অলীক পাতার অন্যান্য সংখ্যা- পড়তে হলে ক্লিক করুন Library ট্যাব টি



। । "অলীক পাতা শারদ সংখ্যা ১৪৩১ আসছে এই মহালয়াতে। । লেখা পাঠানোর শেষ তারিখ ১৫ ই আগস্ট রাত ১২ টা ।.."বিশদে জানতে ক্লিক করুন " Notice Board ট্যাব টিতে"

Wednesday, October 2, 2019

অণুগল্প-আগমনী -বনবীথি পাত্র


আগমনী

বনবীথি পাত্র
Image Courtesy: Google


জগার দেখা মেলেনি রাজপুর গ্রামে । সারাবছর যেখানেই থাকুক,এই সময়টা এ গাঁয়ে আসতে তো সে ভোলে না । জগার বাবা মানিক পাল ছিল এ গাঁয়ের নামকরা প্রতিমা শিল্পী । আশপাশের দশ গাঁয়ে তার নাম ছিল ,এমনকি কলকাতা থেকে ডাক আসতো মূর্তি গড়ার কাজে । নিষ্প্রাণ মাটি যেন জীবন্ত হয়ে উঠতো মানিকের হাতের ছোঁয়ায় । বেচারা কদিনের জ্বরে অকালে প্রাণটা হারালো । জগা তখন মাতৃগর্ভে,বাপকে সে চোখেও দেখেনি । কিন্তু বাপ বোধহয় তার শিল্পীসত্তাটা রেখে গেছিল সন্তানের মধ্যে । শিশুকাল থেকেই মাটির সাথে তার সখ্যতা । হয়ত সেও তার বাপের মতই শিল্পী হতো যদি একটা সুস্থ স্বাভাবিক জীবন পেতো । সে যখন বছর পাঁচেকের,তার মা তাকে ফেলে ঘর ছেড়েছিল কালু শেখের সাথে । সেই থেকে তার অবহেলার জীবন শুরু,পরের দয়ায় বেড়ে ওঠে কুকুরের মতো । একবার গাছ থেকে পড়ে তো যমে মানুষে টানাটানি । তবু বেঁচে গিয়েছিল জগা,শুধু হারিয়ে ফেলেছিল মুখের ভাষা ।

কিশোর জগা খেলাচ্ছলেই একদিন মাটি দিয়ে গড়ে ফেলেছিল ছোট এক দুর্গামূর্তি । গাঁয়ের মোড়লদের নজরে পড়েছিল সেটা । তখনো  রাজপুরে কোন দুর্গাপুজো হতো না । জগার তৈরি মূর্তি দিয়েই শুরু হয়েছিল গাজীতলাতে এই পুজো । আজ প্রায় কুড়িবছর হচ্ছে এ পুজো । আগে ছোট করে হতো,এখন বেশ বড় করেই হয় ।  আর নিয়ম করে প্রতিবছর ঠাকুর গড়ে জগা ।যেন জগার হাত ধরেই এ গাঁয়ে মায়ের আগমন ।

সবার মন খারাপ,জগা এলো না এবছর তবে আর বোধহয় পুজো হবে না । এ গাঁয়ে তো সে ছাড়া কেউ ঠাকুর গড়তেই জানেনা । মূর্তি ছাড়া পুজো হবে কি করে ? রথের দিন ঠাকুরের কাঠামোতে প্রথম মাটি দিতে হবে,এটাই নিয়ম । কাল রথযাত্রা, অন্যবার ঠাকুরে প্রথম মাটি ধরানো দেখবে বলে ছেলেপিলের কত উৎসাহ থাকে,এ বছর সবার মুখভার ।

