বাবা বলে ডেকেছিস তাতেই আমি ধন্য হয়েছি । সমাজের কথা বলছিস ? যে-সমাজ মেয়েদের আব্রু রক্ষা করতে পারে না, যে-সমাজ নিগৃহীতাকে দোষারোপ করে সেই সমাজকে আমি ধিক্কার জানাই । শোন মেয়ে, তোর এই বাবা যতকাল বেঁচে থাকবে তোকে বুক দিয়ে আগলে রাখবে । এবার ওঠ । বাড়ি যেতে হবে না ? তোর মা যে বসে আছেন আমাদের ফেরার পথ চেয়ে ।’

যজ্ঞেশ্বর বাড়ি এসে সব কথা খুলে বললেন স্ত্রীকে । মন্দার সব শুনে মেয়েটিকে বুকে জড়িয়ে ধরে বললেন, ‘আজ থেকে তুই আমাদের মেয়ে হলি মা । হেসেখেলে গান গেয়ে এই সংসারটা ভরিয়ে রাখবি । আমি তোকে নতুন একটা নাম দিলাম । আজ থেকে তোর নাম হবে মৃন্ময়ী ।’

পোড়াকপালি মেয়েটা নতুন একটা নামের সঙ্গে মা-বাবা পেয়ে খুব খুশী । দু’হাত দিয়ে মন্দারকে জড়িয়ে ধরে বলে, ‘তাই হবে মা । তোমরা আমাকে মৃণ্ময়ী বলে ডেকো ।’ 

বছর খানেক পর । আজ রথ । যজ্ঞেশ্বরের হাত ধরে মৃন্ময়ী এসেছে দূরের এক রথের মেলায় । বিশাল মেলাপ্রাঙ্গন হাজার মানুষের ভিড়ে জমজমাট । যজ্ঞেশ্বর মেয়েকে সমস্ত আনন্দের উপকরণ জুগিয়ে চলেছেন হাসিমুখে । মৃণ্ময়ীকে যখন নাগরদোলায় চাপিয়েছেন ঘটনাটা তখনই ঘটলো । সহসা কী একটা কারণে যেন জোর ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়ে গেল গোটা মেলা প্রাঙ্গন জুড়ে । মৃন্ময়ী একলা চেপেছে নাগরদোলায় । ওকে নাগরদোলায় চাপিয়ে যজ্ঞেশ্বর গিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন কিছুটা দূরে । ধাক্কাধাক্কির জেরে দূরে ছিটকে গেলেন । তারপর থেকে কিছুতেই খুঁজে পাচ্ছেন না মৃন্ময়ীকে ।

যজ্ঞেশ্বর সেই থেকে গোটা মেলা প্রাঙ্গন জুড়ে খুঁজে চলেছেন নিজের হারানো মেয়েকে । এদিকে রাত ক্রমশ গভীর হচ্ছে । একসময় ভাঙ্গন ধরলো মেলায় । ভাঙ্গা মেলায় তেমন মানুষজন নেই । যারা আছে তারা দ্রুতহাতে গুছিয়ে নিচ্ছে যে–যার অবিক্রিত পসরাসামগ্রী । দু-চারজন সুযোগসন্ধানী মানুষের দেখাও মিলছে এখানে সেখানে । যদি ভাঙা মেলায় কিছু পেয়ে যায় জলের দরে । এদের মাঝেই যজ্ঞেশ্বরকে দেখা গেল ভেঙে গুঁড়িয়ে যেতে যেতেও মৃন্ময়ীর সন্ধানে ছুটে মরছেন মেলার এপ্রান্ত থেকে সেপ্রান্ত । মানুষটা দ্রুত একজন অসহায় বাপ হয়ে উঠেছেন এই ভাঙা মেলায় । তাঁর শরীরের সমস্ত রক্ত ঘাম হয়ে ঝরতে থাকে হাজার মানুষের পদদলিত বিবর্ণ ঘাসের বুকে । তিনি তবুও ছুটে চলেছেন মেলার এপ্রান্ত থেকে সেপ্রান্তে ।

চোখের জলে নাকের জলে একাকার হয়ে আছে তাঁর সব হারানোর ব্যথায় কালো হয়ে যাওয়া মুখ । খোঁজার মাঝেই থমকে দাঁড়িয়ে পড়ছেন নাগরদোলার শেষ দু-চারটে কারিগরের কাছে, দোকানের মনিব ও ব্যাপারীদের কাছে । দাঁড়িয়ে পড়ে বর্ণনা দিচ্ছে, ‘ফর্সা , একহারা চেহারা......চাপা নাক......হাত দুটিতে বড়সড় গোছের রঙ্গিন কাঁচের চুড়ি....আজ মেলাতেই কিনে পড়েছে.....আমি যে ওর পোড়া কপালে বাপ.........।’ তাঁর সেই বর্ণনায় যে-সুর ঝরে পড়ছে তা বড়ই করুণ । সোজা এসে বিঁধে যাচ্ছে যে শুনছে তার বুকের ঠিক মধ্যিখানে ।

