অলীক পাতার অন্যান্য সংখ্যা- পড়তে হলে ক্লিক করুন Library ট্যাব টি



। । "অলীক পাতা শারদ সংখ্যা ১৪৩১ আসছে এই মহালয়াতে। । লেখা পাঠানোর শেষ তারিখ ১৫ ই আগস্ট রাত ১২ টা ।.."বিশদে জানতে ক্লিক করুন " Notice Board ট্যাব টিতে"

Wednesday, February 19, 2020

গল্প-অলৌকিক?-শ্রাবণী গুপ্ত সরকার


অলৌকিক?

শ্রাবণী গুপ্ত সরকার


Image Courtesy: Google Image Gallery



    উৎসব আর তিস্তা এই মাস দুয়েক আগে বিয়ে করেছে। হ্যাঁ করেছে নিজেরাই নিজেদের পছন্দে। তিস্তা সল্টলেকে একটা বুটিকে কাজ করে আর উৎসব সেক্টর ফাইভে। সহকর্মীর জন্মদিনে একটা বুটিকের পাঞ্জাবি গিফট করবে ভেবে উৎসব এসেছিল। রেখে গেল মনটাকে। মোটামুটি বছর দুয়েক কোর্টশিপ চালিয়ে ওরা বিয়ে করল।

    বুটিকে কাজ করে মানে তিস্তা কিন্তু সেলসগার্ল নয়, ও ডিজাইনার। ফ্যাশন ডিজাইনিং করে এই বিশিষ্ট ও আলোচিত বুটিকে যোগ দিয়েছে। ওর চেহারা, পোশাক সব মিলিয়ে খুব ঝকঝকে আর রুচিসম্মত। আর উৎসব বেশ সুদর্শন সফট ওয়ার ইঞ্জিনীয়ার। কোন অসুবিধাই নেই, দিব্যি গড়গড়িয়ে চলছে সংসার গাড়ি। কেবল ছুটির অভাব দুজনেরই। এমনই কাজের চাপ যে, বিয়ের দুমাসে মধ্যে মধুচন্দ্রিমায় যাওয়ার সুযোগও হলো না নবদম্পতির। 

    উৎসবের গোটা পাঁচেক ছুটি জমে ছিল তার সঙ্গে আরো কিছুদিন জুড়ে তিস্তা বুটিকের কাজ সামলে ছুটি আদায় করে তবে একটু বেড়ানোর ব্যবস্থা হল—মাইশোর আর উটি।

    খুব খুব আনন্দে ওদের যাত্রা শুরু। নতুন বিয়ের রোমান্টিকতা আর কাজের ফাঁকে ছুটির অনাবিল ছেলেমানুষী ছেয়ে ছিল উৎসব আর তিস্তার মন।

    মাইশোর প্যালেস দেখে ওরা যখন মুগ্ধ তখনই শুনলো আগামীকাল রবিবার সন্ধ্যায় সমস্ত প্যালেস আলোকসজ্জায় সজ্জিত হবে। এটাই নাকি রীতি। সব সরকারী ছুটির দিনে সেজে ওঠে মাইশোর প্যালেস। কাজেই সারাদিন ওরা ঘোরাঘুরি করল। তিস্তা এরই মধ্যে টুকটাক শপিং করছে। কোনোটা নিজেদের ঘরে রাখবে বলে, কতগুলো আবার উপহার দেবে বলে। এরই মধ্যে দোকান থেকে অসাধারণ একটা শাড়ি কিনে ফেললো উৎসব তিস্তার জন্য। ডিজাইনার তিস্তা বেশ কিছু ড্রেস মেটেরিয়াল কিনে ফেলেছে ওর বুটিকের কাজে লাগবে বলে। আর চন্দন পারফিউম, সাবান, ধূপকাঠি, ছোটখাটো চন্দন কাঠের মূর্তি – এইসব সওদা করে ক্লান্ত হয়ে হোটেলে ফিরে একটু ফ্রেশ হয়েই ছুটল প্যালেসের দিকে।

    কি অসামান্য লাগে এক নিমেষে যখন সমস্ত প্রাসাদটা আলোকমালায় সেজে ওঠে! মুগ্ধ হয়ে দেখে প্রচুর ছবি তুলে ওরা ফেরত এল হোটেলের আশ্রয়ে। খাওয়া-দাওয়া সেরে সব গুছিয়ে নিল তিস্তা আর উৎসব। কাল সকালে ওরা উটি রওনা দেবে। নাঃ দাম্পত্য খুনশুটি নয়, গভীর ঘুমে তলিয়ে গেল দুজনেই।

