অলীক পাতার অন্যান্য সংখ্যা- পড়তে হলে ক্লিক করুন Library ট্যাব টি



। । "অলীক পাতা শারদ সংখ্যা ১৪৩১ আসছে এই মহালয়াতে। । লেখা পাঠানোর শেষ তারিখ ১৫ ই আগস্ট রাত ১২ টা ।.."বিশদে জানতে ক্লিক করুন " Notice Board ট্যাব টিতে"

Wednesday, October 2, 2019

কবিতা-সম্মোহনী মুখোশ -সম্পা দত্ত দে


সম্মোহনী মুখোশ
সম্পা দত্ত দে
Image Courtesy: Google Image Gallery

অগোছালো এক অস্থির সময়,
সময়োপযোগী মুখোশগুলো গুছিয়ে রাখি ।
বাম অলিন্দের রক্তাক্ত মোড়কে।
সময় ফুরিয়ে যায় কথা'রা অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে।
আমি অরণ্য ছুঁয়ে ছুঁয়ে আস্ত দুপুর বুনি।

বহুরুপী মুখোশটা খুলে হাতে নিয়ে,
গভীর জঙ্গলে ঢুকে পড়ি
গাছেদের ফিসফিস কথা প্রতিধ্বনিত হচ্ছে
জারুল কৃষ্ণচূড়া'র 
সহবাস চিহ্নদাগ মাটিতে লুটিয়ে পড়ে আর্তনাদ করে।
শত আলোকবর্ষ দূরে কোনো আলোকবর্তিকা'র দিকে হেঁটে চলি সম্মোহিত আমি একা।

দিগন্ত রেখায় সূর্যাস্তের পর সন্ধ্যে নামলে,
মুখোশ ভীষণ ভাবে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠে।

করাতকলে ঠিকরে পড়ছে নক্ষত্রপুঞ্জের গলিত লাভা।
মুখ আর মুখোশের অন্তর্দ্বন্দ্বে,মুখোশেরা রণক্লান্ত।

নিজের ছায়ামূর্তি জলছবি হয়ে একপেশে পূর্ণ অবয়ব ধারণ করে।
আমি আরো একবার অন্য এক মুখোশ পরে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠি।


।। সমাপ্ত ।।

| Aleekpatamagazine.blogspot.in |
  | Editor: Swarup Chakraborty | Publisher: Debasree Chakraborty |
|ALEEK PATA-The Expressive World |Online Magazine |
|a DISHA-The Dreamer Initiative |
|Special Puja Issue,2019 | September-October, 2019 |
| Third Year Third Issue |20Th Edition|
|© All Rights Reserved By The Editor and The Publisher |





























