তুষার
ভট্টাচার্য
Image Courtesy: Google Image Gallery
ভোরের কৈশোরে যে মেঘ কিশোরী
দু'চোখে অফুরান
রূপকথা স্বপ্ন বুনে
হারিয়ে গেছে
অন্ধকার গাঙুরের জলে
তাকে আমি খুঁজি রুপোলি জোছনা
রাতে
অগণন স্বপ্ন লেখা
️
তুষার
ভট্টাচার্য
Image Courtesy: Google Image Gallery
ভোরের কৈশোরে যে মেঘ কিশোরী
দু'চোখে অফুরান
রূপকথা স্বপ্ন বুনে
হারিয়ে গেছে
অন্ধকার গাঙুরের জলে
তাকে আমি খুঁজি রুপোলি জোছনা
রাতে
অগণন স্বপ্ন লেখা
️
বেনিয়া
Image Courtesy: Google Image Gallery
তারপর ঝাড়লণ্ঠন ভেঙে গেছে
টুকরো আগুন লেগেছে সাজানো
মিনারে
একাকীত্ব বহুকাল আগেই গ্রাস
করেছিলো
আত্মদহন উঁকি দিয়ে চিতার
অনুরূপ হয়ে আছে
নিজের কাছে কৈফিয়ত দিয়ে
যবনিকা টানতে চেয়েছি
সহজ নয় জানি চলে যাওয়া
অদৃশ্য পিছুডাক অপেক্ষায় আছে
তাকেও তো দিতে পারিনি জ্যোতির
ছোঁয়া
অভিমানে যদি সে বাতাস হয় ...
মৃতপ্রায় স্রোত মোহনা স্পর্শ
করবে অচিরে
মোহন
দাস
Image Courtesy: Google Image Gallery
সেইখানে আমরা বেশিদিন বাঁচতে
চাই
যেখানে আমাদের
ন্যূনতম মূল্যটুকুও থাকে না
আর সেইখানেই আমাদের মধ্যে কেউ
কেউ
ঝিনুকের মতন পড়ে থাকে
বুকের ভিতর মুক্তা নিয়ে ।
রশ্মিতা
দাস
দুই চোখে তার আগুন ছিল
ছিল জয়ের নেশা,
কালসদৃশ আঁখির উমেদ,
দুর্বার পিপাসা।
পঞ্চদশে উন্মাদ গজ
ক্রোধে টানে যবনিকা,
দৃপ্ত কিশোর বর্শার বেগে
রচে ত্রাসের শাখা।
সপ্তদশে বুন্দেলাতে
উড়িয়ে জয়ের কেতন,
শাহজাহানের বীর্যে লেখেন
নূতন অগ্নিচেতন।
হিংসার বীজ বৃক্ষ হল
সিংহাসনের তরে,
ভাইয়ের রক্তে দম্ভ স্নাত
জিঘাংসার উদরে।
ছিন্নবস্ত্রে হাতির পিঠে
দারাশিকোর গ্লানি,
জনসমক্ষে বানান ঠাট্টা।
মিটিয়ে তৃষ্ণাপানি।
দারাশিকোর ছিন্ন শিরে
নেভান হিংসা-ক্ষুধা,
উপঢৌকনে সাজিয়ে শির
ঢালেন গরল সুধা।
ছিন্ন শিরে রক্তে লেখা
শোধের লোলুপতা,
পিতার হাতে ভেট হয়ে শুধু
কেঁদেছে মর্মব্যথা...
স্বর্ণ সিংহাসনে ঢেলে
হাজার অশ্রু শোণিত,
ঔরঙ্গজেবের সিংহাসনে
হৃদয় যন্ত্রনাতীত...