    উটি যাওয়ার পথটা অসাধারণ সুন্দর। মুদুমালাই অরণ্যের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় অজস্র পাখি, হরিণ আর দূর থেকে হাতি দেখে মন ভরে গেল ওদের। তারপর ঠান্ডা ঠান্ডা সুন্দর হিল স্টেশন উটি। এখানে ওরা তিনদিন থাকবে। লেকের কাছেই হোটেল। পৌঁছে স্নান খাওয়া সেরেই তিস্তারা বেড়িয়ে পড়লো লেকে বোটিং করার আনন্দ নিতে। বিকেল আর সন্ধ্যায় একটু ঘোরাঘুরি। কখনো হোমমেড চকোলেট টেস্ট করে কেনা, কখনো মশলা পাতির দরদাম করা, কখনো বা এসেন্সিয়াল অয়েল নিয়ে নাড়াচড়া। পরের দিন লোকাল সাইট সিয়িং-র গাড়ি ঠিক করে, সরকারী বিভাগ থেকে কিছু বুকলেট সংগ্রহ করে ওরা ফিরলো সাময়িক আবাসস্থলে।

    খাওয়া দাওয়া সেরে একটু ঘনিষ্ঠ হলো ওরা। তারপরেই হঠাৎ মনে হলো বুকলেটগুলো একটু দেখে নিলে হয় না? কোথায় কোথায় কাল যাবে? কাগজপত্রে চোখ বোলাতে বোলাতেই উৎসব জিজ্ঞাসা করল “তিস্তা! তোমার ভূতের ভয় আছে নাকি?” হেসেই ফেলল তিস্তা এমন বিদঘুটে প্রশ্নে।

কেন? ভূত আছে নাকি হোটেলে?” 

নাঃ!মানে কাল যে সব স্পটগুলো দেখবো তার মধ্যে একটা সুইসাইড পয়েন্ট আছে তো। আমার মিষ্টি বউটাকে যদি কোন বিদেহী আত্মা পছন্দ করে ফেলে?” 

দূর! সব পাহাড়ি জায়গায় অমন একটা করে সুইসাইড পয়েন্ট থাকে। খালি বাজে কথা! এবার ঘুমোও তো। কাল সকালেই আবার বেরোবো”।

    পরদিন সকালে সুন্দর সাজুগুজু করে উৎসব আর তিস্তা মহা উৎসাহে চললো বেড়াতে।  বোটানিক্যাল গার্ডেনটা তো অতুলনীয়। যেমন সবুজ মখমলের মতো ঘাসে ঢাকা লন, তেমনই ফুল আর অর্কিডের বাহার।

    রোজ গার্ডেনে গোলাপের বৈচিত্র্যে চোখ জুড়িয়ে গেল। চা আর কফি ক্ষেত দেখতেও বেশ লাগলো ওদের। আর ভিউ পয়েন্টগুলোর তো তুলনা হয় না। মোবাইল আর ক্যামেরা সমানে ধরে রাখছে সব মুহূর্ত গুলোকে। দুজনেরই খুব আগ্রহ ফটোগ্রাফিতে।

    মাঝখানে লাঞ্চ করেছে একটা রেস্তোরাঁতে। কফিও খেয়েছে। এখানকার কফি খুবই বিখ্যাত। পাল্লা দেয় নীলগিরির চা-ও।

    বিকেলের দিকে একটা পয়েন্টে এল ওরা। নামার সময় ড্রাইভার বললো এটাই সেই সুইসাইড পয়েন্ট। ওরা যেন দুজন সবসময় একসঙ্গে থাকে। মুচকি হেসে ক্যামেরা নিয়ে নেমে পড়ল দুজন। হানিমুনে এসে একসঙ্গেই থাকবে ওরা, বলার কি আছে। ভারী সুন্দর জায়গা। এখানে এসে  আত্মঘাতী হতে ইচ্ছা করে? কে জানে বাবা! একপাশে পাইন, বার্চ, ঝাউয়ের বন অন্যদিকে অতলস্পর্শী খাদ। ওরা এখানেও প্রচুর ছবি তুললো। একা একা ছবি, দুজনের সেলফি। একজন বিদেশী টুরিস্ট তিস্তার অনুরোধে ওদের ক্যামেরায় যুগল চিত্রও তুলে দিলেন কয়েকটি।

    এবার ওরা গাড়ির দিকে রওনা দিল। ড্রাইভার ওদের দেখে খুব নিশ্চিন্ত হলো। উৎসব প্রশ্ন করতেই ড্রাইভার বললো এখানে একা থাকলেই বিপদ। দলে বা দুজনে একসঙ্গে এলে সমস্যা নেই। মৃত আত্মারা একা মানুষ দেখলেই ভুলিয়ে ভালিয়ে খাদের দিকে নিয়ে যায়। আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেয়।

