অলীক পাতার অন্যান্য সংখ্যা- পড়তে হলে ক্লিক করুন Library ট্যাব টি



। । "অলীক পাতা শারদ সংখ্যা ১৪৩১ আসছে এই মহালয়াতে। । লেখা পাঠানোর শেষ তারিখ ১৫ ই আগস্ট রাত ১২ টা ।.."বিশদে জানতে ক্লিক করুন " Notice Board ট্যাব টিতে"

Wednesday, October 2, 2019

ফটোগ্রাফি -জ্যোতিকা পোদ্দার


ফটোগ্রাফি

জ্যোতিকা পোদ্দার




ফটোগ্রাফি

জ্যোতিকা পোদ্দার



| Aleekpatamagazine.blogspot.in |
  | Editor: Swarup Chakraborty | Publisher: Debasree Chakraborty |
|ALEEK PATA-The Expressive World |Online Magazine |
|a DISHA-The Dreamer Initiative |
|Special Puja Issue,2019 | September-October, 2019 |
| Third Year Third Issue |20Th Edition|

|© All Rights Reserved By The Editor and The Publisher |





















ফটোগ্রাফি -মুস্তাক আহমেদ


ফটোগ্রাফি

মুস্তাক আহমেদ






| Aleekpatamagazine.blogspot.in |
  | Editor: Swarup Chakraborty | Publisher: Debasree Chakraborty |
|ALEEK PATA-The Expressive World |Online Magazine |
|a DISHA-The Dreamer Initiative |
|Special Puja Issue,2019 | September-October, 2019 |
| Third Year Third Issue |20Th Edition|
|© All Rights Reserved By The Editor and The Publisher |



















ভ্রমণ- মাহিষ্মতী -পৃথ্বীশ সেন


মাহিষ্মতী

পৃথ্বীশ সেন





মাহিষ্মতী নগরী, এক ইতিহাস বিখ্যাত নগরী। এখন বিখ্যাত হয়েছে বাহুবলী সিনেমার জন্য। সিনেমায় যে নগরী ঘিরে ঘটনা আবর্তিত হয়েছে সেই মাহিষ্মতী সম্বন্ধে আজ লিখতে বসেছি যদিও আমি যখন গিয়েছিলাম, মাহিষ্মতী তখনও এত জনপ্রিয়তা পায়নি কারন তখনো মুক্তি পায়নি বাহুবলী।
অমকারেশ্বর থেকে যাত্রা শুরু করেছিলাম তখন প্রায় সাতটা। মাহিষ্মতী এসে পৌছলাম প্রায় সাড়ে নয়টা। অমকারেশ্বর ছাড়িয়ে একটু বেরুতেই শুরু হল জঙ্গল রাস্তা, শুনলাম সিংহ চিতা ভালুক যখন তখন বেরুতে পারে। রাস্তাও মোটামুটি খালি খালি। যাইহোক আমরা তেমন কিছু দেখতে পাইনি।
মাহিষ্মতী ঢোকার আগে ড্রাইভার গাড়ি দাঁড় করিয়ে দিল বলল এগিয়ে যেতে, ও আসছে গাড়ি পার্ক করে। গাইড আমাদের ড্রাইভার।

বিশাল তোরণ উপরে এখনো পাহারা দেয় প্রহরী। পেরিয়ে এলাম আমরা প্রাসাদে। ঢুকতেই বামদিকে শিবকন্যা রানী আহল্যাবাই এর মর্মর মূর্তি।

বর্তমান হিন্দু ধর্মে এনার অবদান অনস্বীকার্য।
মুসলিম আমলে নষ্ট হওয়া বেশিরভাগ মন্দির উনি গড়ে তুলেছেন নিজের খরচে- কাশী বিশ্বনাথ অমকারেশ্বর ব্দরিনাথ পুরী জগন্নাথ মন্দির সহ বিভিন্ন ঘাট প্রাসাদ মন্দিরের জন্য নিস্কর সম্পত্তি, অজস্র পাঠশালা, চতুষ্পাঠি, অতিথিশালা, যাত্রীনিবাস এসব ওনার দীর্ঘদিনের কাজের মধ্যে পড়ে।
গুনে শেষ করা যাবেনা ওনার অবদান।