রথের সকালে গাজীতলার ঠাকুর দালানে দেখা গেল জগাকে ।সবাই দারুণ খুশি । কিন্তু সাথে ও কে ?ওর সেই গৃহত্যাগী কুলটা মা টা না ?হৈচৈ গ্রাম জুড়ে-এ অনাচার চলবে না ।পুজো না হয় না হবে,ঐ নষ্ট মেয়েমানুষকে দূর করে দাও গাঁ থেকে । মুরুব্বিদের সভা বসেছে । ছেলে বুড়ো সবাই অপেক্ষায়,পূজো কি হবে ?বৃদ্ধা শঙ্করীবালাও লাঠিতে ভর দিয়ে এসে দাঁড়িয়েছে ।হঠাত সে বলে ওঠে,ওরে মায়ের কোন জাত হয় না । মা দুগ্গার মুত্তি গড়তেও তো বেশ্যা বাড়ির মাটি লাগে,তাতে কি মা দুগ্গা অপবিত্র হয় ?তবে মানুষ মায়ের জাত নিয়ে এত কতা কেন ?এতবছর পর বোবা ছেলেটা মাকে পেয়েছে,ওদের তাড়াস নি ।ভুলিস নি জগার হাত ধরেই মা এয়েচেন মুদের গাঁয়ে ।বড় বড় মুরুব্বি রাও চুপ,কৌন যুক্তি নেই তাদের কাছে ।



হৈ হৈ করে ওঠে ছেলেপিলের দল,পুজো হচ্ছে………

।। সমাপ্ত ।।

| Aleekpatamagazine.blogspot.in |
  | Editor: Swarup Chakraborty | Publisher: Debasree Chakraborty |
|ALEEK PATA-The Expressive World |Online Magazine |
|a DISHA-The Dreamer Initiative |
|Special Puja Issue,2019 | September-October, 2019 |
| Third Year Third Issue |20Th Edition|
|© All Rights Reserved By The Editor and The Publisher |




















কবিতা-তখন শরৎ -সান্ত্বনা দাস


তখন শরৎ
সান্ত্বনা দাস

Picture Courtesy: Google Image Gallery


ছোট্ট কাকলি
হাত ধরল ছোট্ট সুকান্তের
শরতের আকাশে
ঝকঝকে রোদ্দুর
মা আসছেন,
আভাস চারিদিকে তার।
দুটি বালক বালিকা ছুট লাগাল
কাশবনের সীমানা ছুঁয়ে
যেখানে নিস্তরঙ্গ পুকুরটা ,
ধারে ধারে
ফুলগাছগুলো পড়েছে নুয়ে
পুকুরকে ছোঁবে বলে, সেইখানে।
আঁজলা করে পুকুরের জল
ছুঁড়ে দেয় দু'জনে
ভাসন্ত হাঁসগুলোর দিকে।
হাঁসের পাখায় জল থাকে না
ছেলেমেয়ে দু'টো বোঝে না
খিলখিল করে হাসে
আর দৌড়ে গিয়ে
প্রজাপতি ধরে ঘাসে।
পূজোর ঢাক শোনা যায় দূর থেকে।

কয়েকটা শরৎ এল আর গেল
বালক বালিকা বড় হল
স্কুল কলেজে দু'জনেই
মেধাবী বলে বিশেষ স্থান পেল।
কাকলীর বাবা ধনী
সুকান্তের বাবা সাধারণ মধ্যবিত্ত
অতিরিক্ত ব্যয়ে অসমর্থ
অতএব পথ হল আলাদা।
সুকান্ত শিক্ষকতা বেছে নিল
কাকলী করল বিদেশ যাত্রা।
ওদের একে অন্যকে ঘিরে
অনেক স্বপ্ন
ভঙ্গুর কাঁচের মতো
ঝুর ঝুর করে ভেঙ্গে পড়ল
বাস্তবের কঠিন ভূমিতলে
ভাঙ্গা গড়ার খেলা
শেষ হল গোপন অশ্রুজলে।
খবর এল বিয়ে হয়েছে কাকলীর
কোন ব্যবসায়ী না ডাক্তার
পুরো পরিচয় জানা নেই তার
সাধারণ শিক্ষক সুকান্তের।
পূজো এল
এই শরতে কাকলী বাড়ি এল।
সঙ্গে স্বামী আর কন্যা
একরত্তি মেয়ে দুরন্ত বড়।
সেই পুকুর পাড়
ছোট্ট মেয়ে ছুট লাগাল
কাশবন পেরিয়ে পূব দিকের
মাঠ বরাবর,
মা ছুটল সাথে
দুরন্ত মেয়ে
মা নাগাল পায় না হাতে ।
হঠাৎ পা পিছলে
কাকলি পড়ল পাথরে
রক্তের স্রোত
মাথা থেকে পড়ল গড়িয়ে
ভিজল পথের ধুলো
লাল হয়ে গেল
গোধুলির আলো।
ডাক্তার বলল
অনেক রক্ত লাগবে
বিরল প্রজাতির রক্ত
মিলছে না কোথাও
সুকান্ত জানত
একই প্রজাতির রক্ত তারও
ডাক্তারকে বলল
'আমি দিতে পারি
যদি মিলে যায় রক্তের প্রজাতি। '
কাকলি আর সুকান্ত
দু'টি শয্যা পাশাপাশি
একজন দাতা
একজন গ্রহীতা
শরতের আকাশে তখন
পুঞ্জ পুঞ্জ সাদা মেঘ
উড়ন্ত পাখির ঝাঁক
বাতাস বইছে মন্দ মন্দ
মা আসছেন
চারিদিকে মিষ্টি শিউলির গন্ধ।


