অলীক পাতার অন্যান্য সংখ্যা- পড়তে হলে ক্লিক করুন Library ট্যাব টি



। । "অলীক পাতা শারদ সংখ্যা ১৪৩১ আসছে এই মহালয়াতে। । লেখা পাঠানোর শেষ তারিখ ১৫ ই আগস্ট রাত ১২ টা ।.."বিশদে জানতে ক্লিক করুন " Notice Board ট্যাব টিতে"

Tuesday, October 20, 2020

শিশির পর্ব- কবিতা- পৃথিবীর ক্ষত - প্রনব রুদ্র

 

পৃথিবীর ক্ষত 
প্রনব রুদ্র

 

শুশ্রূষার আদর গ্লাসে ঢেলে

মরু গ্লেসিয়ার অবস্থান ভুলে

করুণারপাত্রে চাতক তৃষ্ণা খুলে

ট্রাপিজিয়াম হৃদপিন্ড ব্রাউজ করি।

 

শেষ খেয়া পারাপার হলে

দহের পাক খাওয়া জলে

সিরিয়ার শিশু ন্যাংটো খেলে

স্পর্ধাজ্বর বাড়লে শিরদাঁড়া খুঁড়ি।

 

তারপর বিকৃতির ঘোরে নিমজ্জিত অনুবাধন-

শুয়োরের ঘ্যোৎ ঘ্যোৎ শব্দের ময়লাগাত্র

অস্ত্রের ডগায় প্রজাপতি অবহেলার পাত্র


Download ALEEK PATA Mobile APP
DOWNLOAD ALEEK PATA ANDROID APP


| Aleekpatamagazine.blogspot.com |
  |ALEEK PATA- Your Expressive World |Online Magazine |
| Editor: Swarup Chakraborty | Publisher: Debasree Chakraborty |
| Special Puja Issue, 2020 | October-November 2020 | শারদ সংখ্যা -১৪২৭।
| Fourth Year Third Issue |24 th Edition|
|© All Rights Reserved By The Editor and The Publisher |
|a DISHA-The Dreamer Initiative |
পড়া শেষ? পত্রিকা বন্ধ করুন


শিশির পর্ব- কবিতা-স্মৃতি ফেরেনি আজও সুমন দিন্ডা

 

স্মৃতি ফেরেনি আজও
 সুমন দিন্ডা 

 

 

বহুদিন আগে সেই যে কোমায় চলে গেছে 

অন্দরমহলের প্রিয় পিঠেপুলি বিকেল

তারপর আর জ্ঞান ফেরেনি।

মা ঠাকুমা কাকিমা জেঠিমাদের চুলবাঁধা আবেগ

আর সমস্ত বাচ্চাদের খেলার আমবাগান, 

কিশোরীদের হলুদ মাখা সকাল

আয়না চিরুনি ফিতের খুনসুটি 

এসব যে কোথায় হুস এখন

কেউ রাখেনি কোনো খবর। 

সিলভার বাক্সে বই ভরে সে কি গর্ব

তারপর কিংসন পেনে কালি দিয়ে 

কতজনের জ্বলজ্বলে চোখের সামনে 

লিখে ফেলা আস্ত এক প্রেমপত্র। 

অবশ্য নির্দিষ্ট ঠিকানায় যাওয়ার আগে

তার ঠাঁই হয়েছিল ডাস্টবিনে, ছেঁড়া কাগজের স্তুপে।

অন্ধকার ভেঙে আলো আনতো কিছু ল্যাম্প

আর সমৃদ্ধ দু একটা হ্যারিকেন,

এতেই চলে যেতো পড়াশোনা আর লেখালেখি। 

তারপর সকলে লম্বা দাওয়ায় তালপাতার চাটাইতে

একসাথে বসে তৃপ্তির খাওয়া, 

এসব বোধহয় খুব খারাপ ছিলো সকলের জন্য! 

নাহলে কেন ভেঙে পড়লো বড়ো বাড়িগুলো, 

টুকরো জীবন ছড়িয়ে পড়লো মনোটোনাস।

তারপর আমাদের শৈশব সেই যে অসুস্থ হলো

আজও শুশ্রূষা চলছে, জ্ঞান ফেরেনি। 

 

নিঃসঙ্গ ট্রেনলাইন ধরে এগিয়ে আসছে

এককামরার ছোটো একটা ফ্ল্যাট, 

নিঃশ্বাস কমে আসছে...

Download ALEEK PATA Mobile APP
DOWNLOAD ALEEK PATA ANDROID APP


| Aleekpatamagazine.blogspot.com |
  |ALEEK PATA- Your Expressive World |Online Magazine |
| Editor: Swarup Chakraborty | Publisher: Debasree Chakraborty |
| Special Puja Issue, 2020 | October-November 2020 | শারদ সংখ্যা -১৪২৭।
| Fourth Year Third Issue |24 th Edition|
|© All Rights Reserved By The Editor and The Publisher |
|a DISHA-The Dreamer Initiative |
পড়া শেষ? পত্রিকা বন্ধ করুন


শিশির পর্ব- কবিতা- গান মৌসুমী চৌধুরী

 

গান
মৌসুমী চৌধুরী 

 

পাঁজর-গুঁড়োয় মিশে থাকে  না-শব্দেরা।

না-শব্দের কবিতারা দুয়োর এঁটে  দিলে

তোমার ছোঁয়াগুলো খুঁজতে গিয়ে দেখি

ঘরময় ছড়িয়ে আছে তাজা রক্ত, ভাঙা ডানা, জ্বলন্ত ঘিলু

পলেস্তারা খসা সেই ঘরটিতে শব্দেরা জোনাকি  আলো ছড়ায়!