    হাসিতে পেট ফেটে যাচ্ছিল তিস্তার। ভদ্রতার খাতিরে চুপচাপ রইলো। হোটেলে নেমে ড্রাইভারকে টাকা পয়সা মিটিয়ে ওরা চললো ঘরে। সারাদিনের ধকলের পর একটু রেস্ট নিতেই হবে। রুমেই কফি আর স্ন্যাক্স-এর অর্ডার দিয়ে এল উৎসব। খানিকটা বিশ্রাম নিয়ে তিস্তা বলল, “আজ আর বেরোতে ইচ্ছা করছে না। দেখা তো মোটামুটি শেষ। কাল না হয় কাছাকাছি হাঁটার দূরত্বে যা যা আছে দেখে বোটিং করে একটু ছুটিটা উপভোগ করি”। উৎসব সায় দিলো। ও –ও কম ক্লান্ত নয়।

    রাতে বেরিয়ে একটা হোটেলে ডিনার করে ফিরে এলো ওরা। দক্ষিণী খাদ্য দুজনেরই বেশ পছন্দের। দোসা, ইডলি, সম্বর, উত্তাপম, থালি সবই খুব মুখরোচক ওদের কাছে। এবার তিস্তা বসলো ব্যাগ আর সুটকেশ নিয়ে। উৎসব ক্যামেরা নিয়ে। সুন্দর ঝকঝকে সব ছবি ডিজিটাল ক্যামেরায় আর মোবাইলে। শেষের দিকে তিনটে ছবি দেখেই চমকে উঠল উৎসব। এ কি! এরা কারা? দুটো সেলফি আর একটা তিস্তার একার ছবি ঐ পাইন বনে। পোশাক তো হুবহু ওদের মতোই! কিন্তু মুখগুলো এমন অস্বাভাবিক অচেনা লাগছে কেন? ডাকাডাকিতে একটু বিরক্ত উঠে এল তিস্তা। কিন্তু ছবি দেখেই চমকে উঠল নিজেও। ‘এরা কারা যেন আমাদের মুখের উপর অন্য কারো মুখের আদল এসে পড়েছে। কি ভয়ঙ্কর লাগছে দেখতে। কেমন করে হলো?’

    একটু চুপ করে থেকে উৎসব বলল, “দেখো, এসব তো তুমি বা আমি কেউ মানি না। মানে ভূত প্রেত অলৌকিক। জানিনা এর কোনো বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আছে কিনা। কিন্তু এই মুহূর্তে মনে হচ্ছে ওখানে সত্যিই কিছু আছে হয়তো। যাক বাবা, কমের উপর দিয়ে গেছে। তবে একা থাকলে কি হতো ভাবতেই কেমন একটা লাগছে। তাই না?”

    দুজনেই অবাক হলেও একটা গা শিরশিরে ভাব কিন্তু ওদের মধ্যে ঘনিয়ে এলো যেটা থেকে মুক্ত হতে ওদের সময় লাগবে। একটা আচমকা হাড় কাঁপানো হাওয়া যেন ওদের আরো কাছাকাছি নিয়ে এল।

    সারা রাত কেমন যেন অস্বস্তিতে কাটল ওদের। পরের দিন সকালে লেকে জলবিহারের মাঝেও এক আশ্চর্য্য শৈত্য, সংশয় তিস্তার মনে পর্দার মতো দুলতেই লাগল। উৎসবও আর আগের মতো হাসিঠাট্টার মুডে আসতে পারছিলো না। দুজনেই ভাবছিল ব্যাপারটা কি? অথচ কেউই মন খুলে কথাটা বলতে পারছিল না অপরকে। যদি অন্য জন হাসে এটা ভেবে? নাকি অন্য কিছু?



| Aleekpatamagazine.blogspot.in |
  | Editor: Swarup Chakraborty | Publisher: Debasree Chakraborty |
|ALEEK PATA-The Expressive World |Online Magazine |
|a DISHA-The Dreamer Initiative |
| Winter Issue,2010 | January 2020 |
| Third Year Fourth Issue |21st Edition|
|© All Rights Reserved By The Editor and The Publisher |


Back To Index- সূচিপত্র

গল্প-শীতকাতুরে- সুধাংশু চক্রবর্তী


শীতকাতুরে  

সুধাংশু চক্রবর্তী

Image Courtesy: Google Image Gallery


 


- আয় সোনা, ভালো করে তেল মাখিয়ে তোকে চান করিয়ে দিই । শীতকালে বেশী বেলা করতে নেই । তাড়াতাড়ি আয় বাবা  
- ইঁ-হিঁ-হিঁ-হিঁ-...
- অত শীতকাতুরে কেন রে ? ঠিক যেন বাপের স্বভাবটাই পেয়েছিস । জল দেখলেই তোরা দুটিতে যেন জলাতঙ্কের রোগী ! বোস এখানে । বোস বলছি ।
- ইঁ-হিঁ-হিঁ-হিঁ-...

