অলীক পাতার অন্যান্য সংখ্যা- পড়তে হলে ক্লিক করুন Library ট্যাব টি



। । "অলীক পাতা শারদ সংখ্যা ১৪৩১ আসছে এই মহালয়াতে। । লেখা পাঠানোর শেষ তারিখ ১৫ ই আগস্ট রাত ১২ টা ।.."বিশদে জানতে ক্লিক করুন " Notice Board ট্যাব টিতে"

Tuesday, September 24, 2019

ঐতিহাসিক রহস্য গল্প- আনুবিসের দয়া-পৃথ্বীশ সেন


আনুবিসের দয়া


পৃথ্বীশ সেন

Image Courtesy: Google Image Gallery


বহুদিন পরে এল একটা কাজ, সাথে নিয়ে এল এই পাথরের ঘরের এই হাড় জমানো ঠাণ্ডাতেও বেশ একটা গরম গরম অনুভূতি। কাঠের বিছানার একপাশে রাখা থলিটা।  তুলে দেখলাম বেশ ভারী প্রায় গোটা পঁচিশ হবেই মোহরের সংখ্যা। ভাবছি এতগুলো যখন মোহর, কাজটা কিরকম?
আগন্তুক বসে আছে সামনে, পুরোপুরি আলখাল্লা ঢাকা শরীর। মাথায় কাপড় জড়ানো তারই একটা প্রান্ত টেনে মুখেও জড়ানো।
কে হতে পারে? কথার ধরনে বুঝতে পারছি সবই জানে আমার সম্বন্ধে। একটু অস্বস্তিও কাজ করছে মনে, আসল উদ্দেশ্যটা যতক্ষন না বুঝতে পারছি।
কিন্তু বেশ কিছুদিন ভালো মন্দ খাইনি, ঘরেও নেই কিছু তেমন পড়ে। মোহরগুলো কাজে লাগবে বেশ কটা দিন। অনেকদিন ভাটিখানাও যাইনি। যা আছে ধরে খরচ করলে আপাতত এক বছর নিশ্চিন্ত। পঁচিশটা মোহর অনেকটা অর্থ।
কাজটা যায় হোক, করতেই হবে...

বিশেষ কিছু না বলেই উঠে চলে গেল আগন্তুক, বলল দেখা করতে নগরের শেষ মাথায়, সূর্য্য যখন ঠিক উঠবে মাথার উপরে, ঠিক তখনই যেতে হবে যেখানে ঘোড়ার আস্তাবল রয়েছে।

আমিও উঠে পড়লাম, গতরাতের শক্ত হয়ে যাওয়া  মোটা রুটি পড়ে ছিল, গরম জলে সবজি সেদ্ধ করে রুটি ভিজিয়ে খেয়ে নিলাম।

গোপন কুঠুরি থেকে বের করলাম অস্ত্রগুলো। সবচেয়ে প্রিয় আমার ছোট ছুরিটা, সবচেয়ে বেশি রোজগার দিয়েছে এটাই, তাই হাতির দাঁতের কারুকাজ করা বাঁট লাগিয়েছি। এক আঙ্গুল ফলা ইস্পাতের, সিন্ধুন্দির পারের ভারত থেকে আনা ইস্পাত। খুব সরু কিন্তু শক্ত আর দুদিকেই দাঁত রয়েছে। সব সময়ের সাথী এটা, পাথরে ঘষে মেজে ধার করে নিলাম, গত রাতের প্রদীপের তেল দিয়ে মেজে রেখে দিলাম। বাকি অস্ত্রগুলো আরেকবার দেখে রেখে দিলাম চামড়ার ব্যাগে।

আলখাল্লাটা পরে নিলাম, ঢাকা শরীর, ছোট তরোয়াল'টা সাথে নিয়ে নিলাম, এই আলখাল্লায় অস্ত্রটা ভালো করে লুকিয়ে নিলাম। ছোট ছুরিটা নিলাম সাথে বরাবরের মতোই।

প্রথমেই গেলাম অনুবিস মন্দিরে, বিশাল মন্দির নীল নদের ধারে, সিঁড়িগুলি বেশ চওড়া। উপরে উঠলে দারুন দেখায় নীল নদ। বিশাল দেবতার বড় বড় কান। সোনায় বাঁধানো। ঝকঝক করছে প্রদীপের আলোয়। দেখলে ভয়ের সাথে ভক্তি আসতে বাধ্য। ধন্যবাদ প্রার্থনা জানালাম এমন একটা ভালো কাজ দেবার জন্য। এখানে আসার আগে লাউৎ ছিলেন আমার প্রিয় দেবী যদিও, তবে অনুবিস নামের এই শেয়াল মাথার দেবতার কাছে অসম্ভব ঋণী আমি, যখনই কিছু মানত করেছি আমায় ফেরান নি।

আজ মন খুব ফুরফুরে...

