অলীক পাতার অন্যান্য সংখ্যা- পড়তে হলে ক্লিক করুন Library ট্যাব টি



। । "অলীক পাতা শারদ সংখ্যা ১৪৩১ আসছে এই মহালয়াতে। । লেখা পাঠানোর শেষ তারিখ ১৫ ই আগস্ট রাত ১২ টা ।.."বিশদে জানতে ক্লিক করুন " Notice Board ট্যাব টিতে"

Tuesday, October 20, 2020

শিশির পর্ব- অনুগল্প- ভুল ঠিকানা- পারমিতা রাহা হালদার (বিজয়া)

 

ভুল ঠিকানা 
পারমিতা রাহা হালদার (বিজয়া)

 

অনাথ আশ্রম থেকে নিয়ে আসা ছোট্ট শিশুটির আজ নামকরণ ।         

 দেবিকা আর রাজের বিয়ে হয়েছে বারো বছর। চাকরি সূত্রে দুজনকেই বিদেশে যেতে হয়। বিয়ের পর একজন দেশে ফিরলে অন্যজন চলে যায় । আফটার অল চাকরি তো নতুন বিয়ে হয়েছে বলে তো আর অফিস ছাড় দেবে না। এই দিকে দুজনেই অ্যাম্বিশাস নিজেদের কেরিয়ার নিয়ে ।

 কেরিয়ারে মগ্ন দম্পতির সন্তান নিয়ে ভাবার সময় নেই। এদিকে দুবছর যেতেই পরিবারের সদস্য, পাড়া প্রতিবেশীদের টিপ্পনী ,কানাঘুষো কানে আসতে শুরু হলো দেবিকার। সবাই তকমা দিল দেবিকা বন্ধ্যা তাই মা হতে পাচ্ছে না । প্রথমে পাত্তা না দিলেও পরে  ভাবতে বাধ্য করলো সবাই । 

 "রাজ আমাদের এবার সন্তান নেওয়ার কথা সিরিয়াসলি ভাবা দরকার । আমিও আরো পাঁচজন মেয়ের মতো মা হতে চাই "। 

"শোনো দেবিকা মাত্র দুবছর বিয়ে হয়েছে। কাজের চাপে নিজেদের মতো করে সময় কাটাতে পারি নি । এখনি বাচ্চা নিলে বাচ্চার পিছনে সময় চলে যাবে। তাই আরো বছর খানেক যাক, ওসব কথায় কষ্ট পেওনা।" 

 "আমি জানি রাজ, তবু পরিবারের সবাই, পাড়া প্রতিবেশীরা আমাকেই ভুল বুঝছে। তাছাড়া এতো দেরি করলে যদি কোন বিপদ হয় কে সামলাবে?"

 "এতো ভেবো না তো দেবিকা, লোকেদের খেয়ে কাজ নেই তাই পরের সংসারে নাক গলায়। এতো ভাবলে বাঁচতে পারবে না”। দেবিকা নিরুপায় হয়ে চুপ করে যায় ।

চাকরি, ঘোরাঘুরি, ব্যস্ততার মধ্যে  কেটে গেল আরো দুই বছর । সুখী দম্পতি এবার সিরিয়াসলি বাচ্চা নেওয়ার কথা ভাবলো।  কিন্তু বিধাতার অদ্ভুত পরিহাস, কোনোভাবেই দেবিকা মা হতে পারলো না! ডাক্তারের রিপোর্টে স্পষ্ট হলো  দেবিকা  মা হতে পারবে না । অবশেষে বাঁজার তকমা জুটেই গেল কপালে!

 অনেক রকম চেষ্টার মধ্যেই কেটে গেল বারো বছর। কোন উপায়েই আশার আলো জ্বললো না। 

দেবিকা ঠিক করলো অনাথ আশ্রমের থেকেই দত্তক নেবে সন্তান । কিন্তু বাড়িতে সবার আপত্তি

শাশুড়ি বললেন,'নিজের পেটের সন্তানই আপন হয় না এতো কার না কার রক্ত সে কি করে আপন 

হবে?"