এটি সেই প্রাসাদ যেখান থেকে উনি চালাতেন রাজকার্য্য। এত বিশাল সাম্রাজ্যের মালকিন থাকতেন এমন সাধারণ প্রাসাদে। খুব একটা আহামরি নয় প্রাসাদ তবে প্রাচীর আর সুরক্ষা ব্যাবস্থা দেখার মত।

রানী আহল্যাবাই এর মূর্তি পাশে রেখে ঢুকলাম ডানদিকে মূল প্রাসাদে সেখানে রানীর ঘর বিছানা অস্ত্র পালকি রান্নার পাত্র সহ নানা জিনিস রয়েছে, বর্তমানে মিউজিয়াম
পাশেই ওনার ঠাকুরঘর। বেশ বড়। দেখছি অনেক ব্রাহ্মণ বসে নর্মদা মাটি দিয়ে শিবলিঙ্গ তৈরি করছেন বসে বসে। পুজো করার পর আবার নর্মদা তে ভাসিয়ে দেওয়া বিধি, এই বিধি শুরু করেছিলেন রানী, বংশ পরম্পরায় চলে আসছে সেই পুজো।

প্রাসাদের পাস দিয়ে পূব দিকে নেমে গেছে সিঁড়ি, সেই সিঁড়ি দিয়ে একটু নামতেই দেখা মিলল একটি মন্দিরের চূড়া, খুব সুন্দর কারুকাজ করা মন্দির। নীচে নেমে ডানদিকে আবার বেশ কিছু সিঁড়ি নেমে গেছে ঘাটের দিকে, সোজা নর্মদা। আর ডানদিকে কয়েকধাপ উঠলেই রাম মন্দির, প্রভু রামের উদ্দেশ্যে নিবেদিত। বিশাল মন্দির আর প্রচুর টিয়াপাখির বাস।

উল্টো দিকেই আরেকটি মন্দির মালোজি স্মৃতি মন্দির। পাশেই একটি জাফরির কাজ সেই জাফরির কাজ দেখলে বোঝা যায় মালোজি কাহিনী।
মালোজি ছিলেন রানী আহল্যাবাই এর একমাত্র সন্তান। বিয়ের কিছুদিন পরেই স্বামীর মৃত্যু হয়, তারপরে শ্বশুর মশাই এর মৃত্যুর পর আহল্যাবাই বসেন সিংহাসনে।
কিন্তু প্রজাপীড়ক ছিলেন মালোজি। বারবার অভিযোগে বিরক্ত হন রানী, শেষে কোন এক মহিলার উপর অত্যাচারের অভিযোগে দোষী প্রমাণিত হলে রানী আদেশ দেন হাতির পায়ের তলায় ফেলে মালোজি কে হত্যা করতে।
সেই অনুযায়ী আদেশ কার্যকর হয়।
পাশের জাফরির কাহিনীর সম্প্রসার বলছে এটাই। পরে যেখানে হত্যা করা হয়েছিল সেখানে মালোজি স্মৃতি মন্দির বানানো হয় আর উল্টোদিকে শ্রীরাম মন্দির।

কতখানি প্রজা দরদী হলে এমন কাজ সম্ভব সেটাই ভাবছি।
সুদূর মহারাষ্ট্রের সাধারণ পরিবারে জন্ম রানী আহল্যাবাই এর। সেই সময়ে মেয়েদের লেখা পড়ার চল না থাকলেও উনি শিখেছিলেন। পরে বিয়ে হয় হোলকার বংশে। রানী হবার পর খুবই দক্ষতার সাথে উনি চালিয়েছেন রাজকার্য্য। প্রচুর ধনসম্পদের মালকিন হওয়া স্বত্বেও খুব সাধারণ জীবন কাটাতেন।
বহু যুদ্ধে উনি সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। যেমন বীর তেমনি প্রজাপালিকা ছিলেন। মধ্যপ্রদেশে উনি শিবকন্যা হিসেবে পরিচিতা।