কিনে নিলাম একটা নতুন জলের বোতল, মাটির বোতলগুলো ভেঙে যায় তাই কিনলাম একটা চামড়ার ছোট জলের বোতল। অনেকদিনের ইচ্ছে ছিল আর এটা চট করে ভেঙেও যায় না। সরাইখানায় গিয়ে পেট ভরে ভালো করে খেয়ে নিলাম মাংস আর রুটি। কিছু খেজুর কিনে নিলাম, সন্ধ্যের জন্য।

চলেছি আস্তাবলের দিকে, আশেপাশের ঘরগুলো বেশ সুন্দর, এদিকটা সম্ভ্রান্ত লোকেদের ঘরবাড়ি। বড় বড় বহুতল। আরেকটু এগুতেই এল ফারাও এর প্রাসাদ। বেশ বড় ফটক। মূল দরজার আগে এটা একটা সাধারণ ফটক।
এখান থেকে নির্দেশ গেলে তবে মূল ফটকের দরজা খুলবে। বেশ কড়া পাহারা।

আমার ঘর একদমই দরিদ্র অঞ্চলে, মুচি জেলে কসাই মেথর কুমোর আর কয়েকঘর ছুতর সবাই মিলে বাস। সবার ঘর পাথরের, নামেই ঘর, আসলে প্রাসাদের বেঁচে যাওয়া ছাঁট পাথর গুলো কাদা দিয়ে জুড়ে জুড়ে ছোট ছোট কুঠুরি। গরমে তাও চলে যায়, ঠান্ডায় বড়ই কষ্ট। আমার ঘরটা আরও একটু দূরে বাকি সবার ঘর থেকে। ঘরে রাতের মরুভূমির বাতাসটা বেশ কষ্টের।
যদিও আমার আসল ঘর লাউৎ দেবীর জায়গায়, এখানে এসেছি দুইটা শীত পেরিয়ে গেল।

একটা ভালো পশমের চাদর কিনলাম একটা ফেরি ওয়ালার কাছ থেকে। বেশ মোটা আর মোলায়েম যদিও আধা মোহর গেল। সে যাক এটা অন্তত আরো পাঁচটা টা শীত কাজে দেবে।
যদিও জানিনা কদিন এখানে থাকব। জানিনা আবার যেতে হবে কোথায়...

নগর ছাড়িয়ে একটু খালি খালি অঞ্চল শুরু হল। এরপর খালি মাঠ। ওই যে দূরে দেখা যায় আস্তাবল। আস্তাবলের ওপারে পশ্চিম দরজা। মূলতঃ ব্যবসায়ীদের জন্যই এই দরজা টা।
হটাৎ শুনলাম একটা মৃদু কিন্তু তীব্র সিস। তাকিয়ে দেখি সেই আগন্তুক। চোখের ইশারা করে এগিয়ে গেল। আমি চললাম পিছু পিছু দূরত্ব রেখে।
আস্তাবলের থেকে বেশ কিছুটা দূরে রয়েছে পুরোন আস্তাবল। এখন পরিত্যক্ত। পাথরের একটা ভাঙা ঘর। ওখানে গিয়ে দাঁড়ালাম দুজনে। আগন্তুক চারপাশ দেখে এল। কেউ নেই।
কাজটা বুঝলাম, কিভাবে করতে হবে সেটাও বলে দিল। আমায় দিল ছোট্ট একটা নল। বলল এখানে কেউ চেনে না এই অস্ত্র।
কিন্তু আমি চিনি, ব্যবহার ও করেছি আগে। এটা আফ্রিকার বাতাস-নল। ছোট বিষ মাখানো তির ভেতরে ভরে মুখে হাওয়া ভরে ছুঁড়লে বিষক্রিয়ায় মৃত্যু হবে খুব দ্রুত।
গোটা কুড়ি তির আর বিষও দিল পাথরের কৌটোয় ভরে।
কাজটা হল ফারাও এর নাবালক ছেলেকে খুন করতে হবে। শুনে মনটা কেমন হয়ে গেল ওইটুকু বাচ্ছা কে খুন।
আগন্তুক বুঝে নিয়েছে আমার দোটানা। আরো দশটি মোহর দিল ।
আবার এটাও বলল তোমায় গুপ্তচর বাহিনীর প্রধান করে দেব যদি আমি হই ফারাও।
ও তাহলে এই হল ছক।