রক্তের সম্পর্ক ছাড়া কেউ আপন হতে পারে না এই কথা অস্বীকার করে সমস্ত আইন মেনে দেবিকা অনাথ আশ্রমের থেকে নিয়ে এলো সদ্য ফুটফুটে মেয়ে । 

নামকরণের দিন সবাই মুখ ঘুরিয়ে নিল এমন কি রাজও। শ্বশুরমশাই স্পষ্ট জানালেন, "যেখান থেকে এই মেয়ে এনেছো সেখানেই রেখে এসো না হলে তোমারও এই বাড়িতে জায়গা হবে না "। 

সবার আপত্তি দেখে দেবিকা রাজের কাছে জানতে চাইলো সেকি চায়। রাজও চুপ। দেবিকা সেদিন সবাই কে জানালো দোষ তার মধ্যে নেই দোষ রাজের মধ্যে তাই সে মা হতে পারে নি। এতোদিন চুপ করে সব অপবাদ সহ্য করেছে যাতে রাজের পুরুষত্বে কোন আঘাত না লাগে। এখন চুপ করে অন্যায় কে প্রশয় দেবে না। অনাথ আশ্রম ভুল ঠিকানা নয় ভুল ঠিকানা এই বাড়ি । 

দেবিকা মেয়ে কে বুকে জড়িয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেল শান্তির ঠিকানার খোঁজে ।


Download ALEEK PATA Mobile APP
DOWNLOAD ALEEK PATA ANDROID APP


| Aleekpatamagazine.blogspot.com |
  |ALEEK PATA- Your Expressive World |Online Magazine |
| Editor: Swarup Chakraborty | Publisher: Debasree Chakraborty |
| Special Puja Issue, 2020 | October-November 2020 | শারদ সংখ্যা -১৪২৭।
| Fourth Year Third Issue |24 th Edition|
|© All Rights Reserved By The Editor and The Publisher |
|a DISHA-The Dreamer Initiative |
পড়া শেষ? পত্রিকা বন্ধ করুন




শিশির পর্ব- অনুগল্প-গল্প হলেও সত্যি- কথিকা বসু

 

গল্প হলেও সত্যি
কথিকা বসু


একটা চাপা কান্নার শব্দে, আজ একটু সকাল সকালই ঘুমটা ভেঙে গেল শোভা দেবীর। চোখ খুলে 
দেওয়ালঘড়ির দিকে তাকাতেই দেখলেন, ঘড়ির কাঁটা, সবে পাঁচটার ঘর ছাড়িয়েছে। ঘরে কেউ নেই, এমনকী যে মেয়েটি ওনার চব্বিশ ঘন্টা দেখাশোনা করে, সেও না। প্রথমে একবার ভাবলেন, ডাকেন মেয়েটার নাম ধরে, কিন্তু তারপর মনে হলো, থাক, হয়তো এতো সকালে তার গলার আওয়াজে সকলে বিরক্ত হবে! আর হয়তো কেন, হবেই, কারণ তিনি ভালোভাবে বোঝেন, এ সংসারে এখন তিনি ব্রাত্য, সংসারের বোঝা। কেউ ভুলেও এ ঘরের পথ মাড়ায় না, এমনকী নিজের পেটের ছেলেগুলো পর্যন্ত না। অথচ, যতদিন শরীরে গতি ছিল, কেউ তার সামনে রা অব্দি কাড়তো না। কিন্তু যেদিন থেকে বিছানায় পড়লেন, সব হিসেব  ওলোটপালট হয়ে গেল। এখন যেহেতু আর তিনি কোন কাজেই আসেন না, উপরন্তু তার চিকিৎসা, দেখাশোনার জন্য জলের মতো টাকা খরচা হয়ে যায়, তাই এখন সকলের চক্ষুশূল তিনি, অথচ এই গোটা সংসারটা তারই নিজের হাতে তৈরি। যাদের আপন ভেবেছেন, জন্ম দিয়েছেন, কোলেপিঠে বড় করেছেন, মানুষের মতো মানুষ, না না মানুষ করতে পারেননি। অথচ চেষ্টার তো কোন ত্রুটি রাখেননি, তাহলে কোথায় ফাঁক থেকে গেল, ভাবতে ভাবতে দু ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ে শোভাদেবীর চোখ দিয়ে।