।। সমাপ্ত ।।

| Aleekpatamagazine.blogspot.in |
  | Editor: Swarup Chakraborty | Publisher: Debasree Chakraborty |
|ALEEK PATA-The Expressive World |Online Magazine |
|a DISHA-The Dreamer Initiative |
|Special Puja Issue,2019 | September-October, 2019 |
| Third Year Third Issue |20Th Edition|
|© All Rights Reserved By The Editor and The Publisher |




















ছোটদের গল্প-আরশোলাটা - শ্রাবণী গুপ্ত সরকার


আরশোলাটা

 শ্রাবণী গুপ্ত সরকার

Collage : Swarup Chakraborty


   সমস্যাটা অনেক দিনেরই। রম্যাণি যবে থেকে নতুন স্কুলে ভর্তি হয়েছে সেই তবে থেকেই। আসলে পুঁচকে রম্যাণি ওরফে টুয়াকে প্রথমে মায়ের স্কুলেই ভর্তি করানো হয়েছিল। মা ঐ স্কুলে ফাইভ থেকে টেন পর্যন্ত গার্লস স্কুলের দিদিমণি। একদিন সন্ধ্যাবেলা মা-বাবা টুয়াকে নিয়ে বসে নানারকম প্রশ্ন করতে করতে লাগলেন। কখনও নাম, বাবার নাম, বাড়ির ঠিকানা, তারপর কয়েকটা ছড়া বলতে বললেন। অতিষ্ঠ হয়ে টুয়া জানতে চাইল, “এসব কি হচ্ছে? আমি তো এগুলো জানিই”। মা বললেন,”বাঃ এবার তো বড় হচ্ছ, স্কুলে ভর্তি হতে হবে না?” পরের দিন  শীতের ভোরে টেনে তুলে তৈরি করিয়ে মা নিয়ে গেলেন তাঁদের স্কুলের নার্সারীতে। সেই স্কুলে নাম, বাড়ির ঠিকানা, কয়েকটা ছবি দেখিয়ে সেগুলো কি জিজ্ঞাসা করা, তারপর একটা ছড়া বলতে বলা হলো, শেষে একটা ট্রে ভর্তি চকোলেট সামনে ধরার পর টুয়া একটা তুলতেই সামনে বসা বড়দিদিমণি বললেন, “আরেকটা নাও”। মায়ের দিকে তাকিয়ে আরেকটা চকলেট  নিয়ে, মহানন্দে স্কুলে ভর্তি হয়ে হাসিমুখে বাড়ি ফিরেছিল টুয়া।  