পরিচয় জানতে চাইলাম কে এই আগন্তুক। মুখের কাপড় সরাল আগন্তুক। আরে এ তো ফারাও এর খুব কাছের লোক। সম্ভবত ওর বৈমাত্রেয় ভাই।

খুব দ্রুত সেই ছুরিটা ধরে নিলাম। মুখে বললাম আরো পঁচিশ মোহর লাগবে। শুনে একটু ইতস্তত বোধ করতে লাগলো। কিন্তু কথা না বাড়িয়ে সে গোপন পকেট থেকে মোহর বের করবার জন্য যেই ঝুঁকল, ছুরিটা চালিয়ে দিলাম গলায়। শ্বাসনালী দুভাগ। আরো একবার উল্টোদিকে চালিয়ে দিলাম আর তারপর আবার আরেকবার একটু খানি। দুইপাশের শিরা কেটে গেল। এইভাবে আড়াই প্যাঁচে খুন করলে পাপ লাগবে না, লাউৎ এর দিব্বি, দেবী খুব খুশি হবেন।
এদেরকে খুব চিনি, দুমুখো সাপ। কাজ শেষ হবার সাথে সাথে এই খুন করবে আমায় সবার আগে। কোন পিছুটান কোন প্রমাণ রাখবে না।

ফারাও খুব ভালো কাজ করেছেন, সবার কথা ভাবেন, নীল নদের আশীর্বাদে বহুদিন পরে আসেন এমন ফারাও, এমন মানুষের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা
অনুবিস সহ্য করবেন না।

মোহর নিয়ে দেহটা পুরোন পাথরের মধ্যে লুকিয়ে ফেললাম, এমনিতে কেউ দেখতে পাবে না শুধু রাত্রে শেয়ালদের চোখে না পড়লেই হল, তবে দেহ বের করতে পারবে না।

ফেরার সময় দেখলাম বৃদ্ধ ফারাও বেরিয়েছেন নগর পরিক্রমায়। সাথে নাবালক ছেলেটিও রয়েছে। ওনারা জানেনও না আজ অনুবিস এর দয়ায় ওনারা বিপন্মুক্ত, নাহলে আজ এই বিষ তির ছোট ছেলেটির গলায় বিঁধত। আলখাল্লার ভেতরে সেই নলটি তার অস্তিত্ব এখনো জানান দিচ্ছে। ভিড় করে রয়েছে নাগরিকরা, রাস্তার ধারে ধারে। একটা উঁচু জায়গা দেখে আমিও দাঁড়ালাম, বৃদ্ধ ফারাও এর সাথে চোখাচুখি হতে উনি হাসলেন, মনে হল যেন আমার স্বর্গত পিতা আশীর্বাদ করলেন।

#লাউৎ - সেই সময়ের মরুভূমির দেবী, মরুভূমির জনগোষ্ঠীর উপাস্য।


।। সমাপ্ত ।।

| Aleekpatamagazine.blogspot.in |
  | Editor: Swarup Chakraborty | Publisher: Debasree Chakraborty |
|ALEEK PATA-The Expressive World |Online Magazine |
|a DISHA-The Dreamer Initiative |
|Special Puja Issue,2019 | September-October, 2019 |
| Third Year Third Issue |20Th Edition|
|© All Rights Reserved By The Editor and The Publisher |













Saturday, August 31, 2019

সম্পাদকীয়- গ্রীষ্ম- বর্ষা সংখ্যা ১৪২৫ (III RD Yr. IIND Issue-XIXTh Edition)


সম্পাদকীয়



ঋতুরাজ সংখ্যার পর  বেশ অনেক দিন পর ফিরে  এলাম  আপনাদের প্রিয় অলীকপাতা নিয়ে, কিছু ব্যাক্তিগত এবং কিছু যান্ত্রিক কারনে হওয়া অনিচ্ছাকৃত এই বিলম্বের জন্য আমরা আন্তরিক দুঃখিত। 