বেরিয়ে এলাম চওড়া ঘাটে। পর পর সিঁড়ি নেমে গেছে নর্মদা নদী অব্দি। এখানে মোটামুটি চওড়া নদী। নদীর জল নিলাম চোখে মুখে মাথায়। এখান থেকে প্রাসাদ দারুন লাগছে দেখতে।

এগিয়ে চললাম প্রাসাদকে ডানদিকে রেখে নদীর ধারে বরাবর। এল শাস বহু মন্দির। শাশুড়ি বউ এর সমাধি মন্দির।
রানী আহল্যাবাই ও তার শাশুড়ী দুইজনের অস্থিভস্ম রয়েছে এই দুটি মন্দিরে। শাশুড়ি মারা গেলে তার উদ্দেশ্য রানী বানান মন্দির আর তার পাশে আরেকটি মন্দির। নিজে মারা গেলে পরে স্মৃতি মন্দির বানানো হয়।
শোনা যায় ভেতরে থাকা শিবলিঙ্গটি রাণী পুজো করতেন নিজ হাতে।

মন্দির জোড়া পেরিয়ে প্রাসাদের পাস বরাবর ঘুরে এলাম আরেকটু। দেখি পরপর বসেছে বিভিন্ন ছাতা আর তার তলায় চলছে মানসিক উদযাপন, শ্রাদ্ধ কাজ। অনেকটা বারাণসী ঘাটের মত।

ফিরে এলাম রাম মন্দিরের সামনে উপরে উঠে মূল ফটকটিকে পাশে রেখে আরেকটি রাস্তা বেঁকে গেছে এবারে ধরলাম সেই রাস্তা।
একটু পরেই এল বামদিকে একটা মন্দির ভেতরে কিছুটা নেমে গিয়ে একটি শিবলিঙ্গ, ঋষি জমদগ্নি পুত্র পরশুরাম করতেন পুজো।
পরশুরাম শিবমন্দির পরশুরামপন্থী সাধুদের কাছে খুবই প্রিয় ও পবিত্র। পরশুরামপন্থী সাধুদের হাতে একটি কুঠার থাকবেই। প্রয়োজনে পরশুরামপন্থী সাধুরা বিভিন্ন সময়ে যবনদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন। এনারা যখন যুদ্ধ করেন তখন হয়ে যান ভয়ঙ্করতম, কারন না সাম্রাজ্যের লোভ, না জিতলে পরে প্রাপ্তিযোগ, না কোন ভোগের চিন্তা, শুধুই লক্ষ্য ধর্ম রক্ষা।
অসাধারণ এক অনুভূতি লাগছে যখন পুজো করেছিলাম আর দুদন্ড বসে ভালো করে দেখছিলাম সেই পরশুরাম শিবলিঙ্গটি।

পরশুরাম মন্দিরের অদূরেই আছে কার্ত্যবীর্য্য অর্জুন মন্দির। ইনি ছিলেন মাহিষ্মতীর আসল প্রতিষ্ঠাতা। শিবকে তপবলে সন্তুষ্ট করে উনি হাজার হাতের শক্তি লাভ করেছিলেন। রাবনকে পরাজিত করে বেঁধে রেখেছিলেন বলে রামায়নে পাওয়া যায় বর্ননা। অসাধারণ বীর আর যোগী রাজা ছিলেন তিনি।
মাহিষ্মতী নগরী তার সময়ে এক গৌরবময় নগরী ছিল বলে জানা যায়। সেই প্রাচীন নগরীর ধংসবশেষ এর উপর বর্তমান মাহিষ্মতী অবস্থিত বলে মনে করা হয়।