️
রঞ্জন
চক্রবর্ত্তী
Image Courtesy: Google Image Gallery
পায়ে পায়ে ইতস্তত এগিয়ে চলি
আসন্ন অনিশ্চিতের দিকে
অন্ধকার থেকে আলোয় এবং আলো
থেকে ফের অন্ধকারে
ঘুরছি বৃত্তাকার পথে, প্রতিবার
একই বিন্দুতে ফিরে আসা
তাহলে সেই অর্থে পাপ-পুণ্য
বলে কিছু নেই, ঠিক-ভুল
নেই
ভাল-মন্দ নেই, এমনকি
ঈশ্বরে বিশ্বাস কিংবা অবিশ্বাসও নেই
আসলে এ জগতে মাত্রার অতিরিক্ত
কোন কিছুই ভাল নয়
বলতে গেলে জীবনের প্রতি
আসক্তি, অথবা
সংবেদনশীলতাও
কেননা তার মধ্যে কিছুটা হলেও
ঝুঁকির সম্ভাবনা থেকে যায়
ভুবনডাঙার মাঠে এখন কেউ নেই, শুধু
একাকীত্ব ও আমি
বোধিবৃক্ষের তলায় বিশ্রাম, একটুকরো
সুশীতল ছায়া খুঁজি
এই ছায়াটুকুই সঙ্গী, সারাদিন
পরিশ্রমের পর নিশ্চিন্ত আশ্রয়
মায়াচরাচর ঢাকা আছে আবরণে, এবার নিজেকে
খোঁজা শুরু
দৃশ্যের বিকার দেখে শূণ্যতায়
ডুবে যাই, আবার
ভেসে উঠি
কেননা পৃথিবীতে কোন স্থানই
চিরকাল শূণ্য থাকে না জানি,
তাই নিজের অস্তিত্বকে নিজেই
জাগিয়ে রাখি সুখের আশায়
আমার অন্তর্লীন সত্তা চোখে
নষ্টস্বপ্ন নিয়ে জাগে যুগ-যন্ত্রণায়।
️
মাথুর
দাস
Image Courtesy: Google Image Gallery
হাতে হাতে মোবাইল ছোট বড়
সকলের,
হেঁট মাথা, নেট চলে, আঙুলের
খুটখাট ;
কেনাকাটা, যোগাযোগ, সুরাহা
ধকলের,
কত কিছু নিমেষেই
সারা যায় হুটহাট ।
লেখা ছবি পোস্ট করো, খোলা আছে
মুখ-বই,
টিক্ টক্ ভিডিও আলোচনা গেম শো
টক্ সে !
সাজগোজ রান্না বেড়ানো আরো কত
সুখ-সই,
তোলো ছবি, সেন্ড্ করো
হোয়া-ফেবু-ইনবক্সে ।
ওৎ পেতে আছে জেনো ঠগবাজ সততই,
নানা ভাবে সবাইকে ঠকানোর
চক্কর ;
মোবাইল ব্যবহারে যদি সাবধান
না হই
সব কিছু টেনে নেবে হ্যাকারের
খপ্পর ।
চেতনায় লাগাম না থাকে যদি
মানুষের,
মোবাইলে নেশা হলে কী যে হবে
হালচাল !
পড়াশোনা কাজকাম উঠে যাবে লাটে
ফের ;
আন্তর্জাল, অন্তর-ই
নাশে, আজ
নয় কাল ।
️
সুদীপ
কুমার দাস
Image Courtesy: Google Image Gallery
মানুষ ভুলেছে মনুষ্যত্ব
মানবিকতা ভোগে বিপন্নতায়,
বিবেক আজ অস্তাচলে
কে বাঁচে, আর কাকে
বাঁচায়।
সহযোগিতার নেই মনোভাব;
সবাই শুধু ‘আমি’-‘আমি’ করে,
আধুনিক সমাজের সভ্য মানুষ
সব নিজের দোষেই মরে।
অন্যের বিপদে নীরব দর্শক
যেন দেখছে বসে থিয়েটার
মানুষ আজ হারিয়েছে হুঁশ,
সংকীর্ণতা বাজায় গীটার।
সমাজ যেন হাসির খোরাক
একতা খুঁজে পাওয়াই শক্ত,
সুখ হারিয়েছে তার ঠিকানা; আর
যন্ত্রনাগুলো থেকে যায়
অব্যক্ত।।
️