অনাদরের তক্তাপোষ, তোষক, আদরকুচি

গায়ে মেখে তোমার সঙ্গে মিশে থাকি একই দেওয়ালে!

 

আহ্! হঠাৎ এত শব্দের ঝনঝনানি কেন?

ওই দেখ, অসুখের ক্যাকোফোনিকে তুড়ি মেরে

কেচে-ধুয়ে নীল দিয়ে মেলা আকাশটা থেকে

গলা-সোনা-শরৎ শব্দহীন নেমেছে কাশের ডগায়, 

শরীরী কোষে বেজে উঠছে তোমার আলোর গান!


Download ALEEK PATA Mobile APP
DOWNLOAD ALEEK PATA ANDROID APP


| Aleekpatamagazine.blogspot.com |
  |ALEEK PATA- Your Expressive World |Online Magazine |
| Editor: Swarup Chakraborty | Publisher: Debasree Chakraborty |
| Special Puja Issue, 2020 | October-November 2020 | শারদ সংখ্যা -১৪২৭।
| Fourth Year Third Issue |24 th Edition|
|© All Rights Reserved By The Editor and The Publisher |
|a DISHA-The Dreamer Initiative |
পড়া শেষ? পত্রিকা বন্ধ করুন


শিশির পর্ব- গল্প- অভিলিনের গরমের ছুটি - সোহম ঘোষ

 

অভিলিনের গরমের ছুটি

সোহম ঘোষ

গরমের ছুটি পড়েছে স্কুলে। অভিলিন মামার বাড়ি গেছে ঘুরতে পশ্চিম মেদিনীপুরের সাঁকরাইল। কাছেই কলাইকুন্ডার এয়ারবেস। এবার ক্লাশ এইট থেকে নাইন হল ওর। একে ছুটি, এখন পড়ার চাপটাও কম, তার উপর মা বাবা আসেনি, ফলে সে আনন্দেই আছে। অভিলিনের একটা ডাকনামও আছে, ফটিকচাঁদ। তবে সেটা কেবল মামাবাড়িতেই। কিন্তু যেমন ভেবেছিল, তেমনটা হল কই! এবার রনিরা ঘুরতে গেছে নৈনিতাল। তাল মানে তো হ্রদ, নৈনি গিয়ে খুব মজা করছে নিশ্চয়। মামাবাড়ির পাশেই রনিদের বাড়ি। মামাবাড়ি এলে এই রনির সাথেই খেলাটা চলে। ফলে,দু-তিন দিন ধরে খুব একঘেয়েই কাটছে সময়টা। ছোটমামার ঘরে সারাটা দিন কাটাচ্ছে হয় একা একা দাবার চাল দিয়ে বা চাঁদমামা পড়ে। দিদা ভালমন্দ রান্না করে খাওয়াচ্ছে, কিন্তু সময় আর কাটতে চাইছে না।

 

সাঁকরাইলের অন্য দিকটাই আছে লালগড়, পিড়াকাটার জঙ্গল আর এই পুরোটা মিলিয়ে খড়্গপুর ফরেস্ট রেঞ্জ। এবার মামাবাড়ি গিয়েই শুনল, হাতিদের একটা দল নাকি এসেছে। গোরামামা একদিন দাদুকে বলছিল, প্রায় আশি -নব্বই  টা নাকি হাতি হবে, তার মধ্যে আবার খান পনের বাচ্চাও আছে। ওরা থাকে নাকি দলমা ফরেস্ট রেঞ্জে; সাধরনত কংসাবতী নদী পেরিয়ে খাবারের খোঁজে এদিকটায় চলে আসে।

 

চারদিনের মাথায় গোরামামা যখন কাজ করতে এল সাথে করে নিয়ে এল বুধুয়াকে। বাচ্চা ছেলে, বছর বার বয়স। দেখে তো দাদু গোরা মামাকে এই মারে, সেই মারে। " কোন আক্কেলে তুই ওকে কাজ করাতে নিয়ে এসেছিস? ওর পড়া নেই?"

"ইস্কুল তো ছুটি বুড়োবাবু"

"হলেই বা। ওর কি কাজের বয়স!"

"উ কি সায়েব হবে গো! কামকাজ করবে, বিয়া দিব।"

" তুই ওর স্কুল ছাড়িয়েছিস তো পিটিয়ে চামড়া গুটিয়ে দেব ব্যাটা রাস্ক্যাল!" ধমকে দিল দাদু। ফলে বুধুয়া হয়ে গেল অভলিনের খেলার সাথী। কিন্ত ছেলেটা না ব্যাট করতে পারে না বল করতে। বলে দিলেও শুধু দাঁত বের করে হাসে। 

"ই বুল হবি নাক ফটিক দাদা।"

"আরে, তুই মনে কর রাবাদা। এইখান থেকে এসে বলটা ছুঁড়ে দিবি আমার দিকে। আর আমি বিরাটের মত মারব। বুঝলি?"

দাঁত বের করে, কিন্তু বল আর করতে পারে না। খেলায় মজা আসে না।

দাবা খেলাটা শিখিয়ে দিতে গেল, তাও পারে না ছেলেটা।

 

তবে একটা জিনিস হয়, গল্প জানে অনেক বুধুয়া।  বাহা পরবের গল্প বলে, বলে মারাং বুড়ো আর চাঁদ বুড়োর গল্প। একদিন বলল, "তুই হাতি দেখতি যাবি ফটিক দাদা?"

"হাতি! কোথায়?"