গ্রীষ্ম ও বর্ষা সংখ্যার জন্য আলাদা আলাদা সংখ্যা বের করার লক্ষ্য থাকলেও সেটা সম্ভব হল না কারন গ্রীষ্ম  সংখ্যা বের করার সময় নিয়ম অনুযায়ী বর্ষা সংখ্যার জন্য লেখা চলে আসার কথা ছিল, এবারের বর্ষা সংখ্যার নাম ছিল "আষাঢ়ে গপ্পো" সংখ্যা, এটি একটি বিশেষ গল্প সংখ্যা হিসেবে বের করার পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু উপযুক্ত সংখ্যক  গল্প না আসার কারনে একটু দেরী করে গ্রীষ্ম ও বর্ষা দুটি সংখ্যা মিলিয়ে অলীকপাতা গ্রীষ্ম- বর্ষা  সংখ্যা হিসেবে এই সংখ্যা টি আত্মপ্রকাশ করল।

এই সংখ্যার জন্য প্রচ্ছদ এঁকেছেন অনেক নামী দামী পত্রিকার প্রচ্ছদ শিল্পী নচিকেতা মাহাত, অনেক ব্যস্ততার মধ্যেও আমাদের জন্য উনি প্রচ্ছদ তৈরি করে দিয়েছেন, আমরা কৃতজ্ঞ, এবং আমরা বিশেষ ভাবে কৃতজ্ঞ অলীকপাতার শুভানুধ্যায়ী প্রিয় ভাই , সুলেখক প্রতীক  কুমার মুখোপাধ্যায় প্রতি, কারন ওর সহৃদয় উদ্যোগেই এটা সম্ভব হয়েছে।  

নিয়মিত  লেখক - লেখিকার  সাথে সাথে  নবাগত  লেখক লেখিকাদের  লেখা নানা স্বাদের লেখা গল্প,কবিতা, আঁকা, প্রবন্ধ, স্মৃতি চারন, রম্য রচনা, ইত্যাদি নানারকম উপকরনে সজ্জিত এবারের অলীক পাতা বরাবরের মতই ঝলমলে,  এবার আমাদের কাজ শেষ , পাঠক পাঠিকাদের কাজ শুরু।

অলীকপাতার লেখক-পাঠক ও সকল শুভানুধ্যায়ীদের আন্তরিক ভালবাসা জানিয়ে এবারের মত আসি, কথা দিলাম আবার ফিরব খুব তাড়া তাড়ি , বন্ধুদের নতুন নতুন সৃষ্টি দিয়ে সাজানো অলীক পাতার -বাঙময় জগতের রঙ্গিন পাতায় পাতায় ভরানো সৃষ্টির ডালি নিয়ে।

ভালো থাকুন, সৃষ্টিতে মাতুন।

আজ আসি
নমস্কার


স্বরূপ চক্রবর্তী
সম্পাদক
অলীক পাতা
৩০শে আগস্ট, ২০১৯
হরিদ্বার


পত্রিকা পড়তে ক্লিক করুন নিচের লিঙ্কে













গল্প-মায়ের ভাবনায়-শম্পা সান্যাল


   মায়ের ভাবনায়

শম্পা সান্যাল





(১)