ইতিহাস এখানে ঘোরাফেরা করছে প্রতিটি কনায়, চোখ বুজলেই শোনা যায় কার্ত্যবীর্য্য অর্জুন এর পদ ধ্বনি, পরশুরামের পুজো করার সময়ের ঘন্টা ধ্বনি, রানী আহল্যাবাই এর সুকোমল কন্ঠস্বর। সবই রয়ে গেছে এই মাহিষ্মতীর প্রতিটি কোনে কোনে।

ড্রাইভার তাড়া লাগাচ্ছে, যেতে হবে মান্ডু।

পথ নির্দেশ:
বর্তমান নাম মহেশ্বর।
মধ্যপ্রদেশের খারগণ জেলায় অবস্থিত।

অমকারেশ্বর দর্শন করে একটা গাড়ি নিয়ে যাওয়া সবচেয়ে সুবিধার। মাত্র ৬৫ কিমি রাস্তা।


।। সমাপ্ত ।।

| Aleekpatamagazine.blogspot.in |
  | Editor: Swarup Chakraborty | Publisher: Debasree Chakraborty |
|ALEEK PATA-The Expressive World |Online Magazine |
|a DISHA-The Dreamer Initiative |
|Special Puja Issue,2019 | September-October, 2019 |
| Third Year Third Issue |20Th Edition|
|© All Rights Reserved By The Editor and The Publisher |

















অনুভূতি -একটা চিঠি -শীতল মিশ্র

 

 একটা চিঠি   

শীতল মিশ্র

Sketch: The Writer


(কবি কাজি নিজামুদ্দিন এর লেখা বই ''শাখায় শব্দ পাতায় প্রাণ" বই খানি উপহার পেয়ে আমার অনুভূতিএকটা চিঠি আকারে প্রকাশ করেছি।আ র স্যারের  কবিতা গুলি র লাইন নিয়েছি বলেই আরো সুন্দর হয়েছে বোধ হয়! আপনাদের কে পড়তে অনুরোধ করব)  


৭/০২/১৭

বিয়ে বাড়ী। সাজগোজ। সানাই। বর আসলো। শঙ্খ ধ্বনি। মালাবদল। খাওয়াদাওয়া। আত্মীয়পরিজন এর সাথে অনাবিল আনন্দ।মাথায় কিন্তু ঘোরাফেরা করছে ভোর পাঁচটা র লোকাল।ধরতে হবে না হলে ডিউটি জয়েন করতে পারব না। ৮ ঘন্টা র জার্নি।এমন সময় হাতে পেলাম আপনার স্নেহের পরশ মাখা - "শাখায় শব্দ পাতায় প্রাণ "।
    ভাবলাম কে আমি? আপনার অনেক ছাত্রছাত্রী, বন্ধু, শুভাকাঙ্ক্ষী। আপনার প্রতিফলিত আলো দেখেছি আমার কাছের ভাই, বন্ধু সাথীদের যেমন অমিত,শক্তি, সুকান্ত,বাদল, অঞ্জুশ্রী আরো অনেকে।আপনার বাগানের ফুলগাছেদের বড় হতে দেখেছি।আপনার আদর ভালবাসা আর যত্নে ওরা আরো সজীব আরো গাঢ়।আর আমার ওই বাগানের বেড়ার ধারে আগাছাদের সাথে বেড়ে ওঠা। কখনো ছাগল এ দেয় মুড়িয়ে বা গরুতে দেয় মাড়িয়ে।ঠিক যেন রবীঠাকুরের "ছেলেটার '(কবিতা)মত।
        আপনার হাতের পরশ পাওয়ার সু্যোগ হয়ে ওঠেনি।
ভোরে ১ মিনিটের জন্য লোকাল মিস করলাম।অগত্যা নির্লিপ্ত ভাবে পরের লোকালের জন্য বসে থাকলাম।
আসানসোল পৌছনোর পর উপায় না দেখে স্টাফদের সাথে শতাব্দী র লাগেজ ভ্যানে উঠে পরলাম। সব বন্ধ। না আছে জানলা।ধানবাদে সবাই নেমে গেল।আমি একা লাগেজের মেঝেয়।একদিকে ইঞ্জিন আর এক দিকে জেনারেটর এর আওয়াজ। সেই পরিবেশে আপনার "শাখায় শব্দ পাতায় প্রাণ"....হাতে নিয়ে বাকি সময় মন জুড়িয়ে গেল। আগেই কয়েকটা কবিতা পড়েছি ফেবু পোস্টে।যেগুলো তীর্থদা ছবির মাধ্যমে উপস্থাপনা করেছিলেন। অসম্ভব সুন্দর ভালোলাগা যুগলবন্দী উপভোগ করেছিলাম।পরে একটা স্কেচ আমি পোস্ট করেছিলাম।
     একমাস পর আপনার দেওয়া উপহার আমার হাতে।