- এ্যায়, চোপ্‌ । সেই থেকে ইঁ-হিঁ-হিঁ-হিঁ । চুপ করে বোস । তেল মাখিয়ে দিলে দেখবি শীত একেবারে ‘ছুঁ’ হয়ে গিয়েছে । বলতে বলতে তৃণা এক খাবলা তেল নিয়ে ছেলের গায়ে হাত বোলতে শুরু করলেন । বল্টু তাতেই কেঁপে উঠলো, ইঁ-হিঁ-হিঁ-হিঁ...

- আবার ইঁ-হিঁ-হিঁ ? তেল গরম না ?

- ইঁ-হিঁ-হিঁ-হিঁ... কিন্তু তোমার হাত যে ঠাণ্ডা মা । ইঁ-হিঁ-হিঁ-হিঁ...

- চুপ করে বোস বাঁদর ছেলে । গরম জল দিয়ে ভালো করে স্নান করিয়ে দেবো । দেখবি আর শীত করছে না ।
  
মাথায় দু’মগ জল ঢালতেই বল্টুর চিলচিৎকারে বাড়ি মাথায় উঠলো, ইঁ-হিঁ-হিঁ-হিঁ... 
তড়াক করে উঠে দৌড়ে পালাতে যেতেই তৃণা খপ্‌ করে হাত ধরে ফেলে বললেন, পালাচ্ছিস কোথায় বাঁদর ? বোস চুপ করে । নইলে তোকে কিন্তু ঠাস্‌-ঠাস্‌-ঠাস্‌ । 

পালানোর উপায় নেই বুঝে বল্টু বেদম ঠাণ্ডায় হাত-পা ছুঁড়তে ছুঁড়তে ইঁ-হিঁ-হিঁ-হিঁ... তাতেই ওর পায়ে লেগে জলের বালতি উলটে যাওয়ায় বালতির বাকী জলটুকু সোজা তৃণার গায়ে । তৃণা অমনি তড়াক করে উঠে দাঁড়ালেন, এ কী করলি বদমাইশ ছেলে ? দিলি তো ভিজিয়ে আমাকে ? মেরে তোর হাড় না গুঁড়িয়ে দিয়েছি তো… উঁ-হুঁ-হুঁ-হুঁ… কী ঠণ্ডা রে বাবা ! উঁ-হুঁ-হুঁ-হুঁ…  

রাত্রে শোবার আগে দিব্যেন্দুকে ডেকে তৃণা বললেন, কাল কাকভোরে গিয়ে বিধুগোয়ালার কাছ থেকে দুধ নিয়ে এসো । ওই দুধ দিয়ে নলেন গুড়ের পায়েস বানিয়ে খাওয়াবো তোমাকে । বিধু আজকাল দুধে খুব জল মেশাচ্ছে । ওই ট্যালট্যালে দুধের পায়েসের কি সেই স্বাদ থাকে ? থাকে না । দুধ দুইবার কালে গিয়ে দাঁড়ালে ও আর জল মেশানোর  সুযোগ পাবে না । এখন ঘুমোও তুমি । ঠিক কাকভোরে ডেকে তুলবো তোমাকে ।

ওফ্‌, কি ঠাণ্ডা রে বাবা’ বলতে বলতে লেপের তলায় সেঁধিয়ে গেলেন দিব্যেন্দু । তৃণা তখনো বকর বকর করে চলেছে, জানো তো, আজ দুপুরে না তোমার ওই নচ্ছার বল্টুকে স্নান করাতে গিয়ে আমার যা হাল... পুরোটা শোনার আগেই লেপের ওমে ডুবে থাকা দিব্যেন্দু তলিয়ে গেলেন গাঢ় ঘুমে । স্বামীর মুখ থেকে ‘হুঁ-হ্যাঁ’ শুনতে না পেয়ে তৃণাও এবার ঘুমোনোয় মন দিলেন ।

দিব্যেন্দু স্বপ্নে দেখছেন, কাকভোরে খোলা জানালার সামনে এসে দাঁড়িয়েছেন । এই কনকনে শীতের ভোরে তাঁকে যেতে হবে দুধ আনতে ! ভাবতেই হাত-পা তাঁর ঠাণ্ডা হয়ে আসছে । জানালার বাইরে তাকাতেই দিব্যেন্দুর শরীরের সমস্ত রক্ত যেন জমে বরফ হয়ে গেল । দশদিক ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়েছে ! হাতখানেক দূরের বস্তুও দেখা যাচ্ছে না এমনই ঘন কুয়াশা !