দেখেশুনে কেউ কেউ পাগল ভেবে হাসাহাসি করছে । অনেকেই আবার না শোনার ভান করে ব্যস্ত হয়ে পড়ে নিজের পসরা গুছোনোর কাজে । তারপর একসময় নাগরদোলা, মেলা, হৈচৈ সবকিছু হারিয়ে গেল পাথুরে স্তব্ধতার আড়ালে । ঝড়ে বিধ্বস্ত যজ্ঞেশ্বরের সামনে পেছনে পড়ে থাকলো শুধু ন্যাড়া মাঠ । সহসা একপাল হাওয়া ছুটোছুটি জুড়ে দিলো ফাঁকা মেলাপ্রাঙ্গনের বুকে । তাতেই যজ্ঞেশ্বরের বাঁধভাঙা কান্নার শব্দ মিলিয়ে যেতে থাকলো দুরন্ত বাতাসের শন্‌ শন্‌ শব্দের আড়ালে । একসময় হতাশ হয়ে, নাকের জলে চোখের জলে একাকার হয়ে, সন্তান হারানোর বুক ভাঙা আর্তনাদ সম্বল করে যজ্ঞেশ্বর বাড়ি ফেরার পথ ধরলেন । পূব আকাশ তখন রঙ বদলাতে শুরু করেছে ।

যজ্ঞেশ্বর বাড়ি ফিরে এসে দেখেন, বাড়ীর খোলা দরজায় সেঁটে আছে মন্দারের দুশ্চিন্তাগ্রস্ত কালো মুখ । পাশে উদ্বিগ্ন মৃন্ময়ীর মুখ । দেখেই প্রায় ছুটে এসে মেয়েকে বুকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়লেন যজ্ঞেশ্বর, ‘তুই ফিরে এসেছিস মা ? ওদিকে আমি যে কত করে তোকে......।’

মৃন্ময়ীও কান্না চাপতে না পেরে বাপের বুকে লেপটে থেকে কান্নাজড়ানো গলায় বলে, ‘ভিড়ের চাপাচাপিতে তোমাকে যে হারিয়ে ফেলেছিলাম বাবা । কিছুক্ষণ খুঁজেও ছিলাম তোমাকে । না পেয়ে চলে এসেছি বাড়িতে । রাত গভীর হবার আগেই চলে এসেছি আমি ।’

মন্দার কান্নাভেজা গলায় বললেন, ‘দুশ্চিন্তায় দুশ্চিন্তায় দু’দণ্ড স্থির হয়ে বসতে পারছিলাম না । এখন যাও, চোখেমুখে জল দিয়ে এসো । চা খেয়ে একটু গড়িয়ে নাও বিছানায় । আজ আর অফিসে যেতে হবে না তোমাকে ।’

ক্লান্ত শ্রান্ত যজ্ঞেশ্বর মেনে নিলেন স্ত্রীর কথা । স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে চোখেমুখে জল দিয়ে এসে চা খেয়ে সোজা চলে এলেন বিছানায় । মৃন্ময়ী এসে বাবার মাথায় হাত বুলিয়ে দিলো । নিশ্চিন্ত যজ্ঞেশ্বর, হারানো ধন ফিরে পাওয়া যজ্ঞেশ্বর একসময় তলিয়ে গেলন গাঢ় ঘুমে ।


আরও বছর দশেক পর । মৃন্ময়ী এখন আর সেই মৃন্ময়ী নেই । বাপ-মায়ের স্নেহ ভালোবাসা এবং মাথার নিশ্চিন্তের ছাদ পেয়ে মেয়েটা এতোদিনে খুবই সুন্দরী হয়ে উঠেছে । তাকালে চোখ ফেরানো যায় না । মেয়েকে আজ পাত্রস্থ করতে চলেছেন যজ্ঞেশ্বর । সুচাকুরে পাত্রটি তাঁরই সহকর্মীর সন্তান । সব জেনেশুনেই রাজী হয়েছে মৃন্ময়ীকে বিবাহ করে ঘরে তুলতে । যজ্ঞেশ্বর যেন দম ফেলারও অবকাশ পাচ্ছেন না । অন্যান্য এয়োস্ত্রীদের নিয়ে মন্দারও মেতে রয়েছেন স্ত্রী আচার নিয়ে । যজ্ঞেশ্বর একলার হাতে সবদিক সামলাচ্ছেন চোখের জল সামলাতে সামলাতে ।

বিবাহ আসরে বসে পুরোহিতমশাই সরঞ্জাম গোছাতে গোছাতে হাতের কাছে কিছু একটা বস্তু না পেয়ে যজ্ঞেশ্বরের কাছে চাইলেন । যজ্ঞেশ্বর দ্রুত কদমে ঘরে এসে ঢুকলেন । এখন একটি মুহূর্তও নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না । পাত্রপক্ষ চলে আসবে যে-কোনো সময়ে । হাতে আর বেশী সময় নেই । পুরোহিতের চাওয়া বস্তুটা নিতে ঢুকেছেন এই ঘরে । এখনেই তো রেখেছিলেন সেই বস্তু । কোনোদিকে তাকানোর সময় পর্যন্ত নেই । ঘরে ঢুকে এদিক সেদিক হাতড়াতে লাগলেন বস্তুটা হাতে পাবার আশায় । কিন্তু কিছুতেই মনে পড়ছেন না কোথায় রেখেছেন । গোছানো সরঞ্জামগুলো আগোছাল হতে লাগলো খোঁজার তাড়নায় । যজ্ঞেশ্বরের ভ্রুক্ষেপ নেই তাতে । হঠাৎ শুনলেন কে যেন বলে উঠলো, ‘কি খুঁজছো বাবা ?’