     শ্রদ্ধেয় স্যর,,,,,,প্রনাম নেবেন।একটা চিঠি আপনার জন্য।

না কোন রিভিউ লেখার মত জ্ঞান বা পাণ্ডিত্য আমার কিছুই নেই।শব্দ জগৎে যা সহজলভ্য তাই আমার পাথেয়।যেমন ডাল,ভাত,আলুসেদ্ধ আর কাঁচালংকা।
  তবু      "শাখায় শব্দ পাতায় প্রাণ"
       আমায় যেন ছুঁয়ে গেছে।সত্যি করে বলতে আমি কবিতা খুব একটা বুঝি না।তবু আপনার সরল শব্দসম্ভার প্রকৃতি র আঙিনায় ছড়ানো। আমার মনের বিবর্ণতা কে আবার যেন সবুজ করে তুলেছে।

   "সেদিনের অমল আর এদিনের কৃষ্ণ কিশোর
দুজনে খুঁজে ফেরে সবুজের অন্তরে সবুজ প্রাণ
কেন্দুয়া,শাল,পিয়াল মহুয়া মাতালে স্বপ্ন বিভোর। "
      কবিতা:     "স্বপ্ন গাঁয়ে"
                             
 আমিও অনেক ফুলগাছ লাগিয়েছি স্যর স্কুলে,লাইব্রেরী তে,বন্ধুর বাড়ীতে,,,,,। আমার কোন নিজস্ব বাগান নেই।তবু প্রতিদিন আমায় হাত নাড়ে,, কথা বলে।সবার প্রতি ভালবাসা যেমন দেয় তেমন আমি ও পাই।
    আপনার বাগানের প্রতিটি সাইকাস অনেক বাগানে ছড়িয়ে আরো সাইকাস তৈরি করছে। তাই তারাও আপনাকে ছাড়তে চায় না রেখে দেবে চিরদিন "হৃদমাঝারে"!

  "বনপলাশের আলিঙ্গন দেব তোমায়
পলাশের মতো রঙীন মন দেব তোমায়
পলাশের মত শব্দহীন কবিতা দেব তোমায়,,,,"
         কবিতা: পলাশ

   এসব লিখতে লিখতে আমি বুঝতে পারছি, পেরিয়ে  যাচ্ছে, লাগেজ ভ্যানের বাইরে ঝাড়খণ্ড এর ক্যানভাস এ ছড়িয়ে থাকা বনপলাশ, স্বর্নরেখা নদী,,পাহাড়,,,জঙ্গল।
   "অনেকদিন হারিয়ে যাইনি বনপথে
  অনেকদিন জীবনধারণ কোনমতে
আবার এই নাচার বসন্ত দিয়েছে দোলা
   হয়ে যাবো আজ দুজনেই পথিকভোলা।"
          কবিতা:এই বসন্তে (৬১ পাতা)
স্যর,,
আর কিছু দিন পর পলাশের রং ভরিয়ে তুলবে ঝাড়খণ্ড এর ক্যানভাস,,,,,,
   "এই শাল পিয়াল
    মহুয়া মাতাল লাল মাটির দেশে
মেহূল, শিশির ভেজা শিউলি গন্ধমাখা
বকুল বিছানো পথে একদিন আসিস।
তোকে নিয়ে যাবো লাল সাদা
শালুক সাজানো পুকুর ধারে,,, "
    কবিতা:মেহূল আয়