ভ্রমণ- সাগরপারের কারাগার সেলুলার -কৃষ্ণা সাহা


আমার চোখে সাগরপারের কারাগার 
সেলুলার

কৃষ্ণা সাহা

Photo Courtesy : Writer:: Edited by  Swarup Chakraborty

ছোট বেলায় ভূগোল পড়ে ভাবতাম, আন্দামান একটা দ্বীপ যেখানে সেলুলার জেল আছে,আর কেউ সেখানে গেলেই তাকে জেলে ঢুকিয়ে অত্যাচার করা হয়।বড় হবার পর ভুল ধারণাটা ভেঙ্গে গেলেও মনের গভীরে ভয়টা যেনো রয়েই গিয়েছিল । আর সেটার প্রমাণ পেলাম আন্দামান পৌঁছানোর কয়েক মূহুর্ত আগেই। আকাশ থেকে তাকে দেখে কিন্তু এটাই মনে হয়েছিল স্বপ্নের দেশ।
সেলুলার জেল-ঔপনিবেশিক কারাগার বা কালাপানি। ভারতের আন্দামান দ্বীপপুঞ্জে অবস্থিত একটি বহুল আলোচিত একটি কারাগার। ১৯০৬ সালেএই কারাগারটি নির্মাণ সম্পন্ন হয়। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ-বটুকেশ্বর দত্ত, উল্লাসকর দত্ত  ও বিনায়ক দামোদর সাভারকার এবং আরো অনেককে এই কারাগারের দীর্ঘদিন বন্দী করে রাখা হয়েছিল। এখন এই দালানটি জাতীয় স্মারক হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে।
         বিপ্লবের অগ্নিযুগের প্রচারের প্রথমসারিতে এলেও দ্বীপান্তর শুরু হয়েছিল সিপাহী বিদ্রোহের পরেই। গ্রেট ব্রিটেনের জন্য দ্বীপান্তর ছিলো অস্ট্রেলিয়ায়। নুতন উপনিবেশ স্থাপনের সময় ব্রিটিশরা এক সঙ্গে দ্বীপান্তরও খুঁজে রাখতো। ভারতের জন্য তাদের সেই অনুসন্ধান ছিলো আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ।    
বাংলা তথা ভারতে যখন ব্রিটিশ বনিকদের মানদন্ড ধীরে ধীরে রাজদন্ড হয়ে গেছে। ততদিনে কালাপানি পেরিয়ে দ্বীপান্তরে নির্বাসিত হয়ে গেছে বহু বন্দী। মূলত, কুখ্যাত অপরাধীদের জন্য এই দ্বীপ নির্ধারিত হয়েছিলো, কিন্তু ঠগী,ফাঁসুড়ে ডাকাতদের বদলে এই দ্বীপ হয়ে উঠলো ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনকারীদের বন্দী বাস।
সিপাহী বিদ্রোহের পরবর্তী সময়ে অন্তত ২০০ জন বিদ্রোহীকে পাঠানো হয়েছিল। সিপাহী বিদ্রোহের সময়ে যাঁরা সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ জাফরের কাছে পিটিশন দায়ের করেছিলেন তাদেরকেও নির্বাসিত হতে হয়েছিল কালাপানি পেরিয়ে সুদূর আন্দোলনে।