   তারপর বাবার সাথে গিয়ে স্কুলড্রেস, বইপত্র, সুটকেশ সব কেনা বিরাট মজা। আর সেইসঙ্গে একটা চমৎকার রঙচঙে জলের বোতল। নাঃ টিফিন বক্স লাগতো না, স্কুল থেকেই সুন্দর টিফিন দেওয়ার ব্যবস্থা ছিল তো। কোনোদিন বিস্কুট আর মিষ্টি, কোনোদিন আলুসেদ্ধ আর ডিমসেদ্ধ অবশ্যই নুন গোলমরিচ ছড়িয়ে, কোনোদিন জিভে জল আনা আলুকাবলি, মাসে এক দিন মাংস আর পাঁউরুটি। কি মজার ছোট্ট ছোট্ট আলাদা ডেস্ক আর চেয়ার প্রত্যেকের। হ্যাঁ, অসুবিধা একটাই ছিল, টিফিনের আগে চোখ বুঁজে আরেকবার প্রার্থনা করা—টুয়ার খালি মনে হতো ওর খাবারটা বুঝি কেউ খেয়ে নিলো, আসলে সব ঠিকঠাকই থাকতো। 

   দুষ্টুমি তো করতোই কিন্তু বকা খাবে বুঝলেই পাঁই পাঁই করে ছুটে ঢুকে পড়তো মায়েদের বসার ঘরটায়। কি যেন নাম,ওই বসার ঘরটার? ও হ্যাঁ-স্টাফরুম। ওর পিছনে ছুটতেন নার্সারীর বেচারী দিদিমণিরা। ভুলিয়ে ভালিয়ে আবার নিয়ে যেতেন ক্লাসে।

   ক্লাস ওয়ানে গিয়ে চমৎকার লাল-সাদা ইউনিফর্মের বদলে হলো গাঢ় নীল স্কার্ট আর সাদা জামা। দিদিমণিদের সঙ্গে বেশ কজন রাগী মাষ্টারমশাই। দিদিমণিদের ভালো লাগলেও, বেশীর ভাগ মাষ্টারমশাইরা এমন বকা দিতেন, মোটেও পছন্দ হতো না ব্যাপারটা। তবে হ্যাঁ, মা তো ঐ স্কুলেই পড়ান বড়োদেরকে, কাজেই টুয়া এখন দুষ্টুমিগুলো কম করতো। বারে! বড়ো হচ্ছে তো না কি? এক আধদিন নামতা ভুলভাল হলেও শাস্তি টাস্তি পেতোই না। বেশ সুখেই কাটছিল ওর দিনগুলো। ও হ্যাঁ এখন অবশ্য বাড়ি থেকেই টিফিন নিয়ে যায়, একটা খুব মিষ্টি মতোন টিফিন বক্স করে।

   ক্লাস ফোরের অ্যানুয়াল পর অন্যান্য বছরের মতো বেড়ানো হলো না – বড়ো স্কুলে ভর্তির পরীক্ষা আছে না! তাই চিড়িয়াখানা যাওয়া, মিউজিয়াম বেড়ানো, মামার বাড়িতে গিয়ে থাকা সব বন্ধ। এখানকার অন্য একটা নামকরা স্কুলে ভর্তি করে দেবেন মা আর বাবা। মায়ের স্কুলে এখন নাকি আর পড়াটা ঠিক নয়। কেনরে বাবা, মা পড়াবে বলে? সে তো বাড়িতেও পড়ায়। বড়োদের যত সব প্যাঁচালো চিন্তা! 