ও ঠাকুমা, তুমি কাঁদছে, হঠাৎ কাজের মেয়েটার গলার শব্দে সম্বিত ফেরে শোভাদেবীর। না তো রে

চোখে কি যেন একটা পড়েছিল তাই, তাড়াতাড়ি চোখের জল মুছে বলে ওঠেন শোভাদেবী। "ছাড়ো 

ছাড়ো, আমি কি আর বুঝি না। দেখছি তো সবই, সারাদিনে কেউ তোমার ঘরে আসে না, মরলে কি 

বাঁচলে, সেই খবরটুকু অব্দি নেয় না, আসলে বাতিল তো তাই"। ধক করে কথাগুলো বুকে এসে 

লাগে 

শোভা দেবীর, তবু মুখে হাসি রেখে বলেন, "ছাড় বাদ দে ওসব। পাশের বাড়িতে কে কাঁদছিল রে 

সকালে"? "আরে ও বাড়ির বৌটার শ্বশুর মারা গেছে গো, আজ সকালে। আচ্ছা ঠাকুমা একটা কথা 

বলো তো, এই যে এত মৃত্যু ছোট-বড়-সমবয়েসীদের, সহ্য কর কেমন করে? ফোকলা দাঁতে স্ম্লান 

হাসি হেসে শোভাদেবী বলে ওঠেন, "তুই শুধু মৃত্যুটাই দেখলি, আমি যে কত লোককে জন্মাতেও 

দেখলাম মেয়ে"।

Download ALEEK PATA Mobile APP
DOWNLOAD ALEEK PATA ANDROID APP


| Aleekpatamagazine.blogspot.com |
  |ALEEK PATA- Your Expressive World |Online Magazine |
| Editor: Swarup Chakraborty | Publisher: Debasree Chakraborty |
| Special Puja Issue, 2020 | October-November 2020 | শারদ সংখ্যা -১৪২৭।
| Fourth Year Third Issue |24 th Edition|
|© All Rights Reserved By The Editor and The Publisher |
|a DISHA-The Dreamer Initiative |
পড়া শেষ? পত্রিকা বন্ধ করুন




শিশির পর্ব- অনুগল্প-সুন্দরী অ্যাডেনিয়ামের খোঁজে- সম্পা দত্ত দে

 

সুন্দরী অ্যাডেনিয়ামের খোঁজে

সম্পা দত্ত দে






"তুমি একদিন শিউলি গন্ধ হয়ে, আমার মনে শরৎ ঢেলে দিও" আমি তোমার শিউলি শরৎ হয়ে ফুটব।

অপূর্ব সুন্দর কথায় দুটো লাইন। এবার শরৎ এসেও আসছে না। আকাশের মুখ ভার। ভাদ্রের কড়া রোদ শিউলির গন্ধ, কাশফুলের ঢল , মায়ের মর্ত্যে আসা সবকিছুই মন কেমন করা। করোনা ভাইরাসের কারণে কিছু ভালো লাগেনা সুমি'র। প্রতিদিনের মতো আজও সুমি অভ্যাস মত সুপ্রভাত জানাতে-

সকালে মোবাইল খুলে সবাই কে সুপ্রভাত জানাল।  "গাছের কথা" গ্ৰুপের সাথে যুক্ত হবার পর থেকে মনটাই ভালো হয়ে যায় সুন্দর সুন্দর ফুলের গাছ দেখে। প্রতিদিন নতুন নতুন ফুল গাছ গুলো দেখে ভীষন ভালো লাগে সুমি'র। গ্ৰুপে একটা ডাবল পাপড়ি'র অ্যাডেনিয়াম গাছ ফুল ফুটে ভরে আছে দেখে ওর ও মনে মনে ইচ্ছে হল বাড়িতে একটা অ্যাডেনিয়াম আনবে। লকডাউনের সময় কলকাতায় ছিল সুমির মেজ'জা ছেলের কাছে । মেজ'জা কে হোয়্যাট'সঅ্যাপে  অ্যাডেনিয়াম ফুলের ছবি দেখিয়ে বলেছিলো,

-দেখো দিদি এই ফুল গুলো কি সুন্দর তাইনা?