এই দ্বীপকে বাছার পিছনে অনেক যুক্তি ছিলো ব্রিটিশদের।সেই সময়ে এই দুর্গম বিপদসংকুল দ্বীপে জীবন ধারণ ছিলো অসম্ভবের নামান্তর। তাছাড়া এখান থেকে পালানো ছিলো অত্যন্ত কঠিন।আর যদিও বা পালানো সম্ভব হতো, কালাপানি ফেরত ব্যাক্তিকে গ্রহনে তখন প্রস্তুত ছিলোনা হিন্দু সমাজ।
Photo Courtesy : Writer:: Edited by  Swarup Chakraborty

দ্বীপান্তরে নির্বাসিত বন্দী ভার সামলাতে কারাগার নির্মাণ ছাড়া আর পথ ছিলোনা ব্রিটিশদের। ১৮৯৬ থেকে ১৯০৬ ,দশ বছর ধরে নির্মিত হয়েছিল সেলুলার জেল। বার্মা থেকে আনা ইট দিয়ে গাঁথা হয়েছিল শোষনের এই স্মারককে। নির্মমতার প্রতীক এই জেলের সেল থেকেই এর নাম করন হয় " সেলুলার ।
সাইকেলের চাকার যেমন স্পোক হয় তেমনি এই কারাগারের সাতটি বাহু। প্রতিটি
তিনতলা। সারিবদ্ধ সেলগুলোকে ঘুপচি ঘর বললেও কম বলা হবে।এমন ভাবে ৬৯৩টি
সেল বানানো হয়েছিলো।বহু উঁচুতে থাকতো একটা ঘুলঘুলি।আলো আসতো নামমাত্র।
এরকম পেলে একা একা থাকতে হতো বন্দীদের,যাতে কেউ কারো মুখ দেখতে না পায়। সারাদিন কঠোর পরিশ্রম , অকথ্য অত্যাচারের মধ্যে তাদের দিন কাটতো। খাবার
হিসেবে যা দেওয়া হতো তা এককথায় পরিমাণে সামান্য ও অখাদ্য। নির্মমতার এখানেই শেষ নয়। সূর্যাস্তের পর থেকে ১২ঘন্টা প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে পারতেন না বন্দীরা। অপেক্ষা করতে হতো পরদিন সূর্যোদয় অবধি।
বন্দীরা কোনো সংবাদপত্র হাতে পেতো না, চিঠিপত্র এলে বারবার পরীক্ষা করা হতো। বহু বন্দী উন্মাদ হয়েও যেতেন। এই কারাগারের অত্যাচারের কথা বলে শেষ করা যাবে না। লাহোর ষড়যন্ত্র মামলায় বন্দী হলেন ভগৎ সিং এর সঙ্গী মহাবীর সিং। জেলের অবস্থা নিয়ে সোচ্চার হয়েছিলেন মহাবীর, শুরু করেছিলেন অনশন আন্দোলন। তাঁর অনশন ভঙ্গ করতে ব্রিটিশ প্রশাসন তাঁর মুখে জোর করে দুধ ঢেলে দেয়।সেই দুধ তাঁর ফুসফুসে প্রবেশ করে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান মহাবীর। তারপর তার দেহ পাথরে বেঁধে
ছুড়ে ফেলা হয় সমুদ্রে, কালাপানিতে।
সবকিছুর পরও কালাপানি ছিলো স্বাধীনতা সংগ্রামীদের কাছে পূণ্যভূমি। নিজেদের বর্তমান ওখানে সমর্পন করে তাঁরা চেয়েছিলেন দেশবাসীর ভবিষ্যত সুরক্ষিত করতে।