        যাই হোক নতুন স্কুলে ভর্তি হলো রম্যাণি। এবার আকাশী সাদা ইউনিফর্ম। আর সুটকেশ না, এবার কাঁধে ঝোলানো ব্যাগ , সঙ্গে নতুন বই, টিফিন বাক্স, পেন, পেন্সিল বক্স আর জলের বোতল।  নাঃ, পুরোনো স্কুলের একজনও নেই। নেই তো নেই। প্রথম দিনেই বেশ বন্ধুত্ব হয়ে গেল অনেকের সঙ্গে। নতুন ক্লাসে প্রথম দিনে মায়ের সঙ্গে স্কুল এসেছিল টুয়া। নাচের স্কুলের পিয়ার মা এই স্কুলের দিদিমণি। তিনি এসে মায়ের সাথে কথা বলে, টুয়ার মাথায় হাত বুলিয়ে আদর করে দিলেন। আর একজন দিদিমণি রোগা মত রাগী রাগী চোখে পাশ দিয়ে যেতে গিয়েই মাকে দেখে অবাক হয়ে দাঁড়িয়ে পড়লেন ও জিজ্ঞাসা করলেন, “আরে দিদি, আপনি এখানে? মেয়ে কি এই স্কুলে ফাইভে ভর্তি হলো? খুব ভালো, আমি দেখে রাখলাম, খেয়াল রাখবো”। প্রণাম করে চলে যেতেই মায়ের আঁচল ধরে টানলো টুয়া। মা বললেন, “ আমাদের স্কুলের খুব ভালো মেয়ে গীতিকা। ও এই স্কুলে জীবন বিজ্ঞান পড়ায়। টুয়া মাকে জিজ্ঞাসা করল, “ বিজ্ঞান তো বিজ্ঞান--- জীবন বিজ্ঞানটা কি?” মা বললেন, “ পড়ো, সব জানতে পারবে”।     

   এ পর্যন্ত সবই ঠিক। ইতিহাসের দিদিমণিকে তো টুয়ার দারুণ পছন্দ। ভূগোল পড়ান পিয়ার মা মিলিদি। বেশ ভালো লাগে। অঙ্ক করান ঈশানীদি আর বিজ্ঞান শ্বেতাদি। বাংলা পড়ান প্রভাতীদি আর ইংরাজী শ্যামলীদি। স্কুলের সবাই খুব সম্মান করে বড়দি মায়াদিকে আর মেজদি(অ্যাসিন্টান্ট হেডমিস্ট্রেস) খুশিদিকে। আর সারা স্কুল ভয় পায় অঙ্কের মিত্রাদির চোখ পাকিয়ে তাকানো আর গীতিকাদির রাগকে। টুয়া শিঁটিয়ে থাকে থাকে এই বুঝি গীতিকার ক্লাস পড়লো আর ওর মায়ের কাছে নালিশ গেল। 

   ফাইভ, সিক্স পেরিয়ে ক্লাস সেভেনে পালে বাঘ পড়লো। একই সঙ্গে মিত্রাদির অঙ্ক আর গীতিকাদির জীবন বিজ্ঞান। টুয়া অঙ্কে কাঁচা, তবে মিত্রাদি খুবই ভালো অঙ্ক করান তাই ভয় পেলেও অসুবিধা হয় না খুব একটা। আর গীতিকাদিও চমৎকার পড়ান কিন্তু তার চেয়েও ভালো বকেন। ওনার ভয়ে টুয়া খুব যত্ন করে আঁকাগুলো তৈরী করে খাতায়।  

   একদিন গীতিকাদি আরশোলা পড়াতে গিয়ে ম্যান্ডেবল, ম্যাক্সিলা দেখানোর জন্য বলে দিলেন পরের দিন আরশোলা নিয়ে আসতে। এটা তো টুয়ার কাছে খুবই সোজা কাজ। পোকামাকড়ে ওর  কস্মিনকালেও ভয় নেই। খপাখপ ডেঁয়ো পিঁপড়ে, ফড়িং, উচ্চিংড়ে ধরে, আরশোলাও—এমন কি কায়দা করে শুঁয়োপোকাও ধরতে পারে। কাজেই একটা আরশোলা ধরে ঠাকুরমার জর্দার কৌটায় ভরে নিয়ে চললো স্কুলে।