     "ধানকাটা মাঠে দুএকটি শিষ পড়ে আছে
   খুঁটছে সেই ধান, শালিকেরা মহাভোজে
   সর্ষেক্ষেতের পাশের আলপথে
    কে দাঁড়িয়ে এত আলো নিয়ে
    তার শাড়ীর আঁচলে মুঠো মুঠো সর্ষেফুল
    কে দিল এত পরম সোহাগে আদরে?"
       কবিতা :শীত রুপিনীকে(৪৩) পাতা,

প্রকৃতি নেমে এসেছে আপনার কবিতায়। প্রকৃতি র রং এ রঙিন হয়ে যায় পাঠকের মন।!!!ছবি আঁকা হয়ে আছে অক্ষরে অক্ষরে।


০৯/২/১৭
      একদিন পেরিয়ে আবার বসেছি আপনার লেখা  বই খানি নিয়ে।ট্রেন দ্রুতগতিতে পেরিয়ে যাচ্ছে গোদাবরী ব্রীজ।এই ব্রীজের নীচে প্রতিদিনকার মত আজকেও হয়তোকয়েকটা ডিঙি ঘোরাফেরা করছে।না ওরা মাছ ধরে না।যাত্রী দের নদীর উদ্দেশ্য এ দেওয়া দান মানে টাকা পয়সা বা অন্য যা কিছু জল থেকে তুলে এনে সেদিনকার মত দিনগুজরানো।

   "সব নদীজল নোনাজল হয়ে
    বহুদিন আগে গেছে বয়ে
     বিয়াস, ঝিলম কিম্বা মেঘনা হয়ে
     এই দুচোখের কিনারা বেয়ে,,,।"
           কবিতা;ফেরা   ৬০ পৃ
 
   কত কি ঘটে যায়।ঘটছে।ট্রেন ছুটছে। জীবন ছুটছে।

   "এই মানব মন্ডল সৌরমণ্ডলে
   কোন তফাৎ নেই শুধু
   এখানে মাধ্যাকর্ষণ নেই
    তাই কাওকে ধরে রাখা যায় না"
     তবুও সে চলে যায়
    সে দিয়ে যায় কিছু
    স্মৃতি কুসুম চরণ চিহ্নে সাজিয়ে।"
            কবিতা:মানব মন্ডল ৪৯ পৃ

",,,,জীবনের এই খেলায় ভয়কে জয়
   করে আয়, ফিরে আয় সেই সেখানে
  রেলপাড়ের মাঠে,প্রজাপতির পাখনায়"!
        কবিতা:ফিরে আয়  ১১৪ পৃ
    স্যর,,
        অন্ধ্রপ্রদেশ এ এখন ঠান্ডা নেই,,অবশ্য ঠান্ডা সেরকম পড়ে না।এখানে যেদিকে তাকাই তালগাছ আর তাল গাছ।আবার মাঠ সবুজ হয়ে উঠেছে।ধান গাছ আবার মাঠ ভরিয়েছে।
    "সরু আলপথ বেয়ে বিস্তীর্ণ ধানমাঠ
  দুধারে যেমন সবুজ গামছা পেতে শুয়ে থাকে
সরু সরু নালা দিয়ে সারাদিন জল বয়ে চলে
ব্যাঙ ডাকে,সরু সরু সাপ আর নানান মাছ
ভেসে চলে, মাটির  ভিতর দিয়ে মাটির গান,,,"
       কবিতা:  আমার স্বর্গ পৃ৮৭
আহা কি সুন্দর,,,,,,
  আবার যখন ফিরে যাব সাঁওতাল পরগনা র অভিমুখ এ।সেখানে এখন বসন্ত।
      "শিমুল রাঙা বসন্ত দিন
    আজ ফাগুনে সবই রঙীন।
   নরম রোদের শিমুল সখী
   একটি দুটি মেলেছে আঁখি।"
        কবিতা:কৃষ্ণ চুড়া
বা
,,,,,,হারিয়ে যাওয়া সময়টাকে
      দেখে এলাম মেঘের দেশে
     সাঁওতালী এক মেয়ের বেশে।"
     কবিতা:বর্ষারূপিনী
বা
"শালবীথি শাজাণো রাস্তায়
দাঁড়িয়ে টুপটাপ বৃষ্টি তে
ভিজে যায় গাড়ির উইন্ড স্ক্রিন
ঝাপসা- দুচোখে নরম বৃষ্টি।''
        কবিতা:বৃষ্টিদিনের আনন্দ
   