-হ্যাঁ গো ভীষণ সুন্দর।

অপর প্রান্ত থেকে মেসেজ এল।

রান্না করতে করতে বুকের ভেতর মোচড় দিয়ে উঠলো মনে মনে ভাবতে লাগল অনেক কিছু। গতকাল সারা রাত ধরে বৃষ্টি পড়ছিল। অ্যডেনিয়াম মানে মরুগোলাপের ডালটা ঠিকঠাক আছে তো। মেজ'জা শুভ্রা আর মেজদি সাথি (ননাস) দুজনে কলকাতা থেকে অ্যাডেনিয়ামের একটা ছোট্ট ডাল এনেছিল। বৃষ্টির জন্য দশ পনেরো দিন দোতলায় ছাদের কার্নিশে ছিল। গতকাল টব নিয়ে উপর  ছাদে রেখে এসেছে সুমি একটু রোদ হাওয়া গাছে লাগানোর জন্য। গাছের স্বাস্থ্যের উপকারের জন্য।

রান্নাঘরে কাজে দিদি কে সাহায্য করে জামা কাপড় নিয়ে ছাদে শুকোতে দিয়ে রোজ ফুল গাছগুলো একবার দেখা অভ্যাস সুমি'র। শরৎ এসে গেল তবু শিউলি গাছের কুঁড়ির দেখা নেই। একগুচ্ছ কাশ টবে লাগানো সেখানে ও ফুল ফোটে নি। রেইন লিলি গুলো বৃষ্টির জলে হেলে পড়েছে। ঝাউগাছ দুটো কি সুন্দর হয়েছে।সব ডালের মাথায় ফুল এসেছে। সব দেখে সুমি'র চোখ অ্যাডেনিয়ামের টবে পড়তেই বুকের ভেতরটা খালি হয়ে গেল। অ্যাডেনিয়ামের ডালটি নেই খালি টব পড়ে আছে। সুমি'র মন খারাপে কেঁদে ফেলল। এক অপরাধ বোধ চেপে ধরল। সুমির নিজেকে অপরাধী মনে হচ্ছিল। ও নিজেই উপরের ছাদে রেখে এসেছে।না নিলেই ভালো হতো। কি সুন্দর কচি কচি পাতা গজিয়েছিল। নিজেকে সংযত রাখতে পারলনা সুমি। ছাদ থেকে ঊর্ধ্বশ্বাসে  দৌড়ে নীচে নেমে দিদি'কে বলল,

-দিদি তোমার আনা অ্যাডেনিয়ামের ডালটা নেই।

-ওমা সেকি কথা, এতোদূর থেকে নিয়ে এলাম কি হল? কে বা নিয়ে গেল?

-ছাদে বড় বানরটা মনে তুলে নিয়ে গেছে।

-বানর কেন নেবে? ছাদে বানর আসে তাই মা কিছু হারিয়ে যায় দোষটা তার ঘাড়েই চাপে। মনটাই খারাপ হয়ে গেল সুমির।

সুমি সহ বাড়ির সবাই খুঁজে চলছে রোজ। বাড়ির কোণ,ছাদের কার্ণিশ, চারপাশে। ছাদে পাখি, কাক, বানরের উৎপাত লেগেই আছে। ফুলের কুঁড়ি আসতেই পাখি ঠুকরে ছিঁড়ে দেয়। এসব দেখে ভীষন মন খারাপ হয়ে যায় সুমি'র।



 কাকতালীয় ভাবে পরদিন সকালে সুপ্রভাত জানাল সমাপ্তি দিদিয়া। কলকাতায় যোধপুর পার্কে থাকে। খুব সুন্দর আবৃত্তি করেন তিনি। দিদিয়া অ্যাডেনিয়াম ফুলের সাথে দিদিয়ার নাতনির ছবি দিয়ে সেদিন সুপ্রভাত জানাল। সুমি'র মনটা খুশিতে ভরে উঠল। এত সুন্দর একটা ছবি দেখে। খুব মিষ্টি দেখতে নাতনী। নাম সানভী, যেমন মিষ্টি দেখতে তেমনি মিষ্টি মিষ্টি কথা। সবাইকে মাতিয়ে রাখে সানভী ওর ঠাম্মিকে তো নাম ধরেই তারা বলে ডাকে, কত শাসন বারণ আদর আব্দার সব নিয়ে মাতামাতি রোজদিন ।  দিদিভাই ও সুমিকে খুব আদর করে ভালবাসে সুপ্রভাত, শুভরাত্রি জানায় রোজ নিয়ম ক'রে। দিনে একবার ফোন করা চাই ওদের দুজনের। ছবিটি পেয়ে  আনন্দিত হয় সুমি। একটু হলেও হারিয়ে যাওয়া অ্যাডেনিয়াম ডালের শোক ভুলে যায়।