ভয়ে কাঁটা হয়ে থেকে সহসা অনুভব করলেন তৃণা এসে দুধের পাত্র ধরিয়ে দিলেন তাঁর হাতে । ভালো করে ধরার আগেই ‘ঠক্‌’ । দুধের পাত্র গড়াগড়ি খাচ্ছে তাঁর পায়ের কাছে ! 

দেখেই তৃণা তেলেবেগুণে জ্বলে উঠলেন । তাঁর হাড় জ্বলুনি বাক্যিবাণে দিব্যেন্দুর শরীর গরম হতে সময় নিলো না । নিজেকে আপাদমস্তক চাদরে মুড়ে নিয়ে দ্রুত বেরিয়ে এলেন রাস্তায় । শীতে কাঁপতে কাঁপতে বিধুগোয়ালার গোয়ালে এসে দেখেন গোয়ালা এখনো দরজা খোলেনি ! সর্বনাশ । হাঁকডাক জুড়ে দিলেন । ঘরের ভিতর থেকে বিধুর গলা ভেসে এলো, একটু সবুর করেন বাবু, এখুনি বেরোচ্ছি দুধ দুইতে । আপনি বরং বেঞ্চটায় গিয়ে...   

বাইরে পেতে রাখা বেঞ্চটায় গিয়ে বসলেন দিব্যেন্দু । এখন কুয়াশা যেন আরও ঘন হয়েছে ! বিধুগোয়ালা এখনো কেন বেরোচ্ছে না ঘর থেকে ! গায়ের চাদরখানা কুয়াশায় ভিজে স্যাঁতস্যাঁতে হয়ে গিয়েছে । সহসা কুয়াশা যেন কয়েকগুণ ঘন হয়ে গেল ! সঙ্গে কনকনে শ্বৈত্যপ্রবাহ । এরপরই আচমকা শুরু হলো প্রচণ্ড তুষারপাত । দিব্যেন্দু ক্রমশ চাপা পড়ে যাচ্ছেন তুষারের ভারী চাদরের তলায় । হাতে-পায়ে খিঁচ ধরেছে । যন্ত্রণায় ছটফট করতে করতে যতটা সম্ভব গলা তুলে হাঁক দিলেন, কই রে বিধু, হলো তোর ? আমি যে ঠাণ্ডায় জমে যাচ্ছি ।

- যাবেনই তো । লেপখানা যে গুটিয়ে আছে আপনার পায়ের কাছে । নিন চাপিয়ে দিলাম আপনার গায়ে । 

বিধুগোয়ালার গলাটা মেয়েলী এবং বেশ ঝাঁঝালো শোনালো না ! ভালো করে চোখদুটো কচলে নিয়ে তাকিয়ে দেখেন তৃণার মুখখানা ঝুলে আছে তাঁর মুখের ওপরদেখেই বুঝলেন বিধুগোয়ালার গোয়ালে বসে নেই ! শুয়ে আছেন নিজেরই বিছানায় ! দিব্যেন্দুর মুখ থেকে আচমকা বেরিয়ে এলো, তুমি ! বিধু কোথায় ? এখনো বেরোয়নি ঘর থেকে ? 

- মরণ । ঘুমটাকে দু’চোখের পাতায় অনেক কষ্টে নামিয়েছিলাম । বাবু কিনা সেই ঘুম উড়িয়ে ছাড়লেন বিধু বিধু করে ! এখন ঘুমোও দেখি । যাবে তো সেই কোন কাকভোরে । অথচ এই মাঝরাত থেকে সেখানে যাবার জন্য ছটফট করে মরছো ! নাকি এখনই গিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে চাও বিধুর গোয়ালে ? এনে দেবো দুধের পাত্র ?


| Aleekpatamagazine.blogspot.in |
  | Editor: Swarup Chakraborty | Publisher: Debasree Chakraborty |
|ALEEK PATA-The Expressive World |Online Magazine |
|a DISHA-The Dreamer Initiative |
| Winter Issue,2010 | January 2020 |
| Third Year Fourth Issue |21st Edition|
|© All Rights Reserved By The Editor and The Publisher |

 Back To Index- সূচিপত্র


















রম্য রচনা-আমি ঠাকুরেও আছি, ইসলামেও আছি- জয়িতা দাস


আমি ঠাকুরেও আছি, ইসলামেও  আছি

জয়িতা ময়রা (দাস)