"উ বুনে এয়েছে উয়ারা। রেতের ব্যালা। অনেক গুলা। একটা বুড়া হাতিও আছে, বাকো আতাংলেদিয়া।"

"মানে?" উত্তেজনায় সাঁওতালি বলছিল বুধুয়া।

উরা উকে দলে লেইলি কো”।

হাতি দেখে উত্তেজিত হয়ে ওঠে অভিলিন। এর আগে সার্কাসে হাতি দেখেছে, তারা খেলা দেখাচ্ছিল কিন্তু একবারে এত হাতি! ও আর বুধুয়া, ওরা দুজনে শালের জঙ্গলের মুখটাতে দাড়িয়ে আছে। এরপর কিছুটা খালি জায়গা, তারপর ক্ষেতিজমি।ওখানেই আছে দলটা, আশি- নব্বই  টা তো হবেই সব মিলিয়ে।এমনিতে এই সময়টাই হাতির দল ফেরত চলে যায় দলমার দিকে, কিন্তু এই বছরটায় কেন জানিনা ওরা রয়ে গেছে। পিড়াকাটার দিকে নাকি ছিল দলটা, কাল রাতেই সাঁকরাইলের দিকে এসেছে।

 

আজ দুপুরে এসে যখন বুধুয়া বলছিল হাতি দেখতে যাবার কথা, সাথে সাথে প্ল্যান করে ফেলেছিল অভিলিন। ডঃ ইয়ান ডগলাস হ্যামিল্টন আর ফ্র্যাঙ্ক পোপের কথা পড়েছে বইতে; আফ্রিকাতে এই দুই ভদ্রলোক হাতিদের বাঁচাতে কাজ করে চলেছেন। প্রতি বছর প্রায় তেত্রিশ হাজার হাতি মারা হয় আফ্রিকাতে। ও পড়েছে, দাভিদ সেলদ্রিকের কথা। ওয়েন লোটেরের কথা, তাঞ্জানিয়ার মাসাকি জেলায় গত বছরই তাকে মেরে ফেলেছিল চোরা কারবারির দল। আসলে ক্লাসে প্রথম না হলেও বরাবরই বাইরের বইএর দুনিয়ার প্রতি আকর্ষণ অভিলিনের। দুপুরবেলা দাদু থাকে লাইব্রেরীতে, দিদা ঘুমোয়। মামা তো সেই কোন সকালে বেরিয়ে পড়ে ডাক্তারি করতে খড়্গপুর । ওই সময়টাতেই দুজনে বেরিয়ে পল। একটা পিঠব্যাগ নিয়েছে। দড়ি, জল, বিস্কুট আর টুকটাক কিছু ফার্স্ট এইডের জিনিস আছে ওর মধ্যে।

 

মামাবাড়ির পিছন থেকেই জঙ্গল শুরু। খুব ঘন নয়, বেশিরভাগ শাল গাছ। পলাশ, মহুয়া আর আম গাছও আছে কিছু। বুধুয়া শর্টকাট গুলো জানে সব। জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে আধঘণ্টা হেঁটে ওরা জায়গাটায় পৌঁছাল তখন প্রায় চারটে। পশ্চিম দিকের মাঠটায় দাড়িয়ে আছে হাতিগুলো। সার দিয়ে, মাঝখানে বাচ্চাগুলো। পশ্চিমের আকাশটা কালচে ছাইরঙা হয়ে উঠেছে এর মধ্যেই, ঝড় হবে হয়ত। গাছগুলোর মাথার সবুজটা আকাশের ব্যাকগ্রাউন্ডে অদ্ভুতুড়ে রঙ নিয়েছে, যেমনটা হয় আর কি। কাছাকাছি লোকজন নেই কোনও। ওদিক থেকে হাওয়া বয়ে আসছে এপাশটায়। অভিলিন পড়েছে, হাতিদের ঘ্রাণশক্তি প্রবল, বাঁচোয়া এটাই হাওয়াটা ওদিক থেকে বইছে। এই ঘ্রাণশক্তির জন্যই কোনও হাতি মানুষের সংস্পর্শে এলে হাতির দল তাকে দলে নেয় না।

 

বুধুয়া কনুই দিয়ে ঠেলে একটা হাতির দিকে ইশারা করল। এটা একটু আলাদা করে রয়েছে দলটা থেকে। অন্যগুলোর চেয়ে চেহারা অনেক বড়, কুচকুচে কালো গা। বেশ দাঁতাল। হাতিটা দাড়িয়ে আছে মাঠের উত্তরদিকে। একটু বিচলিত যেন, বড় কানগুলো ঘন ঘন নাড়ছে।

 

তখনই লোকটাকে দেখতে পেল ওরা। জংলাছাপ জামা গায়ে। বড় হাতিটার পিছনদিকের তছনছ হওয়া ক্ষেত থেকে বেরিয়ে এসেছে। হাতে একটা লাঠি, মুখ দিয়ে অদ্ভুত আওয়াজ বের করছে। সাথের ব্যাগ থেকে চকোলেট বোম ছুঁড়ে মারল দলটার দিকে। অভিলিন দেখল ঘাড় ঘুরিয়ে, বুধুয়া চোখ বড় করে তাকিয়ে দেখছে। হাতটা চেপে ধরেছে। টিপটিপ করে বৃষ্টি শুরু হল। আওয়াজে দলটা নড়েচড়ে উঠল। সরে যেতে লাগলো বাচ্চাগুলো নিয়ে। কিন্তু বড় দাঁতালটা অনড়। চুপচাপ দাড়িয়ে আছে, দূর থেকে দেখে লাগছে পাথর। ঝড়টা জোরে উঠল। লোকটা হাতির বাকি দল আর বড় হাতিটার মাঝখানে, বড় হাতিটাকে পিছনে রেখে। দলটা দক্ষিণ পশ্চিমের জঙ্গলটার দিকে ঢুকে যাচ্ছে। এমন সময় হাতিটা ঘুরে দাঁড়াল লোকটার দিকে। কিন্তু লোকটার যে খেয়ালই নেই, যে ওর পিছনে হাতিটা দাঁড়িয়ে।