কোন কবিতার কথা লিখব।!লিখে শেষ করা যাবে না।
ভাগ্যিস টাইপিং লেখা,আমার হাতের লেখা এত বিচ্ছিরি যে পড়তেই পারতেন না।ছোটবেলা থেকেই বাংলায় তালবশ্য লিখতেই হিমশিম খেয়ে যেতাম। আর তালবশ্য' দিয়ে আমার নামের শুরু। এতক্ষন তালেই আটকে থাকতাম।
যাই হোক তালেগাছের দেশ ছেড়ে আমাদের "স্মার্ট সিটি"র বাবুদের  'কথা লিখেছেন
    "ভরে যাবে, সারি সারি ফ্লাট বাড়িতে
ওদের বলেছি একটুও ঘাস, আগাছা
জংলীফুল যেন, কোথাও দেখা না যায়
সব সাফ করে দিতে হবে,,,,,,!
      কবিতা:স্মার্টসিটি
    তা হলে এই অধম আগাছার জায়গা কোথায় হবে!
পরিশেষে একটা কথা,,,
    রবী ঠাকুরের "ছেলেটা" কবিতায় কবির আক্ষেপ
যে তিনি ছেলেটির মনের মতন করে কবিতা লিখতে পারেননি,,,তাই হয়তো পাতা ছেড়া,,,,,,
     কিন্তু আপনি আমার মন রাঙা করেছেন,,,,
তাই শ্রদ্ধেয় ড: সুশীল ভট্টাচার্য মহাশয়ের কথাটাই প্রমানিত হয়েছে,,,,,,,আধুনিকতা য় মোড়া সহজবোধ্য কবিতা,,,,,,
    প্রনাম নেবেন।
                  ইতি,
                            শীতল

 ।। সমাপ্ত ।।

| Aleekpatamagazine.blogspot.in |
  | Editor: Swarup Chakraborty | Publisher: Debasree Chakraborty |
|ALEEK PATA-The Expressive World |Online Magazine |
|a DISHA-The Dreamer Initiative |
|Special Puja Issue,2019 | September-October, 2019 |
| Third Year Third Issue |20Th Edition|
|© All Rights Reserved By The Editor and The Publisher |

























Main Menu Bar



অলীকপাতার শারদ সংখ্যা ১৪২৯ প্রকাশিত, পড়তে ক্লিক করুন "Current Issue" ট্যাব টিতে , সবাইকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা

Signature Video



অলীকপাতার সংখ্যা পড়ার জন্য ক্লিক করুন 'Current Issue' Tab এ, পুরাতন সংখ্যা পড়ার জন্য 'লাইব্রেরী' ট্যাব ক্লিক করুন। লেখা পাঠান aleekpata@gmail.com এই ঠিকানায়, অকারণেও প্রশ্ন করতে পারেন responsealeekpata@gmail.com এই ঠিকানায় অথবা আমাদের ফেসবুক গ্রুপে।

অলীক পাতায় লেখা পাঠান