।। সমাপ্ত ।।

| Aleekpatamagazine.blogspot.in |
  | Editor: Swarup Chakraborty | Publisher: Debasree Chakraborty |
|ALEEK PATA-The Expressive World |Online Magazine |
|a DISHA-The Dreamer Initiative |
|Special Puja Issue,2019 | September-October, 2019 |
| Third Year Third Issue |20Th Edition|
|© All Rights Reserved By The Editor and The Publisher |






























অল্প স্বল্প গল্প-অবান্তর কথা -দ্বৈতা হাজরা গোস্বামী


অবান্তর কথা

দ্বৈতা হাজরা গোস্বামী



নেই নেই নেই

Image Courtesy: Google Image Gallery

জীবনটা নেই নেই নেই করে কেটে গেলো। কী মধ্যবিত্তের জীবন , কী বড়লোকের জীবন। চাল নেই , ডাল নেই , প্রেম নেই , চাকরি নেই , চাকরি আছে প্রমোশন নেই , 
ছোটবেলায় দেখেছি নেই কথাটা বলতো না মা,জেঠিমারা । বলতো বাড়ন্ত। রান্না ঘরের মাথায় লেখা থাকতো "অন্নপূর্ণার পূর্ণ ভাণ্ডার " যেন ম্যাজিক শব্দ। গরীবের ঘরে গেলেও কেউ কিছু না খেয়ে ফিরে যেত না। অন্তত মুড়ি বাতাসা , নাড়ু মুড়কি , গুড়ের পাটালি , লেবু চিনি শরবত। এখন কারোর বাড়িতে গেলেই
কী খাবেন ? গরম না ঠাণ্ডা ? দুধ ছাড়া না দুধ যুক্ত , সুগার আছে না নেই ?
তারপর এলো বিশাল একখানা মগে সবুজ চা। খুব স্বাস্থ্যকর এবং বিস্বাদ। এক চুমুকেই খিদে মেরে দেবে। আস্তে আস্তে চুমুক দিয়ে মনে মনে শপথ "আর কোনোদিন আসি ?" 
আসলে গাঁয়ের লোককে নেমন্তন্ন  করার অনেক জ্বালা।  এটিকেট , এলিগেন্স , এজুকেশন , " ই " দিয়ে শুরু কোনো কিছুই নেই। মেপে খেতে পারেনা , চেপে হাসতে পারেনা। বিড়াল ডিঙোনো ভাত খায় , মানে বিড়াল ডিঙোতে গিয়েও পারবেনা, মুখ থুবড়ে পড়ে যাবে। কিন্তু এসব কথা বলা চলবেনা। গরীব লোকের সব আছে। রাগ আছে , ঘুম আছে , সেন্টিমেন্ট আছে, পাকস্থলী শুকিয়ে যায়নি , মুখ হাঁ করা খিদে আছে।
বড়লোকের ফেসবুক আছে। জীবন আসলে ততটাও রোমান্টিক নয় যতটা ফেসবুকে দেখায়।
জীবন যাপনে মধ্যবিত্ত , বাইরে বড়লোক , আদতে ছোটোলোক। জীবনে প্রেম নেই ,প্রেম খুঁজতে চলো সুইজারল্যান্ডে। হাতে হাত ধরে ছবি। মেড ফর ইচ আদার।
ইনবক্সে , এতো ভালো ছবি দিলাম লাইক করলিনা ? লাভ দিতে হবে। তুমি আমার ছবিতে লাভ না দিলে তোমাকে জীবনে রেখে কী লাভ? 
ভালোবেসে ট্যাগ করেছে , ত্যাগালে অভিমান। 
এখনকার দিনে খুব সহজেই ত্যাজ্যপুত্র , ত্যাজ্য ভাইপো , ত্যাজ্য বাপ করা যায়। ব্লক করে দিলেই হলো। বক বক করলেই ধরে ব্লক করে দিতে হয়। মানুষ এখন বেশি জ্ঞান পছন্দ করে না। জন্মথেকেই স্মার্টফোনে স্মার্ট ,  গুগল সব গুলে খাইয়ে দিচ্ছে। মানুষকে কিছু জিজ্ঞেস করতে গেলেও তেড়িয়া। "গুগুল আছে তো , শুধুশুধু বিরক্ত করেন ক্যান ?"
বিরক্ত না করে অনুরক্ত হন , রক্তের কেউ হলে তো আরও সমস্যার। বাড়বাড়ন্ত দেখলেই রক্ত গরম। আমার নেই , ওর আছে , ওর হচ্ছে , ও পাচ্ছে , আমারই বাড়ির লোক অথচ আমি প্রমোশন পেলে কোনো সাড় নেই। বসের শালার প্রমোশনে লাভ দিচ্ছে , গলাগলি ছবি দিচ্ছে যেন "পিছলে জনম কা বিছড়া হুয়া" ,
 জেলাসি আর জেলুসিল বাঙালির নিত্য সঙ্গী। এখন অবশ্য মধ্যবিত্ত বাঙালি খুব স্বাস্থ্যসচেতন। ঘুম থেকে উঠে হাঁটে , সারাদিন সবুজ চা , সন্ধেয় হলুদ চা , রাতে লাল চা , মনটা শুধু চা চা চা , চাই চাই চাই করে।
জামা চাই , শাড়ি চাই , বাড়ি চাই , গাড়ি চাই , খ্যাতি চাই , ফিগার চাই , কোটি টাকার বিয়ে চাই , ভিরুশকা , নিকিয়াঙ্কা , দীপভীর, গরীবের নামে কি  এসব সম্ভব ? কানাই মালতী, মালকানা হয়ে তালকানা।
বিয়ের আগে প্রেম চাই , প্রেম করছি , বিয়ে করবো করবো করছি , বিয়ে করে ফেলেছি , প্রেম ধরে ফেলেছি , প্রত্যেকটার আলাদা ফটোশুট, না হলে মন খারাপ , মন খারাপ কাটছেই না।  
সব আছে , সব আছে , কী যেন নেই নেই , কথা বলার , কথা শোনার মানুষটা নেই।