লোকটা বড় হাতিটাকে পিছনে রেখেই এগিয়ে যাচ্ছিল দলটার দিকে। ঝড়টা উঠে এল তখনই। হাতিটা হঠাৎ করেই ঘুরে দাঁড়িয়েছে। মতিগতি ভালো ঠেকল না। চেহারাটা ওর বিশাল। হাতিটাকে নাম দিয়েছে ও ব্রক, এই হাতিটাকে দেখে ওর ব্রক লেস্নারের কথা মনে হচ্ছিল। লোকটা একটুও কিছু বুঝতে পারছে না। হাতে যে খুব বেশি সময় নেই সেটা অভিলিন বুঝতে পারছিল। চীৎকার করে সাবধান করতে হবে লোকটাকে। বড়োজোর পাঁচশো মিটার দুরেই হচ্ছে এসব। হাতিটা গা ঝাড়া দিয়ে উঠল।ধু  লো উড়ে একটা কুয়াশা কুয়াশা স্তর করে দিয়েছে। কানের পাশে বুধুয়ার নিশ্বাস পড়ছে, সেটা টের পাচ্ছে ভালোই।

 

হাতিটা কেমন যেন কাঁধ উঁচু করে আবার গা ঝাড়া দিল। দেখেই বোঝা যাচ্ছে ক্ষেপে উঠেছে। চীৎকার করে উঠল অভিলিন। লোকটা ঘাড় ঘুরিয়ে পরিস্থিতির গুরুত্ব টের পেল। পড়িমরি করে ছুটে এদিকেই আসতে লাগলো। হাতিটাও অত বড় চেহারা নিয়ে কি বিশাল জোরে তাড়া করে আসছে। 

বুধুয়া বলল," ফটিক দাদা, পালা।"

দুজনে পড়িমরি করে পিছন ঘুরে দৌর লাগাল।

 

এমন সময় লোকটা হোঁচট খেয়ে পড়ল। অভিলিন মানে আমাদের ফটিকচাঁদ আর বুধুয়া দুজনেই থমকে গেল। লোকটা যেখানে পড়েছে সেখানটা পাতা ডাঁই হয়ে আছে,অসমান। কালবৈশাখীর জোর বেড়েছে, মুখে চোখে পাতা, বালি এসে লাগছে। হাতিটা দৌড়ে এসে দুটো পা একসাথে তুলে পিষে দিল। 

" ই বনবাবুটা মরি গেল রে।"

খুব জোরে চীৎকার করে হাতিটা ফেরত যেতে লাগলো ওই দক্ষিণপশ্চিমের বনের দিকে। এক থেকে দু মিনিট হবে বড়োজোর। ফটিক এগিয়ে দেখতে গেল লোকটাকে। হঠাৎ  লোকটা উঠে দাঁড়াল। লোকটাকে উঠতে দেখে বুধুয়া চীৎকার করে উঠল ভয়ে।

" জিন এয়েচে।" বলেই ছুটে পালাল।

 

ফটিক কিন্তু ভয় পায়নি একটুও, বরং বেশ অবাক হয়েছে। লোকটার কাছে এগিয়ে গেল। কাদা টাদা মেখে একশা। ভয়ে ফ্যাকাশে হয়ে গেছে লোকটা। ফরেস্ট ডিপার্টমেন্টের লোক। ঝড়ের প্রাথমিক দমকা কেটে ততক্ষণে বৃষ্টি শুরু হয়েছে তোড়ে। অন্ধকার করে সন্ধ্যা নেমে আসছে। লোকটা অভিলিনকে দেখেই বিড়বিড় করতে লাগলো, " ভেবেছিলাম মরেই যাব। গুণ্ডাটা তেড়ে আসলো, আমিও পাথরে লেগে পড়ে গেলাম। ভয়ে চোখ বুজে ফেলি। চোখ যখন খুলি, দেখি ওটা ফিরে যাচ্ছে। ধুলো ঝড়ে দেখতে পায়নি হাতিটা হয়ত। বড্ড বেঁচে গেছি। বাড়ি ফিরে কালীপুজো দেব। আচ্ছা তুমি কি করছ এখানে?"

"হাতি দেখতে এসেছিলাম।"

" একা?"

"না, আমার বন্ধুও ছিল। ও আপনাকে ভুত ভেবে পালিয়েছে।" হাসল অভিলিন।

"ভূতই বটে। তুমি বুঝি খুব সাহসী?"

লজ্জা পেল শুনে।

" যা হোক, অন্ধকার হয়ে গেছে। চল তোমায় বাড়ি ছেড়ে আসি। তুমি থাক কোথায়? দেখিনি তো আগে।"

" আমি কলকাতা থাকি। এখানে মামাবাড়ি এসেছি বেড়াতে। অমিত রায়চৌধুরী আমার মামা হন।"

"ওহ। ডাক্তার বাবুর ভাগ্নে তুমি?"