মন খারাপ নিয়ে পাওয়ার আশায় ছাদে উঠে  রোজদিন খুঁজে চলে চারদিকে। সুমির মন খারাপ তবুও পিছু ছাড়ে না। 

তৃতীয় দিনের দিন সব গাছ দেখে খুঁজে নেমে আসে নীচে। হঠাৎ মেজদা মানে ভাসুর বলেন, ‘পাওয়া গেছে পাওয়া গেছে’। সুমি আনন্দে ছাদে ওঠে,

-কোথায় পেলেন মেজদা

-ঐ পশ্চিম দিকের ছাদের কার্নিশের নীচে পড়ে আছে।

-এখনো বেঁচে আছে দেখছি।

-টবে পুঁতে দি, হবে কচি পাতা দেখা যাচ্ছে।

সুমি পশ্চিম দিকে ছাদের কার্ণিশে তাকিয়ে দেখল কতগুলো কাক কা কা করছে। উঁচু আমগাছের মগডালে বাসা বাঁধছে আর খড়কূটো জোগাড় করছে। অ্যাডেনিয়ামের ডালটার পাতা ঝরে পড়ছিল। দেখতে শুকনো ডালের মত লাগছিল বলেই হয়ত বাসা বাঁধার জন্য তুলে নিয়ে গেছিল। বাসা পর্যন্ত নিতে হয়তো আর পারেনি তার আগেই পড়ে গেছিল। 

শেষ পর্যন্ত ডালটি আর বাঁচেনি। মরে পচে গেছে। 

কোলকাতা থেকে মেজদি আবার পাঠিয়ে দিয়েছে আমাদের ভাসুরপোর কাছে। ডালটি এখন বহাল তবিয়তে আছে। কাক আর নিতে পারেনি। সুমির কাঙ্খিত মন এখন ও রোজ খুঁজে চলে ফুলে ভরা সাজানো একটা সুন্দর অ্যাডেনিয়াম গাছ।

 

সম্পা দত্ত-দে'র গল্পের সঙ্গের ছবিঋণ সমাপ্তি রায়

Download ALEEK PATA Mobile APP

DOWNLOAD ALEEK PATA ANDROID APP


| Aleekpatamagazine.blogspot.com |
  |ALEEK PATA- Your Expressive World |Online Magazine |
| Editor: Swarup Chakraborty | Publisher: Debasree Chakraborty |
| Special Puja Issue, 2020 | October-November 2020 | শারদ সংখ্যা -১৪২৭।
| Fourth Year Third Issue |24 th Edition|
|© All Rights Reserved By The Editor and The Publisher |
|a DISHA-The Dreamer Initiative |
পড়া শেষ? পত্রিকা বন্ধ করুন


শিশির পর্ব- কবিতা-বন্দীজীবনের ইতিবৃত্ত সুদীপা মন্ডল

 

বন্দীজীবনের  ইতিবৃত্ত
সুদীপা মন্ডল



 