   ক্লাসে এসেই গীতিকাদি বললেন, “কই, আরশোলা কই?” টুয়া সটান গিয়ে কৌটা খুলে টেবিলে ছেড়ে দিল। আরশোলাটাকে। এবার একটা কান্ড হল। চলমান আরশোলা দেখেই গীতিকাদি চেয়ার টেয়ার  উলটে দাঁড়িয়ে গেলেন দেওয়াল ঘেঁষে। “এটা তো জ্যান্ত”। “হ্যাঁ দিদি, হাওয়াই চটি দিয়ে মারলে তো ম্যান্ডেবল, ম্যাক্সিলা চেপ্টে যাবে। আর অন্য কি ভাবে মারবো জানি না তো”। “ওঃ!ওটাকে ধরলে কেমন করে?” এবার রম্যাণি খপ করে মুঠিতে ধরে বললো, “এই তো, এই রকম করে”।রীতিমত আঁতকে উঠলেন দিদিমণি।   “যাও, ওটাকে ফেলে হাত ধুয়ে এসো”। লক্ষী মেয়ের মতো কৌটো বন্দী করে আরশোলাটাকে মাঠ অবধি নিয়ে গিয়ে ছেড়ে দিল টুয়া। তারপর হাত ধুয়ে ক্লাসে। গীতিকাদি বললেন, “খুব সাহস তো তোমার”। এরপর থেকে গীতিকাদির রাগটা একটু কমল। কথায় কথায় বকেন না কাউকে। আর টুয়াও বাঁচলো। ভাগ্যিস সেদিন আরশোলাটাকে এনেছিল স্কুলে!   

    ঢং করে টিফিন শেষের ঘন্টাটা পড়তেই ছোটবেলার সুমধুর জগৎ থেকে বাস্তবে ফিরে এলেন রম্যাণি সেন—হ্যাঁ, সেই বিচ্ছু ছোট্ট মেয়েটা এখন তো নিজেই দিদিমণি। তবে স্কুলের শিক্ষাটা সে মনে রেখেছে। সব সময় হাসি মুখে থাকার অভ্যাসটা করে নিয়েছে। নিজের মেজাজ খারাপ রেখে জীবনকে উপেক্ষা করার মানসিকতা তার একদমই তৈরী হয় নি। ছোটবেলাটাকে সযত্নে ধরে রেখেছে বুকের মধ্যে। কাজেই এই দ্বিতীয় বিদ্যালয় জীবন রম্যাণি চুটিয়ে উপভোগ করে চলেছে।     


।। সমাপ্ত ।।

| Aleekpatamagazine.blogspot.in |
  | Editor: Swarup Chakraborty | Publisher: Debasree Chakraborty |
|ALEEK PATA-The Expressive World |Online Magazine |
|a DISHA-The Dreamer Initiative |
|Special Puja Issue,2019 | September-October, 2019 |
| Third Year Third Issue |20Th Edition|
|© All Rights Reserved By The Editor and The Publisher |





