 

কথা বলতে বলতে পা চালাচ্ছিল দুজনেই। ভিজে নেয়ে চুপসে গেছে। হঠাৎ   শুনল দূর থেকে 

গোরামামা ওর নাম ধরে ডাকছে। অনেকদুরে কে যেন টর্চ হাতে আসছে।



Download ALEEK PATA Mobile APP
DOWNLOAD ALEEK PATA ANDROID APP


| Aleekpatamagazine.blogspot.com |
  |ALEEK PATA- Your Expressive World |Online Magazine |
| Editor: Swarup Chakraborty | Publisher: Debasree Chakraborty |
| Special Puja Issue, 2020 | October-November 2020 | শারদ সংখ্যা -১৪২৭।
| Fourth Year Third Issue |24 th Edition|
|© All Rights Reserved By The Editor and The Publisher |
|a DISHA-The Dreamer Initiative |
পড়া শেষ? পত্রিকা বন্ধ করুন


শিশির পর্ব- গল্প- স্বাদ- শ্রাবণী গুপ্ত সরকার

 

স্বাদ
শ্রাবণী গুপ্ত সরকার


বন্যার খুব কান্না পায় এখানে। নাঃ! সব সময় নয়, মাঝে মধ্যে। যদিও সবাই শুনলে খুব বোকা ভাববে ওকে। গ্রামে তো দুবেলা পেট ভরে খেতেই পেতো না। শীতে, গরমে, বর্ষায় নানারকম কষ্ট, রোগভোগ লেগেই ছিল. ভাগ্যিস ওদের গ্রামে শুটিং ছিল। কি কপাল! সেখানে সুপার স্টার দোয়েল বর্মণ এসেছিলেন-আর বন্যার টুলটুলে মিষ্টি বুদ্ধিদীপ্ত মুখখানা তার নজরে পড়ে গিয়েছিল।

  অ্যাই মেয়ে শোন! তোর নাম কিরে? বন্যা! খুব সুন্দর নাম তো। স্কুলে পড়িস? কোন ক্লাস? আমার সঙ্গে কলকাতায় যাবি? না বেড়াতে নয়, বরাবরের জন্য’। ক্লাস এইটের বন্যা প্রশ্নের চোটে থতমত খায়। ইতিমধ্যে ওর মা পদ্ম দুই বাড়ির কাজ সেরে শুটিং দেখতে হাজির হয়েছে- ঝাঁপিয়ে ঢুকে পড়লো কথাবার্তার মাঝে। ঠিক হয়ে গেল বন্যা শহরে যাবে, ইস্কুলে ভর্তি হবে আর দোয়েল ম্যাডামের কাছে থাকবে। খানিকটা কাজকর্মও করবে। ম্যাডাম একবারে তিন হাজার টাকা ধরিয়ে দিলেন পদ্মর হাতে। প্রতি মাসে মানি অর্ডারে টাকা আসবে। ইচ্ছা করলেই পদ্ম মেয়েকে দেখতে যেতেও পারবে।

ব্যাস, বন্যা চলে এল কলকাতার একটা আকাশ ছোঁয়া বিশাল ফ্ল্যাটে। না, দোয়েল ম্যাডাম মানুষ ভালো, বেশী খাটান না, বকাঝকা তো করেনই না। কথামতো কাছাকাছি একটা ইস্কুলে ভর্তিও করে দিয়েছেন। যদিও বন্যার পড়াশোনার ঝোঁক কমই। ওর ভালো লাগে ম্যাডামের ড্রেসিং টেবিলের উপরে সাজানো শিশি বোতল গুলোকে। কিন্তু হাত দেওয়ার কথা ভাবতেই পারে না। চুরি করা হবে তো! না বলে অন্যের জিনিসে হাত দিলে।  

ম্যাডাম কিন্তু সব বোঝেন, ওকে বেশ কিছু সাজের জিনিস উপহার দিয়েছেন। বলেছেন সবসময়ে ফিটফাট থাকতে। ম্যাডামের একটা কাচ বসানো ঝকঝকে জয়পুরী ঘাঘরা খুব পছন্দ বন্যার। গতমাসে রাজস্থানে শুটিং করতে গিয়ে ওকে সঙ্গে করে নিয়ে একটা চমৎকার ঝলমলে, ঠান্ডা মেশিন বসানো দোকান থেকে পছন্দ করে ঘাঘরাও কিনে দিলেন। বন্যা সেদিন ঠাকুরকে অনেক বার প্রণাম ঠুকেছিল নিজের ভাগ্যের কথা ভেবে।

আর বন্যা ভীষণ ভালোবাসে নানারকম রান্না করতে, যেটা এখানে একদম বন্ধ। বন্যার কাজ ম্যাডামের সঙ্গে থাকা। আসলে ওনার তো কেউ নেই। ঘর-সংসার তো করেন নি, থাকার মধ্যে ছিলেন মা। তিনিও মারা গেছেন বছর দুয়েক আগে, সেটা ও ম্যাডামের কাছে শুনেছে। একা একা থাকতে তো কারুরই ভালো লাগে না। অবশ্য কতটুকু সময়ই বা বাড়িতে থাকেন-তাও বন্যার সঙ্গে কথা বলতে খুবই ভালোবাসেন দোয়েল।  

তবে বন্যার কান্না পায় কেন? আসলে সকাল বেলা ফলের রস, নানারকম ফল, টোস্ট দিয়ে দিন শুরু হয়। ঠিক আছে তাতে আপত্তি নেই। ভালোই লাগে। কিন্তু দুপুরে স্যুপ, সেদ্ধ করে নুন গোলমরিচ ছড়ানো সবজি আর মুরগী-মোটে ভালো লাগে না। আবার রাতে দুপুরের মতোই খাওয়া। হয়তো কখনো একটু পুডিং বা আইসক্রীম থাকে। বন্যার মনে হয় কতদিন মায়ের রান্না করা শুক্তো, মাছের ঝাল আর বড়ির টক খায় নি, চোখ ভর্তি হয়ে আসে জলে।