জীবন এক বয়ে চলা নদী 

আছে ভাঙা, আছে গড়া 

সুখ-দুঃখ মিঠেকড়া নিরবধি। 

অবিরত চলা, আসুক যতই বাঁধা 

থাকে উজ্বল,সদা উন্মুখ ভালোবাসার প্রতি। 

তবু মাঝে মাঝে জীবন জুড়ে ওঠে ঝড়, 

এলোমেলো করে সাজানো,গোছানো ঘর 

বন্দী মন,বদ্ধ ঘরেই চলায় তার আবর্তন। 

ঝড়ের দাপটে ভেঙে যায় কিছু সজীব স্বপ্ন

অসহায় জীবন বয়ে নিয়ে চলে এক অন্য গল্প। 

বন্দী জীবন কেড়ে নেয় রুজি, অদৃশ্য হয় রুটি 

পরিয়ায়ী জীবন নামে পথে, নতুন সংগ্রামে। 

জঠরে ক্ষুধার জ্বালা,মনে হতাশা 

বাড়ায় পা এক অজানা পথে। 

আসে মৃত্যু, হয় জন্ম পথকে ঘিরে

লেখা হয় নতুন জীবনের ইতিবৃত্ত। 

আর, আছে যারা ঘরে বন্দী, 

নিজেকে বাঁচাতে রচে নানান ফন্দী 

জেগে ওঠে কিছু পুরোনো স্মৃতি, 

তোমার -আমার মাঝের কিছু প্রেম-প্রীতি। 

কিছু সম্পর্ক পায় নতুন বুনন,

 কিছুর হয় আত্মহনন, 

চলছে রংবদলের অভিনব খেলা 

বদ্ধ ঘরে সারাদিন, সারাবেলা।

  তবু বাঁধি হাজারো আশা 

বন্দী জীবনকে ঘিরে নতুন ভরসা 

আগামীতে কাটবেই এই অমানিশা। 

জীবন দেখাবেই তোমাকে,আমাকে 

এক নতুন পথের দিশা।


Download ALEEK PATA Mobile APP
DOWNLOAD ALEEK PATA ANDROID APP


| Aleekpatamagazine.blogspot.com |
  |ALEEK PATA- Your Expressive World |Online Magazine |
| Editor: Swarup Chakraborty | Publisher: Debasree Chakraborty |
| Special Puja Issue, 2020 | October-November 2020 | শারদ সংখ্যা -১৪২৭।
| Fourth Year Third Issue |24 th Edition|
|© All Rights Reserved By The Editor and The Publisher |
|a DISHA-The Dreamer Initiative |
পড়া শেষ? পত্রিকা বন্ধ করুন



শিউলি পর্ব- কবিতা- ইথারে খুশি - অর্পিতা ঘোষ

 

ইথারে খুশি
অর্পিতা ঘোষ


বাতিস্তম্ভ টিমটিম জ্বলে

চাঁদের আলো পশমিনা মেঘের আড়ালে,

টোল খাওয়া জীবন টালমাটাল,

নোনা ব্যথা নাড়ে বুক শুনশান রাতে।

ঝাঁপি খোলে হিতৈষী হাসনুহানা,

আঁধার রাতে ডুব সাঁতরে খোলে আগল

গাঢ় প্রলেপ আঁকে ঝাঁঝালো মেদুরতায়

ইথারে টুকরো খুশির কোলাজ আসে

কুড়িয়ে নিয়ে ঝোলায় ভর্তি করি


Download ALEEK PATA Mobile APP
DOWNLOAD ALEEK PATA ANDROID APP


| Aleekpatamagazine.blogspot.com |
  |ALEEK PATA- Your Expressive World |Online Magazine |
| Editor: Swarup Chakraborty | Publisher: Debasree Chakraborty |
| Special Puja Issue, 2020 | October-November 2020 | শারদ সংখ্যা -১৪২৭।
| Fourth Year Third Issue |24 th Edition|
|© All Rights Reserved By The Editor and The Publisher |
|a DISHA-The Dreamer Initiative |
পড়া শেষ? পত্রিকা বন্ধ করুন


শিউলি পর্ব- কবিতা- শারদীয়া শুভেন্দু পাকড়ে

 

শারদীয়া
শুভেন্দু পাকড়ে

 