পৃথিবী একটা বিশাল বাজার

Image Courtesy: Google Image Gallery


পৃথিবী একটা বিশাল বাজার আর মানুষ হলো তার প্রোডাক্ট।
এক একটা মানুষ একেকটা ব্র্যান্ডের। ব্র্যান্ড না থাকলে মানুষই নয়। পদার্থ ব্র্যান্ড , অপদার্থ ব্র্যান্ড , গুরু ব্র্যান্ড , শিষ্য ব্র্যান্ড, নিজের ব্র্যান্ড চেনাও , বাজারে দাম বাড়বে হু হু করে। কিন্তু পাল্টি খেলে কী  হবে বলা মুশকিল।
সারাজীবন কুচুটে শাশুড়ির রোল করে শেষে সর্বংসহা বিধবা মায়ের রোল করলে মোটেই পাবলিক মেনে নেবে না।
মিষ্টি মেয়ে ব্র্যান্ডের নরম মেয়েরা সারাজীবন মার খেয়েও দু’ একটা গাল দেবে না কিছুতেই। ওসব ভাষা তাদের মুখে মানায় না। ওই ভাবমূর্তি  সারাজীবন ধরে রেখে এগোতে হবে।
পৃথিবীতে এসেছো মানেই তুমি কিছু একটা করবে।
 "পেট চিন্তা চমৎকার " গরিবের ঘরে জন্মালে ওতেই সময় কেটে যাবে একটুও বোর লাগবে না  , বড়লোকের ঘরে জন্মালে শুরুতেই ওই চিন্তা নেই।   কমলা , বেদানা, আঙ্গুর পিস্ পিস্ করে পিষে পিষে  খাওয়ানো হবে যাতে  রক্ত হয় , বড় চাকরী করে বাবা মায়ের প্রতি রক্তের টান থাকে। সেই টানে পাঁচ, দশ বছরে একবার বাড়ি ফিরে  এসে বলে -" কী নোংরা জায়গা, এখানে থাকা যায়না "
 দুঃস্বপ্ন দেখে ভারতেই  মৃত্যু হচ্ছে অজানা ভাইরাসের আক্রমণে , পচা হসপিটালে , বিনা চিকিৎসায়।
"সেই দেশেতেই মরি " কী আল্হাদ, জন্মভূমি অব্দি ঠিক আছে।
গরীব মানুষের গায়ে রক্তের বদলে জল। খেটে খেটে রক্ত জল কী সাধে বলে ? ছোটবেলায় এক কাপ দুধে তিন কাপ জল মিশিয়ে খেয়েছিলো। জলের ধারে বস্তি , মশার আখড়া। মরেও গেলো  জলাতঙ্কে , জলবসন্তে ,বন্যার জলে ডুবে। রক্তে আয়রন নেই শুধুই আয়রনি।
অর্থাৎ সস্তার প্রোডাক্ট। বেশিদিন টিকলো না। আবার স্টেশনে নব্বই বছরের বুড়ি ভিখিরি। কুঁজো হয়ে গেছে।  দিব্যি চলে ফিরে বেড়াচ্ছে আর ঘরের বুড়িটা সত্তরেই নেতিয়ে পড়েছে।বড্ড বেশি পরনির্ভরশীল। ছেলেমেয়ের মুখ চেয়েই তো বুড়ো হওয়ার স্বপ্ন দেখেছে। বুড়ো বয়সে সুখ ভোগ করবে বলে মধ্যবিত্ত বাপ মা সারাজীবন পয়সা জমায়। খেটে খেটে হাড় কালি , রাতে ফাটা গোড়ালিতে বোরোলীন।
ওরা বড় হলে সংসারের চিন্তা নেই , এন্তার ঘুরবে। ষাট পেরোতেই খাট , বাষট্টি তে বাত। এতদিন শরীরের কথা ভাবোনি , শরীর তো ছেড়ে কথা বলবে না। ভালো ব্র্যান্ডের বিদেশে চাকুরী ছেলে মেয়ে তো তোমরাই চেয়েছিলে ?
অপদার্থ ভাইপোটি তবু খোঁজ খবর নেয়। নিশ্চয় কিছু ধান্দা আছে। বুড়োর তোষকের নিচে টাকার গাদি।
যাই  হোক শেষ  বেলায় মুখে জল তো সেই দিয়েছে। ক্লাস ফাইভ অব্দি পড়া  মুদির দোকানি।