 মা মুখে বলেছিল বটে, মাঝে মাঝে দেখতে আসবে বন্যাকে, কিন্তু পাঁচবাড়ির কাজ করে আর দুরন্ত ভাই দুটোকে সামলে মোটেই সময় পায় না। এদিকে ম্যাডাম বলেছেন সামনের বছর বোর্ডের পরীক্ষায় পাশ করতেই হবে। নইলে ম্যাডামের সঙ্গে থেকে কাজকর্ম শিখতে পারবে না। অনেক কিছু শিখে নিয়েছে বন্যা—থ্যাঙ্ক ইউ, ওয়েলকাম, সরি, কন্ডিশনার, ময়শ্চারাইজার, পুডিং, স্যুপ। তবে আরো অনেক কিছু শিখতে বাকি।   

আয়নার সামনে দাঁড়ালে নিজেকে কেমন অচেনা লাগে বন্যার আজকাল। এত চকচকে চুল আর ঝকঝকে চামড়া ছিল নাকি আগে? আসলে ম্যাডাম কতো দামী দামী জিনিস কিনে দেন, তাতেই তো এত জৌলুষ। না, ম্যাডামের ধারে কাছে তো বন্যা কোনোদিনই আসতে পারবে না। অত সুন্দর মাখন রঙা রেশমী ত্বক, নিঁখুত সুন্দর মুখ, সিল্কের মতো এক ঢাল নরম কালো চুল-সে সব যেন ধরা ছোঁয়ার বাইরে! কিন্তু দোয়েল ম্যাডামের দেওয়া পোশাক আর গয়নায় সেজে বন্যাকেও বেশ দেখায়-অন্তত দেওয়াল জোড়া বিরাট আয়নাটা সেকথাই বলে।  

একদিন ম্যাডামের ফিরতে অনেক রাত হয়ে গেল। বাড়ি ফিরে দোয়েল দেখলেন বাচ্চা মেয়েটা রাতের খাবার সাজিয়ে রেখেছে টেবিলে-নিজেও না খেয়ে অপেক্ষা করছে। মনটা ভিজে গেল একদম। শেষবার মা এইরকম যত্ন করে টেবিল সাজিয়েছিলেন জন্মদিনে। তার পরেই সেই সেখানে চলে  গেলেন যেখান থেকে কেউ কখনো ফেরে না। সিংগল মাদারের কাছে বেড়ে ওঠা দোয়েল বন্যার মধ্যে কি নিজের বিপন্ন কৈশোর দেখতে পেয়েছিলেন?

বন্যাকে কাছে ডেকে দোয়েল বললেন, “প্রায় দেড় বছর হয়ে গেল এসেছিস এখানে, কোন অসুবিধা হচ্ছে না তো? স্কুল থেকে ফিরে একা একা থাকিস, কষ্ট হয় না রে?”

না দিদি...ইয়ে ম্যাডাম সেখানে তো ইস্কুলে যেতে পারতাম না গো রোজ। মায়ের সঙ্গে কাজ করতে যেতাম যে। এখানে আমার অনেক বন্ধু হয়েছে-সবাই তোমার কথা জিগায় তো”।

দোয়েল একটু হেসে বললেন, “ আবার! জিগায়? আর তোর ইচ্ছা হলে না হয় দিদিই বলিস। ম্যাডাম বাইরের লোকজনের সামনে বলবি। তা হলে তোর অসুবিধা নেই তো কিছু?”

এবার চুপচাপ নখ খুঁটতে শুরু করে বন্যা। “অ্যাই বন্যা! বল না”।

দিদি আমার না আসলে খেতে খুব কষ্ট হয়। খুব ইচ্ছা করে ওখানে যেমন খেতাম-আলুপোস্ত, টকের ডাল আর পুঁটিমাছের চচ্চড়ি খেতে”। দোয়েল খানিকক্ষণ চুপ করে থেকে হেসেই ফেললেন। মেয়েটার অকপট সারল্য তার মনের বাদ্যযন্ত্রে সঠিক ঝঙ্কারে বেজে উঠেছে। “তুই রান্না করতে পারিস?

হ্যাঁ, আমার খুব ভালো লাগে তো রান্না করতে”।

বন্যার মুখের অভিব্যক্তি দেখে দোয়েল বললেন, “তবে কাল আমি আর তুই বাজারে যাবো, তোকে সব চিনিয়ে দেবো। পরের দিন থেকে ড্রাইভারের সঙ্গে তুই যাবি। ইচ্ছা মতো বাজার করবি আর নিজের জন্য রান্না-কি রে, এবার খুশি তো?” অপ্রত্যাশিত এই প্রাপ্তিতে বন্যার চোখ ছলছলিয়ে ওঠে।