Image Courtesy: Google Image Gallery



আমার সপ্তম বর্ষীয় ক্ষুদেটি রোজ স্কুল থেকে ফিরেই "জানো মা আজ কি হয়েছে" দিয়ে যখন তার গল্পের ঝাঁপি উপুকরে, তখন আমিও মন্ত্র-মুগ্ধের মতো গোগ্রাসে সব শুনি, আর কৃতজ্ঞ চিত্তে ঠাকুরের কাছে প্রার্থনা করি - 'মোরে আরো আরো আরো দাও প্রাণ'
    তো সেরকমই একদিন হঠাৎ জানতে পারলাম তার এক বন্ধু তাকে পরামর্শ দিয়েছে মুসলমান সহপাঠীদের সাথে বন্ধুত্ব না করার আমারটিও দমবার পাত্র নয়, তৎক্ষণাৎ জবাব দিয়ে এসেছে যেহেতু বন্ধুত্ব না করার তেমন কোন কারণ নেই, তাই সে করবেই যদিও সে আদৌ জানে না কে মুসলিম, আর কে নয় সে শুধু জানে কারও কারও “মাদার টাং”  হিন্দী - ব্যস ঐ পর্যন্তই বুঝলাম মা হিসেবে এই ধর্মের এর ব্যাপারটা ওকে বোঝানোর দায়িত্বটা যে আমারই
    আমি ব্যক্তিগত ভাবে পুজো-আচ্চা এবং তার নিয়ম-নীতি পালন থেকে শতহস্তে দূরে থাকি মূর্তি পুজোয় নয়, আমি মানুষে বিশ্বাসী অর্থাৎ জন্মাষ্টমীতে যেমন মাংস ভাত খেয়ে, পুত্ররত্নটির সাথে নির্ভেজাল ছুটির দুপুর কাটাই,আবার যারা ঠাকুরকে ভোগ দিয়ে, বাড়ির ছানা-পোনাদের গোপাল সাজিয়ে ছবি পোস্ট করেন, সেই সব ছবিও সমান উপভোগ করি আমার নীতিই হল “লিভ অ্যান্ড লেট লিভ”, জিও অউর জিনে দো – সিম্পল
    তো এহেন আমি ঠাকুরেও আছি আবার ইসলামেও আছি - সেটাই তো স্বাভাবিক আমার কাছে ঠাকুর বলতে অবশ্যই রবি ঠাকুর, যিনি আমার প্রতিটি দুঃখে- আনন্দে আছেন, থাকেন আবার ছোটবেলায় "কাঠবেড়ালি পেয়ারা তুমি খাও" দিয়ে পরিচয় হওয়া সেই নজরুল ইসলাম কেই বা কিভাবে ছাড়ি বলুন তো !! আমি মানুষে বিশ্বাসী, তাঁর নাম-গোত্রে নয় এই কথাটাই আমার পুত্রটিকেও বোঝাই
    সত্যি বলতে কি, ওকে বনমানুষ থেকে আদিম মানুষের রূপান্তরের সেই রোমাঞ্চকর গল্প শোনাতে শোনাতে নিজেই অবাক হয়ে যাই, কোন্ বনমানুষ'টি কোন্ ধর্মের সেটা কে ঠিক করেছিল!! ভাবতে অদ্ভুত লাগে, আমরা শাহরুখ - সলমানের ভক্ত হতে পারি, আরসালান - রেহমানিয়ার বিরিয়ানী চেটেপুটে সাফ করতে পারি, তাজমহল'কে দেশের গর্ব মনে করতে পারি, অথচ অন্য ধর্মের মানুষের সাথে সহজ হতে পারি না, স্বচ্ছন্দে বন্ধুত্ব করতে পারি না ধিক আমাদের এই সব শিশুমন গুলোকেও অহেতুক জটিল আর সংকীর্ণ করে তুলি আমরা
    তবে সকলের মনে তো পরিবর্তন আনতে পারব না, অন্ততঃ নিজের সন্তানটিকে যেন শুধুমাত্র 'মানুষ' পরিচয়ে বড় করতে পারি আর প্রার্থনা করতে পারি সকলের বুদ্ধি শুভ হোক কিন্তু যাঁদের হল না বা হবে না, তাঁরা নাহয় পরের কালীপুজোয় ভক্তি সহকারে গাইবেন বা বাজাবেন - ''কালো মেয়ে'র পায়ের তলায় দেখে যা আলোর নাচন'' আর টুক করে একটু গুগল করে নেবেন যে কার সৃষ্টি করা এই রকম কিছু শ্যামা সঙ্গীত আপনার মনে এত ভক্তি ভাবের উদ্রেক ঘটায়