গুরুজীর একটু ঠেলা লাগে

Image Courtesy: Google Image Gallery


আমরা সবাই এখন একটা দোলাচলে,  করবো? না  করবোনা ?
যাবো?  না  যাবো না , দুলেই চলেছি দুলেই চলেছি।
পাশ আর ফেল এর মাঝের দড়িতে হনুমানের মতো ঝুলে দোল খাচ্ছি।ইন্টারভিউটা হতে হতেও হলোনা।
অথচ উত্তর সব ঠিক ছিল , ইন্টারভিউ কর্তার গোঁফের আড়ালে পইরটের মতো হাসি ছিল। কিন্তু চাকরিটা হলো না।
ওভার কোয়ালিফায়েড। বড় বেশি পড়ে ফেলেছেন। জেনে ফেলেছেন ফালতু ফালতু। এই কাজে এতো জানার দরকার নেই। শুধু গলার জোর বেশি চাই। ঐরকম ফ্যাঁসফেঁসে গলায় ওদের শাসন করা যাবে না।
ক্লাসে বাঁদরের চাষ হয়। চেহারাটাও একটু দজ্জাল না হলে টিকতে পারবেন না।
বিয়ের বাজারে মেয়ে লিস্ট মিলিয়ে বিয়ে করছে। এক্সেল শিট রেখেছে- ঝন্টুর স্যালারি , পিন্টুর স্যালারি পাশাপাশি , পিন্টুর রোজগার বেশি , কিন্তু ঝন্টু বেশি হ্যান্ডসাম , পিন্টুর পেটের রোগ , ঝন্টুর বাবার সম্পত্তি ,
হিসেব কষে যাচ্ছে , অংকে মাথা ছিল একটুর জন্য অনার্সে ফেল। কিন্তু এও এক দোলাচল। এ কী উনিশ বছরের কচি বয়সে ফস করে বিয়ে করে নেওয়া নাকি ?

বয়স আরও উনিশ পেরিয়ে পাকা মাথা।
পাকা মাথায় বিয়ে না করাই উচিত। মা কাকিমাদের অবস্থা দেখলেই ইরিটেশন হয়। সারাজীবনে কী পেলো ? একবার ভেবেও দেখলো না। সংসার সংসার খেলতে খেলতে দিনগুলো কেটে গেলো।
 আইডেন্টিটি চাই , আইডেন্টিটি চাই , সাধারণের মাঝে অসাধারণ , ট্যালেন্ট সবার থাকে না। যাদের থাকে গোঁফ ওঠার আগেই হাওয়া। জেঠুরা মাথা নেড়ে বলে -" ট্যালেন্ট ছিল ছেলেটার মধ্যে ,বখে গেলো।"
বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে বখে গেলো।
-কী করে ?
-টিউশন পড়ায় , আর সামান্য লেখালিখি।
-কবিতা লেখাই কাল হলো।
-সে আর বলতে ? কবি আর কাঙাল সমগোত্রীয়।
-ওর দুঃখের কথা কে শোনে ?
বটতলায় বসে থাকা দার্শনিক ছাগল অথবা বিচালি বাবা। সারাদিন বিচালি খেয়ে থাকেন একটুও বিচলিত হন না।
 সাফল্য হাতের মুঠোয় এসেও ফাঁক গলে বেরিয়ে যাচ্ছে ? কেন এমন হয় ?
-হয় হয়, দাড়ি চুলকে বাবা বলবেন -" এরকমই হয় এই ভবসংসারে , এই মায়াপ্রপঞ্চে " শুধু গুরুজীর একটু ঠেলা লাগে। নৌকোটা ধরে একটু ঠেলে দেবেন। আবার দুলতে দুলতে চলতে শুরু করবে।
যাদের ওই ঠেলে দেওয়ার লোক নেই তারা নিজের মতো ধাক্কা খেতে খেতে চললো