আজি শারদ প্রভাতে

ফুটিছে কুমুদ নবীন সাজে

উঠিছে রবি ঢালিছে কিরণ

গাহিছে বিহগ মধুর কূজন।

দীঘির ঘাটে উঠলো মেতে

পঙ্কজেরা নবীন সাজে।

দূর্বারা সব প্রভাত কালে

মুক্ত মালা পরেছে গলে।

এই ধরণী শ্যামল হলো

মেঘেরা সব শান্ত হলো

নদীর চরে কাশের মেলা

পবন দোলায় করছে খেলা।

মা আসছে দোলায় চড়ে

আনন্দরেই জোয়ার ভরে

Download ALEEK PATA Mobile APP
DOWNLOAD ALEEK PATA ANDROID APP


| Aleekpatamagazine.blogspot.com |
  |ALEEK PATA- Your Expressive World |Online Magazine |
| Editor: Swarup Chakraborty | Publisher: Debasree Chakraborty |
| Special Puja Issue, 2020 | October-November 2020 | শারদ সংখ্যা -১৪২৭।
| Fourth Year Third Issue |24 th Edition|
|© All Rights Reserved By The Editor and The Publisher |
|a DISHA-The Dreamer Initiative |
পড়া শেষ? পত্রিকা বন্ধ করুন


শিউলি পর্ব- কবিতা- পান্ডুলিপি জয়ীতা চ্যাটার্জী

 

পান্ডুলিপি
জয়ীতা চ্যাটার্জী

 

তুমি কি জানো 

আমার সমস্ত কবিতা তোমাকে উদ্দেশ্যে করে। 

যদি ঝরে যাই হেমন্তের ঝড়ে

পথের পাতার মতো তুমি থাকবে

থাকবে আমার বুকের ওপরে। 

তুমি ঘুমে ভরবে  আমার মন

ক্ষয়ে যাবে তোমার জীবনের ধার সমস্ত তখন। 

আমার বুকের ওপর জমবে ধীরে ধীরে 

তুমি নামের শিশির জল, 

শান্তি পাবে কি? পাবে কি জীবনের স্বাদ? 

আমি ঝরে যাই যদি হয়ে শতদল। 

তবু তো জীবন অগাধ 

তোমাকে রাখবে পৃথিবীর পরে

আমি বলে যাব আমার কবিতা

 তোমাকে উদ্দেশ্যে করে। 

আমি থেকে যাব মাঠে ঘাটে সবুজ ঘাসে

তুমি নীল হয়ে আকাশে আকাশে

বুকের ক্ষেতে ফলিয়ে যাব জীবনের রঙ, 

সে এক বিস্ময় ভরে তোমাকে ছুঁয়ে কবিতার সন। 

পৃথিবীতে নেই তুমি না আছে কবিতার স্থল,

চেনেনি তোমাকে আজও কবিতার জল। 

তোমাকে আমি পাইনি মানষী মনে বা মানুষের তরে

বেঁচে থাকো হৃদয়ের স্বর্ণ গহ্বরে। 

নক্ষত্রের চেয়ে স্তব্ধ এক নিঃশব্দ আসনে, 

তুমি জেনে যেও তুমি আছ কোনও এক মনিষীর মনে।


Download ALEEK PATA Mobile APP
DOWNLOAD ALEEK PATA ANDROID APP


| Aleekpatamagazine.blogspot.com |
  |ALEEK PATA- Your Expressive World |Online Magazine |
| Editor: Swarup Chakraborty | Publisher: Debasree Chakraborty |
| Special Puja Issue, 2020 | October-November 2020 | শারদ সংখ্যা -১৪২৭।
| Fourth Year Third Issue |24 th Edition|
|© All Rights Reserved By The Editor and The Publisher |
|a DISHA-The Dreamer Initiative |
পড়া শেষ? পত্রিকা বন্ধ করুন


Main Menu Bar



অলীকপাতার শারদ সংখ্যা ১৪২৯ প্রকাশিত, পড়তে ক্লিক করুন "Current Issue" ট্যাব টিতে , সবাইকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা

Signature Video



অলীকপাতার সংখ্যা পড়ার জন্য ক্লিক করুন 'Current Issue' Tab এ, পুরাতন সংখ্যা পড়ার জন্য 'লাইব্রেরী' ট্যাব ক্লিক করুন। লেখা পাঠান aleekpata@gmail.com এই ঠিকানায়, অকারণেও প্রশ্ন করতে পারেন responsealeekpata@gmail.com এই ঠিকানায় অথবা আমাদের ফেসবুক গ্রুপে।

অলীক পাতায় লেখা পাঠান