ছোটদের গল্প-একজন দাদুর গল্প- সহেলী চট্টোপাধ্যায়


একজন দাদুর গল্প

সহেলী চট্টোপাধ্যায়

Image Courtesy: Google Image Gallery Collage: Swarup Chakraborty

রুবিকের মাঝে মাঝে মামার বাড়ি অসহ্য লাগে। পড়াশোনা করতে এমনিতেই ভাল লাগে না। তারওপর রয়েছে দাদুর খিচখিচ। দাদু তো ওকে টিভি দেখতেই দেন না। স্কুল থেকে ফিরে দুপুরে খেতে খেতে একটু যা ডোরেমন দেখা শুধু এলাউ। একঘন্টা যেই হয়ে যাবে অমনি মিলিমাসি এসে টিভি বন্ধ করে দিয়ে যাবে। বলবে এবার রেস্ট নাও রুবিক। নইলে দাদু বকবে তোমাকে।
টিভি দেখতে দেখতে রুবিক এক এক দিন ঘুমিয়েও পড়ে। দাদু আর দিদার কড়া নজর থাকে। মিলিমাসির ওপর। মা তো সেই সকালে বেরিয়ে যান ফেরেন অনেক রাত করে। বাবা বিদেশে থাকেন। ফোন আর হোয়াটস এপ এ ভিডিও কল করেন ছুটির দিনগুলো। দিদা রুবিককে অনেক ছাড় দিলেও দাদুর নিয়ম বেশ কড়া। এক ঘন্টার বেশি রুবিককে কিছুতেই টিভি দেখতে দেবেন না। রুবিকের ক্লাসের বন্ধুরা কত টিভি দেখে মোবাইলে ক্যাণ্ডি ক্রাশ খেলে আরও কত রকম গেম খেলে সেই সব গল্প ক্লাসে এসে শোনায়। রুবিকের ও খুব ইচ্ছা হয় এসব খেলতে কিন্তু দাদুর জন্য কিছু করতে পারে না। কম্পিউটারে বসলেও বেশিক্ষণ গেম খেলার সুযোগ পায় না। দাদু ও তক্কেতক্কে থাকেন। একঘন্টা পর এসে ঠিক রুবিককে তুলে দেন। কখনও বলেন আমার সঙ্গে বেড়াতে যাবি?
রুবিক লাফিয়ে ওঠে। দাদুর হাত ধরে বেড়াতে যাওয়ার সময়টা ওর খুব ভাল লাগে। দাদু ওকে নিয়ে অনেক হাঁটেন। রিক্সা বা টোটো চড়তে চান না চট করে। রুবিকেরও হাঁটতে ভালই লাগে। কখনও ওরা গঙ্গার ঘাটে চলে যায়। কখনও কোনো মন্দির। দাদু খুব ভাল গল্প বলতে পারেন। ফিঙ্গে আর কুঁকড়োর গল্প, ঘ্যাঁঘ্যাসুর এর গল্প বারবার শুনতে চায়। কখনও হাঁটতে হাঁটতে পুরানো কোন বাড়ির সামনে চলে আসে তারা। কখনও মেলা। কখনও বা বাজার। দাদু দরদাম করে। রুবিক সব কিছু লক্ষ্য করে। ফলওয়ালা থেকে সব্জিওয়ালা সবাইকে ও খুব খুঁটিয়ে লক্ষ্য করে। দাদু একটা দারুণ জিনিস তাকে দেখিয়েছেন। একটা বকুল গাছ। ছোট্ট ছোট্ট সাদা ফুলে ভর্তি গাছ। কি মিষ্টি গন্ধ! গাছে আবার লম্বা লম্বা ছোট ছোট ফল ও হয়। তবে খাওয়া যায় না। গাছতলাটা ফুলে ফলে ভর্তি হয়ে থাকে। রুবিক তার ছোট্ট হাত বাড়িয়ে কুড়িয়ে নেয় আর নিজের প্যান্টের পকেট ভর্তি করে নেয়। বাড়ি গিয়ে সে একটা ছোট বাটিতে ফুলগুলো রেখে  অল্প জল ঢেলে দেয়। বাটিটা নিজের পড়ার টেবিলে রেখে দেয়। মিষ্টি গন্ধে ঘরটা কেমন স্নিগ্ধ হয়ে থাকে। দাদু ছাদে কিছু টবে জুই, বেল, গন্ধরাজ, কামিনী বসিয়েছেন। শীত কালে গোলাপ, গাঁদা, চন্দ্রমল্লিকাও করেন। রুবিকের বেশি পছন্দ গরমকালের ফুল। কারণ গরমের ফুলের গন্ধ বেশি হয়। দাদু বাগানে কৃষ্ণচূড়া, কাগজ, শিরিষ, কদম, অশোক, আম, জাম, পেয়ারা, বাতাবি লেবু কাঁঠাল,দেবদারু হেন গাছ নেই করেননি। গাছগাছালি থাকার জন্য প্রচুর পাখির ও আনাগোনা হয়। হরিয়াল, কুবো, বেণেবৌ, টুনটুনি, রঙ্গিন কাঠঠোকরা, বসন্তবৌরি সব সময় ডাকাডাকি করে। রুবিকের মনটা ভালই লাগে। অনেক মনখারাপ কেটে যায় পাখির ডাক শুনলে। দাদু প্রচুর কাজ করেন।  অন্য সময় হোমিওপ্যাথি চর্চা করেন। বাজার দোকান, ঠাকুরপুজো, রুবিককে নিয়ে বিকেলে বেড়াতে যাওয়া, পড়তে বসানো সবই করেন। রুবিককে লাইব্রেরীর কার্ড ও করিয়ে দিয়েছেন। ও পছন্দ মত বই পড়তে পারে। টিভি আর ফোন নিয়ে ওকে পড়ে থাকতে দেখলেই দাদু চটে যান। এই নিয়েই দাদুর সঙ্গে যত অশান্তি। মাকে বললে কোন লাভ হয় না। টিভি দেখাটা ভাল নয় এটাই শুনতে হয়।