 
রাইটার্স ব্লকের বিপরীত

Image Courtesy: Google Image Gallery

লেখকের কলম দিয়ে কর্পোরেশনের জলের মতো হুড়হুড় করে লেখা আসছে। দিনে লিখছেন , রাতে লিখছেন , খেতে খেতে লিখছেন , বাসে ট্রামে অটোতে সর্বত্র লিখে যাচ্ছেন। এ হলো রাইটার্স ব্লকের বিপরীত অবস্থা। ব্রেনে জমে থাকা জমাট অনুভূতি গুলো বরফ গলা জলের মতো নিচে নামছে। কী করে এমন হলো ? প্রকাশকদের তাড়নায় গতবছর পুজোর পর থেকেই এই অবস্থা। যা ইচ্ছে তাই লিখছেন , পছন্দ না হলে দাঁত কিড়মিড় করে ছুঁড়ে ফেলছেন। ভালো লাগলে ধেই ধেই করে নেচে উঠছেন। লেখক মাত্রই জানে যে লেখক হওয়া কী অসম্ভব কঠিন ব্যাপার। ভৌতিক উপন্যাস লেখার সময় মাথায় চোদ্দ ভূতে ভর করে। রাতের বেলা আওয়াজ পাল্টে যাচ্ছে। বাড়ির লোকজন তটস্থ। খোনা ভাষায় বলছেন -" খেঁতে দাঁও, শুঁতে যাবো , বুঁলটি পঁড়তে বস "
বুল্টি তো দাঁতে দাঁত লেগে চিঁ চিঁ করছে। বুল্টির মা বিপদতারিনীর সুতো বাঁধছে। কিন্তু লেখার ভূত কী এতো সহজে যায় ?
গোয়েন্দা গল্প লিখছেন , সারাক্ষণ চোখ সরু করে ভাবছেন। বুল্টি আর বুল্টির মা কে জেরা করছেন। ভর দুপুরে কোথায় যাওয়া হয়েছিল? পার্লারের রাস্তায় কাদা , কিন্তু জুতোতে তো কাদা নেই ? উড়ে উড়ে গিয়েছিলে নাকি ?
তৃতীয় মাছের মুড়ো  কোথায় গেলো ?   পেটি থাকলে মুড়ো তো  থাকতেই হবে। স্কন্ধকাটা মাছ তো আর নয়।
- মুড়ো ছ্যাঁচড়া তে গেছে।
-" ছ্যাঁচড়াই তবে ভিলেন কালপ্রিট। ওকে পাতায় তুলে শাস্তি দেওয়া হোক।"
কল্পবিজ্ঞান লিখতে লিখতে ভাবছেন জানলার পাশের টিকটিকিটা টিকটিকি না অন্য কিছু। মানদা মাসি কিরকম রোবটের মতো কাজ করে। সব কথার একই রকম জবাব দেয়।ঘুমন্ত  শ্যালকের  কপালে  আব না নাকি গোপন কোনো সুইচ। আঙ্গুল দিয়ে খোঁচাতেই চিৎকার। বাঘা ফোঁড়া ফেটে গেছে।
।। সমাপ্ত ।।

| Aleekpatamagazine.blogspot.in |
  | Editor: Swarup Chakraborty | Publisher: Debasree Chakraborty |
|ALEEK PATA-The Expressive World |Online Magazine |
|a DISHA-The Dreamer Initiative |
|Special Puja Issue,2019 | September-October, 2019 |
| Third Year Third Issue |20Th Edition|
|© All Rights Reserved By The Editor and The Publisher |



















Main Menu Bar



অলীকপাতার শারদ সংখ্যা ১৪২৯ প্রকাশিত, পড়তে ক্লিক করুন "Current Issue" ট্যাব টিতে , সবাইকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা

Signature Video



অলীকপাতার সংখ্যা পড়ার জন্য ক্লিক করুন 'Current Issue' Tab এ, পুরাতন সংখ্যা পড়ার জন্য 'লাইব্রেরী' ট্যাব ক্লিক করুন। লেখা পাঠান aleekpata@gmail.com এই ঠিকানায়, অকারণেও প্রশ্ন করতে পারেন responsealeekpata@gmail.com এই ঠিকানায় অথবা আমাদের ফেসবুক গ্রুপে।

অলীক পাতায় লেখা পাঠান