 পরের দিন বাজারে গিয়ে কিছু শাক-সবজি আর ফল কিনে দুজনে গেল মাছের বাজারে। মাছের বাজারে শোরগোল পড়ে গেল দোয়েলের এই অপ্রত্যাশিত আগমনে। ভেটকি, ইলিশ, রুই-কাতলার ভীড়েও বন্যা খুঁজে খুঁজে কিনলো মৌরলা আর পুঁটি মাছ। বাড়ি ফিরেই বন্যা খুশিভরা মুখে ছুটলো রান্না ঘরে। দুপুরে খাওয়ার সময়ে বন্যা খুব ভয়ে ভয়ে বললো, “দিদি! একটু পুঁটি মাছের চচ্চড়ি খাবে গরম ভাত দিয়ে?” দোয়েলের মুখে প্রশ্রয়ের হাসি দেখে খুব যত্ন করে একটা সাদা প্লেটে ভাত আর চচ্চড়ি দিল বেড়ে। মুখে দিয়েই একটা অপ্রত্যাশিত চমক লাগলো দোয়েলের—বহুদিন আগে খাওয়া মায়ের হাতের রান্নার স্বাদ পেলেন মুখে। “বা! দারুণ হয়েছে তো! এবার থেকে দুপুরে বাড়িতে খেলে অল্প করে তোর রান্নাই খাবো। তার জন্য দু ঘণ্টা বেশি জিম করতে হয় তো সেও ভি আচ্ছা”।

বন্যার আলোভরা গর্বিত মুখটা দেখে দোয়েলের বুকের ফাঁকা জায়গাটা ভরে উঠছিল আস্তে আস্তে। মুখের স্বাদ যেন মন জুড়ে ছড়িয়ে পড়ছিল। মা-বাবার বিফল দাম্পত্য কোনোদিনই তাকে সংসার করায় উৎসাহ যোগায় নি, একাই ছিলেন তাই। কোথা থেকে মেয়েটা এসে বন্যার মতোই তার বুকের শুকনো খাতটাকে মায়া-জলে ভরিয়ে দিয়েছে।

দোয়েলের জন্মদিনে খুব ছোট্ট একটা ঘরোয়া পার্টিতে ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের ডেকে বন্যার হাতের রান্না খাইয়ে অবাক করে দিলেন দোয়েল। সবার মুখে প্রশংসা শুনে বন্যার খুশি আর ধরে না। সময় এগিয়ে চলে। এখন বন্যা উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে হোটেল ম্যানেজমেন্ট পড়ছে। দোয়েল বর্মণ ধীরে ধীরে অভিনয় কমিয়ে পরিচালনার কাজে আসছেন। দুজনেরই ইচ্ছা পাশ করে বন্যা একটা রেস্তোরাঁ খুলবে। নাম হবে ‘স্বাদ’।

মা আর ভাইদের নিয়ে আসবে নিজের কাছে। বন্যা ভাবে, ভাই দুটো ভালোভাবে লেখাপড়া শেখার সুযোগ পাবে। আর মা নানা রকম ভুলে যাওয়া পুরোনো দেশী রান্নার সন্ধান দিতে পারবে বেশ।

এতদিন ওরা অনেক কষ্ট করেছে। এবার নাহয় একটু খুশির মুখ দেখুক, সসম্মানে বাঁচুক ওরা।  তৃপ্তির নিশ্বাস ফেলে ভাবেন দোয়েল।  আর এই আনন্দের আস্বাদও বন্যার রান্নার থেকে নেহাত কম নয়


Download ALEEK PATA Mobile APP
DOWNLOAD ALEEK PATA ANDROID APP


| Aleekpatamagazine.blogspot.com |
  |ALEEK PATA- Your Expressive World |Online Magazine |
| Editor: Swarup Chakraborty | Publisher: Debasree Chakraborty |
| Special Puja Issue, 2020 | October-November 2020 | শারদ সংখ্যা -১৪২৭।
| Fourth Year Third Issue |24 th Edition|
|© All Rights Reserved By The Editor and The Publisher |
|a DISHA-The Dreamer Initiative |
পড়া শেষ? পত্রিকা বন্ধ করুন


শিশির পর্ব- অণুগল্প মালায় শারদ অর্ঘ্য- জ্যোতিকা পোদ্দার

 

অণুগল্প মালায় শারদ অর্ঘ্য

জ্যোতিকা পোদ্দার

 

অণুগল্প ১

পুজোর উপহার

 

স্বামী স্ত্রীর ছোট্ট সংসার বেশ চলছিল। কিন্তু হঠাৎ করে কারখানাটা লক আউট হয়ে গিয়েই গন্ডগোল শুরু হয়ে গেল।        কিভাবে সংসার চলবে!

     শেষ পর্যন্ত লোকাল ট্রেনে হরেক রকম মাল ফেরি করা শুরু করল স্বামী, আর বউটিও শুরু করল শাড়িতে ফলস বসানোর কাজ। টুকটুক করে চলতে লাগলো সংসার।

     পুজো আসন্ন। বহুকষ্টে স্বামী বউয়ের জন্য কিনলো একটা লাল ছাপা শাড়ি, এক কৌটো সিঁদুর আর আলতা।

 রাতে বাড়ি ফিরে বউয়ের হাতে ঐ ক্ষুদ্র উপহার তুলে দিয়ে বলল- "আলতাটা পরিস বউ, তোর রাঙা চরণ দেখতে আমার বড় ভালো লাগে"। "তোমার যত ঢং"... এই বলে বউ ও কাপড়ের ফলস বসিয়ে যেটুকু টাকা রোজগার করেছিল, সেই টাকায় কেনা একটা সাদামাটা পাঞ্জাবী এগিয়ে দেয় স্বামীর দিকে।।

 

অণুগল্প ২

চক্ষুদয়

 

নিলোফার বানু কে ভালোবেসে বিয়ে করে অনুপম চট্টোপাধ্যায়। শ্বশুরবাড়ি নিলোফার কে সাদরে বধু রূপে বরণ করলেও, নিলোফারের বাবা মেয়েকে ত্যাজ্য করেন।