| Aleekpatamagazine.blogspot.in |
  | Editor: Swarup Chakraborty | Publisher: Debasree Chakraborty |
|ALEEK PATA-The Expressive World |Online Magazine |
|a DISHA-The Dreamer Initiative |
| Winter Issue,2010 | January 2020 |
| Third Year Fourth Issue |21st Edition|

|© All Rights Reserved By The Editor and The Publisher |

 Back To Index- সূচিপত্র

























অণুগল্প-বিকেলের বকুলস্মৃতি-সঞ্জীব সেন


বিকেলের বকুলস্মৃতি 

সঞ্জীব সেন


Image Courtesy: Google Image Gallery



    শেষ বিকেলের আলো এসে  পড়েছে ব্যালকনিতে, সুগত এসে দাঁড়িয়েছে,চারিদিকে ফ্লাট বাড়ির ভীড়,ছেলে বৌমা বেড়াতে গেছে,মালবিকা ঘরে একা ,তাই ঘরে রয়েছে,না হলে সুগত এইসময় ঘরে থাকে না,
পড়ন্ত বিকেলের আলো এখনো কিছুটা ধারন করে আছে তোমার  উতুঙ্গ ব্যলকনি,
আমি সেই খানে যেতে চাই আবার,
তোমার কুঞ্চিত ঠোঁটের স্পর্শে  মঙ্গল শঙ্খ   বেজে ওঠে যদি,”

    মালবিকা বলে ওঠে আদিখ্যেতা,এখনো আলো দেখছো,তাও আবার উতুঙ্গ ব্যলকনিতে নাও, অনেক হয়েছে চা নাও,

    সুগত মুচকি হেসে আমি কি  খারাপ কিছু বললাম,মনে আছে, মালবিকা তোমার ,তোমার সঙ্গে প্রথম পরিচয় ছাত্র রাজনীতি করার সময়, তুমি তখন গননাট্য আন্দোলনের সঙ্গে ওতপ্রোতও ভাবে জড়িত।, বেশ কিছু সফল পথ নাটিকায় মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছো, প্রথম  মঞ্চে আবির্ভাব  “শ্বেত গোলাপ” এক ত্রিকোন  প্রেমের গল্পতোমার  অবিচল অভিনয় শুধু আমার নয় , সবার নজর  কেড়েছিল,  তখনও তোমার সঙ্গে  সেভাবে আলাপ হয়নি, কিছু দিন পর জানতে পারলাম তুমি অতিনের সম্পর্কে  মাসতুতো বোন, ওর সাহায্যেই তোমার সঙ্গে আলাপ ।    সেবার    পার্টির কাজে পুরুলিয়া গেছিলাম, অতিনও  গেছিল তোমার যাওয়ার কথা ছিল না। তুমি গেছিলে পরের দিন,আদিবাসী জীবনের উপর  কিছু ডকুমেন্ট জোগাড় করতে, আর অতিনও বলল এ ব্যাপারে আমার বন্ধুটি সাহায্য করতে পারবে ।

    কিরে সুগত করবি তো আমার বোনকে সাহায্য ?
আমি লাজুক ভাবেই বলেছিলাম  ঠিক আছে করব।

    সেইদিনিই প্রথম বার কাছ থেকে দেখেছিলাম ।তখন আমার সারাক্ষণের সঙ্গী বুদ্ধদেব বসুর অনুবাদ কবিতা আর সুনীল গাঙ্গুলির কবিতা তো ছিলই আর সবচেয়ে  ভাললাগা যে বই  সাহস বাড়িয়ে তুলেছিল যুবক হিসাবে, সেই বুদ্ধদেব গুহর   “হলুদ বসন্ত "  তবুও বলতে পারিনি আমি কোনদিন ।
মালবিকা হেসে বলে আজ তোমার কি হয়েছে বলতো ?

    সুগত বুক ফুলিয়ে শ্বাস নিয়ে বলে আজ, আজ আমায় অতীতে পেয়েছে!জানো,এভাবেও ছুঁয়ে থাকা যায়,যেভাবে বৃক্ষ তার শীর্ণ পত্রের কাছে যেতে চায়।মনে আছে তোমার, লিটল ম্যাগাজিনের সেই গল্প টা তোমাকে নিয়ে লিখেছিলাম । সেখানেও নায়ক শেষ পর্যন্ত বলতে পারিনি ভালবাসি তোমায় । হয়ত, এটাই ছিল আমার ট্রাম্পকার্ড,তুমিই ডেকে বলেছিলে আচ্ছা সুগত তোমার মনে হয়  না নায়ক  আজীবন মনের ভিতর না বলা কথা বয়ে বেরাবে,আর অলক্ষে  অনুশোচনা করবে জীবন ভোর ,আচ্ছা,ওদের কে মিলিয়ে দেওয়া যায় না, এর পরের গল্পে   কিন্তু তাই করবে, আমি বলেছিলাম কিভাবে?