যজ্ঞেশ্বর চমকে উঠে ঘাড় ঘুরিয়ে তাকালেন । বিয়ের কনের সাজে সেজে একটি মেয়ে ! তাঁর চোখমুখ দেখে বোঝা গেল মেয়েটিকে চিনতে পারছেন না । মেয়েটি আবার শুধোলো, ‘কি খুঁজছো বাবা ? আমাকে বলো এখনি খুঁজে দিচ্ছি ।’

যজ্ঞেশ্বর অবাক চোখে তাকিয়ে থাকলেন মেয়েটির চাঁদপানা মুখের দিকে । কনের সাজে মেয়েটিকে ভারি সুন্দরী দেখাচ্ছে ! আহা, অমন একটি মেয়ে যার ঘরে আছে না জানি সে কত ভাগ্যবান !
- ‘ও বাবা, আমার দিকে অমন করে তাকিয়ে আছো কেন ? কি হয়েছে তোমার ? ও বাবা, শরীর খারাপ লাগছে ?’

বাবা’ ডাক শুনতে শুনতে বাস্তবে ফিরে এলেন যজ্ঞেশ্বর । ছিঃ-ছিঃ। নিজের মেয়েকেই চিনতে পারছিলেন না ! অথচ এই মৃন্ময়ীর জন্যই আজ এতো আয়োজন, এতো ব্যস্ততা ! ছিঃ-ছিঃ । এই লজ্জা তিনি রাখবেন কোথায় ? মেয়েটিকে একদিন অন্ধকার মাঠ থেকে তুলে এনে নিজের সংসারে ঠাই দিয়েছিলেন । বিগত বারোবছর ধরে নিজের ঔরসজাত সন্তানের মতো লালনপালন করলেও ঘর-সংসার ভুলে এতোকাল কেবল কাজ আর কাজ করে গিয়েছেন বলেই কি মৃন্ময়ীর দিকে তেমন করে তাকানোর সময় করে উঠতে পারেননি ? যজ্ঞেশ্বরের দু’চোখে জল জমতে শুরু করলো । ঘুরে দাঁড়িয়ে সোজা চোখে তাকালেন মৃন্ময়ীর মুখের দিকে । অমনি বুকের ভিতরটা মোচড় দিয়ে উঠলো কিছু একটা হারানোর ভয়ে । কি হারানোর ভয়ে বুকে কাঁপন ধরেছে বুঝতে না পেয়ে দঁড়িয়ে রইলেন পাথরের মূর্তি হয়ে ।

মৃন্ময়ী কাছে এসে যজ্ঞেশ্বরের বুকে মাথা রেখে ভয়ার্ত গলায় শুধোলো, ‘কি হয়েছে বাবা ? অমন করছো কেন ?’

যজ্ঞেশ্বর আর স্থির থাকতে পারলেন না । মেয়েকে বুকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেললেন হাউ হাউ করে । এই ‘বাবা’ ডাক শোনার জন্য আজ থেকে তাঁকে যে প্রতীক্ষা করে বসে থাকতে হবে । নিজেও জানেন না আবার কবে শুনবেন এই ‘বাবা’ ডাক । এটা কি সব হারানো নয় ?


।। সমাপ্ত ।।

| Aleekpatamagazine.blogspot.in |
  | Editor: Swarup Chakraborty | Publisher: Debasree Chakraborty |
|ALEEK PATA-The Expressive World |Online Magazine |
|a DISHA-The Dreamer Initiative |
|Special Puja Issue,2019 | September-October, 2019 |
| Third Year Third Issue |20Th Edition|
|© All Rights Reserved By The Editor and The Publisher |



Main Menu Bar



অলীকপাতার শারদ সংখ্যা ১৪২৯ প্রকাশিত, পড়তে ক্লিক করুন "Current Issue" ট্যাব টিতে , সবাইকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা

Signature Video



অলীকপাতার সংখ্যা পড়ার জন্য ক্লিক করুন 'Current Issue' Tab এ, পুরাতন সংখ্যা পড়ার জন্য 'লাইব্রেরী' ট্যাব ক্লিক করুন। লেখা পাঠান aleekpata@gmail.com এই ঠিকানায়, অকারণেও প্রশ্ন করতে পারেন responsealeekpata@gmail.com এই ঠিকানায় অথবা আমাদের ফেসবুক গ্রুপে।

অলীক পাতায় লেখা পাঠান