চট্টোপাধ্যায় বাড়ির ঠাকুরদালানে তৈরি হচ্ছে মায়ের মূর্তি। শান্তিনিকেতন থেকে চিত্রকলা বিদ্যায় পারদর্শী নিলোফার প্রতিদিন বসে মূর্তি নির্মাণ দেখে । মূর্তি নির্মাণ শেষ । এবার রংতুলির পালা। "চক্ষুদান" করে মৃন্ময়ীকে এবার চিন্ময়ী তে রূপান্তরিতা করার পালা। হাত নিশপিশ করে নিলোফারের । পটুয়ার সাথে কথা বলে শ্বশুর মশাই স্বয়ং রং-তুলি তুলে দেন পুত্রবধূর হাতে‌। আপ্লুত নিলোফার।

 শুভলগ্নে দেবী মায়ের "চক্ষুদান" করে নিলোফার সামনে তাকিয়ে দেখে  আম্মি আর আব্বু দাঁড়িয়ে‌। আব্বুর চোখে জল। মেয়েকে বুকে টেনে নিয়ে আব্বু বলেন- "ছোটবেলায় আমিই তোকে শিখিয়ে ছিলাম যে, যিনি ঈশ্বর তিনি আল্লাহ। আর আমি নিজেই কথাটা ভুলে গিয়েছিলাম। আমাকে ক্ষমা করিস মা। দেবী মায়ের "চক্ষু দানের"  সাথে সাথে তুই আমারও চক্ষুদয় ঘটালি।

 

অণু গল্প ৩

চক্ষুদান

মায়ের মূর্তি ক্লাবেরই ঠাকুরদালানে তৈরি হবে,মূর্তি গড়বেন পাড়ার বিখ্যাত মৃৎশিল্পী এবং পটুয়া গণেশ বাবু। এটাই নিয়ম ৩৪ নং কলোনির।

গনেশ বাবু বৃদ্ধ হয়েছেন কিন্তু তিনি চক্ষুদান না করলে সেই মূর্তি যেন ম্রিয়মাণ লাগে। মূর্তি গড়ার সমাপ্ত এবার চক্ষুদানের পালা।

একি..! গণেশবাবুর হাত কাঁপছে... পারছেন না তিনি। মনে মনে বললেন, "মা কেন চোখ মেলতে চাইছো না?”...

আজ তিনদিন হল উমার জ্ঞান ফেরেনি। গণধর্ষিতা হয়ে হাসপাতালে বাঁচার লড়াই করছে সে। বিল্টু কিশোরের দল এই দুষ্কর্মে জড়িত। পুলিশ সব জেনেও তাদের ধরছেনা।  রাজনৈতিক মদতপুষ্ট তারা।

বহু চাপান-উতোরের পর ধরা পরল দুষ্কৃতীরা। জ্ঞান ফিরল উমার। পাড়ায় ফিরল শান্তি।

পটুয়ার তুলির ছোঁয়ায় চোখ মেললেন মা ,সে চোখে বরাভয়ের ভাষা।।

 

অণু গল্প ৪

নতুন জামা

কাজের বাড়ি থেকে  পুজোর বোনাস পেয়ে পারুল হিসেব করে দেখলো স্বামী হারানের অসুখ এর সময় আর নেওয়া টাকা পরিশোধ করে মাত্র ৩০০ টাকা অবশিষ্ট থাকবে।

ওই টাকায় মেয়ে পুতুলের জন্য নতুন জামা কিনতে দোকানে গেল সে। মনে পড়ে গেল পাশের বাড়ির অনাথা কমলার কথা। পুতুলের বয়সী বৃদ্ধা দিদিমার সাথে থাকে। ওর তো কেউ নেই,পুজোতে একটাও নতুন জামা হবে না ওর, ‘আচ্ছা ওকে একটা নতুন জামা দিলে হয় না...!’

কিন্তু টাকা কম। একই রঙের দুটো জামা নিয়ে চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকে পারুল।

অভিজ্ঞ দোকানদার বুঝতে পেরে বলে-"নিয়ে যান দিদি, পরে টাকা দেবেন। বাচ্চারা পুজোয় নতুন জামা পরবে না তা কি হয়!"

পরম মমতায় জামার প্যাকেট বুকে নিয়ে বেরিয়ে আসে পারুল। চারিদিক তখন মায়ের আগমনীর 

আবাহনে মুখরিত।


Download ALEEK PATA Mobile APP
DOWNLOAD ALEEK PATA ANDROID APP


| Aleekpatamagazine.blogspot.com |
  |ALEEK PATA- Your Expressive World |Online Magazine |
| Editor: Swarup Chakraborty | Publisher: Debasree Chakraborty |
| Special Puja Issue, 2020 | October-November 2020 | শারদ সংখ্যা -১৪২৭।
| Fourth Year Third Issue |24 th Edition|
|© All Rights Reserved By The Editor and The Publisher |
|a DISHA-The Dreamer Initiative |
পড়া শেষ? পত্রিকা বন্ধ করুন


Main Menu Bar



অলীকপাতার শারদ সংখ্যা ১৪২৯ প্রকাশিত, পড়তে ক্লিক করুন "Current Issue" ট্যাব টিতে , সবাইকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা

Signature Video



অলীকপাতার সংখ্যা পড়ার জন্য ক্লিক করুন 'Current Issue' Tab এ, পুরাতন সংখ্যা পড়ার জন্য 'লাইব্রেরী' ট্যাব ক্লিক করুন। লেখা পাঠান aleekpata@gmail.com এই ঠিকানায়, অকারণেও প্রশ্ন করতে পারেন responsealeekpata@gmail.com এই ঠিকানায় অথবা আমাদের ফেসবুক গ্রুপে।

অলীক পাতায় লেখা পাঠান