    তুমি হেসে বলেছিলে সত্যিই, এতদিন বুদ্ধদেব বাবুর উপন্যাসে কি পড়লে বলতো ।নাও,অনেক হয়েছে অতীত বন্দনা ।জানো তো,আমার মা বলতেন,সুতো হাতে থাকলেও ঘুড়ি কখনো সখনো ফিরে আসে না ,আর তো সময় ।
সুগত আকাশের দিকে চেয়ে থাকল ,দেখল সন্ধ্যা হয়ে গেছে অনেকক্ষণ ,বাবুই পাখির বাসার মত ফ্লাটবাড়ির সব আলোগুলো জ্বলে উঠেছে ।


| Aleekpatamagazine.blogspot.in |
  | Editor: Swarup Chakraborty | Publisher: Debasree Chakraborty |
|ALEEK PATA-The Expressive World |Online Magazine |
|a DISHA-The Dreamer Initiative |
| Winter Issue,2010 | January 2020 |
| Third Year Fourth Issue |21st Edition|
|© All Rights Reserved By The Editor and The Publisher |


   Back To Index- সূচিপত্র


















কবিতা-শীত গন্ধ মাখা -বহ্নিশিখা ঘোষ

শীত গন্ধ মাখা

বহ্নিশিখা ঘোষ

Image Courtesy: Google Image Gallery


খুলে যাওয়া এলো খোঁপাটির মতো
ঝরে গেলে সব পাতা,
নেমে আসে শীত, ধীর পায়ে গুটি গুটি,
হেমন্তের ফসল হীন মাঠের মাঝে।

গোলাভরা স্মৃতিগুলো উপচে যায়
আবছায়া কুয়াশায় চোখের তারায়।

মেহগনী সকালে ডালিম ঐ সূর্যটা
মেলে ধরে কাঁচা সোনা রোদটা।
ওম মাখা সোহাগে শিশিরে শিশিরে খুঁজি
ফেলে আসা ছেলেবেলা,হাওয়াই মিঠাই।
টোপাকুলে চোখ বোঁজা মনকাড়া সুখটা
তেল মাখা শাসনে নাস্তানাবুদ।
কমলার কোয়া ভাঙা দুপুরের ভাঁজে ভাঁজে
আজও লুকিয়ে কাঁদে পিঠেপুলি।
ফুলতোলা বালিশে তুলোর গভীরে খুঁজি
টুপ করে খসে যাওয়া ঠাকুমার ঝুলি।

উলের গোছার মতো গোটানো বিকেল শেষে
কালো বিড়ালের মতো ঝুপ করে
নেমে এলে সন্ধ্যে ঘরে ঘরে জ্বলে যায় দীপ,
একখানা হ্যারিকেন ঘিরে ঘিরে
দুলে যায় কবিতার ছন্দ
মায়াময় বাড়িটার আনাচে কানাচে।
মা মাখা ভাত খেয়ে ঘুম এলে
লেপ জুড়ে রূপকথা গল্প স্বপ্নে মাখামাখি
জ্যোৎস্নায় ভিজে যায় ইছামতী।
হাজার জোনাক জানে,
যে পাতাটি খসে গেল আজ রাতে
তার নেই অধিকার  কোনও শীতে।

| Aleekpatamagazine.blogspot.in |
  | Editor: Swarup Chakraborty | Publisher: Debasree Chakraborty |
|ALEEK PATA-The Expressive World |Online Magazine |
|a DISHA-The Dreamer Initiative |
| Winter Issue,2010 | January 2020 |
| Third Year Fourth Issue |21st Edition|
|© All Rights Reserved By The Editor and The Publisher |

  Back To Index- সূচিপত্র
















Main Menu Bar



অলীকপাতার শারদ সংখ্যা ১৪২৯ প্রকাশিত, পড়তে ক্লিক করুন "Current Issue" ট্যাব টিতে , সবাইকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা

Signature Video



অলীকপাতার সংখ্যা পড়ার জন্য ক্লিক করুন 'Current Issue' Tab এ, পুরাতন সংখ্যা পড়ার জন্য 'লাইব্রেরী' ট্যাব ক্লিক করুন। লেখা পাঠান aleekpata@gmail.com এই ঠিকানায়, অকারণেও প্রশ্ন করতে পারেন responsealeekpata@gmail.com এই ঠিকানায় অথবা আমাদের ফেসবুক গ্রুপে।

অলীক পাতায় লেখা পাঠান