পুজোর সময় বিশাল চাপের মুখে থাকেন সুলেখক অরিজিত রায়। ছোটোদের বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় নিয়মিত লিখতে হয় অরিজিতকে। স্কুলের শিক্ষকতার ফাঁকে-ফাঁকে গল্প ছড়া লেখার কাজটা করতে ভালই লাগে। অরিজিত আজও টিভি দেখতে পারে না। বেশিক্ষণ কিছুতেই মন দিতে পারে না। আজ ও যেন দাদুর রাগী রাগী চোখ দুটো অনুভব করে নিজের মনের গভীরে। মোবাইলে ভিডিও ও দেখতে পারে না। অথচ ওর কলিগরা মোবাইলে ভিডিও দেখে দেখে ঘন্টার পর ঘন্টা দিব্যি কাটিয়ে দেয়। প্রযুক্তি খারাপ নয় তবে খুব সাবধানে একে ব্যাবহার করতে হয়। ইউটিউব থেকে ও অনেক রান্নাও শিখেছে। বিভিন্ন য়েব ম্যাগে নিয়মিত লেখে এবং পড়ে। অরিজিতের পড়ার নেশা প্রবল। বাড়ির বাগানে আজও নানা রকম গাছ বসিয়েছে ও। দাদুর সঙ্গে বসে যে গাছগুলো লাগিয়েছিল সেসব গাছ এখন অনেক বড় হয়ে গেছে। নিজের মনে সে অনেকক্ষণ ঘুরে বেড়ায় বাগানে। পাখির ডাক শোনে। বেশিক্ষণ মানুষের সঙ্গ তার ভালো লাগে না।  প্রকৃতি একজন মানুষের মনের কল্পনাশক্তিকে অনেক বেশি উর্বর করে। ডিজিট্যাল বিনোদন সেই আনন্দ কাউকে দিতে পারে না। এটা অরিজিত মনে করে। কিছু লোক তাকে পাগল মনে করে। একা একা একটা বাড়িতে গাছপালা আর বইপত্র নিয়ে যে পড়ে আছে সে তো পাগলই।
  মাঝে মাঝে নিজেকে খুব অসামাজিক মনে হয়। দাদুই তার বারটা বাজিয়েছে। আবার কখনও মনে হয় নাহ জীবনটা বেশ কেটে যাচ্ছে। এইভাবে ভাল থাকতে কজন পারে। ছোটবেলা থেকেই সে যদি টিভি ভিডিও গেম বা মোবাইলের এর  নেশা করে ফেলত তাহলে আর লেখক হয়ে ওঠা তার পক্ষে সম্ভব হত না। বুঝতেও পারত না জীবন এত রঙ্গীন হতে পারে।

।। সমাপ্ত ।।

| Aleekpatamagazine.blogspot.in |
  | Editor: Swarup Chakraborty | Publisher: Debasree Chakraborty |
|ALEEK PATA-The Expressive World |Online Magazine |
|a DISHA-The Dreamer Initiative |
|Special Puja Issue,2019 | September-October, 2019 |
| Third Year Third Issue |20Th Edition|
|© All Rights Reserved By The Editor and The Publisher |






















Main Menu Bar



অলীকপাতার শারদ সংখ্যা ১৪২৯ প্রকাশিত, পড়তে ক্লিক করুন "Current Issue" ট্যাব টিতে , সবাইকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা

Signature Video



অলীকপাতার সংখ্যা পড়ার জন্য ক্লিক করুন 'Current Issue' Tab এ, পুরাতন সংখ্যা পড়ার জন্য 'লাইব্রেরী' ট্যাব ক্লিক করুন। লেখা পাঠান aleekpata@gmail.com এই ঠিকানায়, অকারণেও প্রশ্ন করতে পারেন responsealeekpata@gmail.com এই ঠিকানায় অথবা আমাদের ফেসবুক গ্রুপে।

অলীক পাতায় লেখা পাঠান