আবার তুই ফ্রিজে হাত দিয়েছিস?
___কখন!!
___কখন না!  ছিছিছি। আমি জানি একটু কোল্ডড্রিংকস আছে। তীর্থকে এই গরমে দিতে গিয়ে দেখি নেই!
___আঃ,আআআ
___আরে কি হলো কি বৌমা? মারছো কেন?
___বাবা, দিন কে দিন এতো অসভ্য
___আরে ,করেছেটা কি?
___এত্তো পাজি, খেয়ে বাইরে রাখ্।তাহলেও তো চোখে পড়তো। খেয়ে খালি বোতল সাজিয়ে রেখেছে। দেবো একেবারে
___আরে, ছাড়ো ছাড়ো। আচ্ছা, দিদিভাই এরকম আর করো না কেমন!
___যাঃ, বই নিয়ে বোস্।
___এখন!!
___চ্চুপ! কোনো কার্টুন টার্টুন না, সব বন্ধ। অসভ্য মেয়ে। রাগে গজগজ করতে করতে মিত্রা অন্য কাজে ব্যস্ত হয়। শ্বাশুড়ি উপর থেকে নীচে নামতে নামতে শুরু করেন,
___ঠাকুর ঘর থেকে শুনছি, কি করেছে দিদুন?
___হ্যা, হ্যা, পুজোয় তাহলে কেমন মন বোঝাই যাচ্ছে!!
___কথা শুনলে পিত্তি জ্বলে যায়। নীচে কুরুক্ষেত্র হলে আওয়াজটা উপরেই বেশি যায়, বুঝেছেন!! কানে কালা সে আবার
___কানে কালাই হয়, কানা নয়। বলো দিদিভাই!
____হিহিহি,
___আহা, এই তো বকা খেয়ে কাঁদছিলেন, এখন দ্যাখো ঠাকুরদার সাথী হয়ে কেমন হাসি বেরোচ্ছে! এই বকা খেলি কেন?
__মা মেরেছে
___তা কেন শুনি!
___ঐ কোল্ডড্রিংকস
___বৌমার সবেতেই বাড়াবাড়ি। বাড়িতে বাচ্চাকাচ্চা বলতে তো একটিই। সে খাবে না তো
___মা! এভাবে প্রশ্রয় দেবে না।
___কিইই! প্রশ্রয় দিচ্ছি! বাড়ির মেয়ে, বাড়িরটাই খেয়েছে। অন্যের বাড়িতে চুরি করে খেয়েছে নাকি! বেশ করেছে।
___বাঃ, ভালো। এরপর শুনবো মায়ের কোনো শিক্ষাই নেই। যেমন মা তেমনি ছা__ , কিচ্ছু বলবো না আর।
___না বাবা, তোমাদের মেয়ে তোমরাই শাসন করো। আমাদের তো আর
___আঃ, তুমি তিলকে তাল করছো! বৌমা যেটা বলছে
___ওঃ, আমি তাল পাকাচ্ছি! বেশ। বলে যাও।
শ্বশুরমশাই__উফফ্। বয়সের ফারাকটাই আছে। নাতনি- ঠাকুমা সব এক।
___আচ্ছা মা, সবটাতো শুনলে না। নাতনির পক্ষ নিয়ে বলতে শুরু করলে।
__শোনার কি আছে।  কোলড্রিংঙ্কস খেয়েছে, এইতো!
___না। খাক্। কিন্তু লুকিয়ে খাবে কেন। কেউ কি বারণ করবে?
___আশ্চর্য কথা বলোতো বৌমা। বাড়ির মেয়ে
___না। বাড়ির মেয়ে হলেও আমাদের কাউকে বলতে পারতো। বেশ বলেনি, বলেনি। খালি বোতলটা জায়গায় রাখাটা
___বাবা!! মানে তুমি বোঝাবেই যে
___হ্যাঁ, ছোট থেকেই শিখতে শিখতে বড়ো হয়ে ওঠে সবাই। ভালো- মন্দ বোধ ওদের থাকে না তাই সেটা আমাদেরই
___দ্যাখো, তোমার শ্বশুরের স্নান হয়ে গেল বোধহয় ‌
___হ্যাঁ, দেখেছি। দিচ্ছি।
                                          (২)

___খোকা এলো নাকি বৌমা?
___হ্যাঁআআ
অরুণ ঘরে ঢুকেই মেয়ের খোঁজে, মেয়েও বাবা-অন্ত তবে আজ মায়ের বকুনির জেরে পড়া ছেড়ে উঠে আসতে সাহস পায়নি।
___পিপ্ পিপ্ তাড়াতাড়ি! কোথায়!
___আবার! আবার খেলনা কিনে এনেছো?
___আরে বাবা, অনেকদিন পরই তো আনলাম। বলছে ক'দিন ধরে।
___অনেকদিন! পনেরো দিনও হয়নি।
__ধুরর্, ওতো মেলা থেকে কি ছাইছাতা কিনলো
___ছাইছাতা!! ওগুলো কি খুব সস্তা! আর একটা বাচ্চার কাছে খেলনাটাই বড়, দামী কি
___আরে! ছাড়ো না!
___বাবাই
___পড়া হয়ে গেছে?
___না, বাকীইই
___তাহলে তাড়াতাড়ি সেরে ফেলো। তারপর
___তারপর কি বাবাই ?
___উঁহু, এখন বলবোওও নাআআ।
___বলো না, বলো না প্লিজ
___কিচ্ছু দেবে না ওকে। একটা কথাও শোনে না।
___হ্হ্যা, সেকি! কি করেছো আজ আবার!
___এখন যদি কাশি শুনি না! দেবো দু ঘা
___উফফ্, খোকা রে! তোরা তিনজন ছিলি আর বৌমা তো একটাকে নিয়েই অস্থির।
___মা, আমাদের সময় আমরা বড়দের যথেষ্ট ভয় পেতাম। আমরাও তো চার ভাইবোন! কেউ অবাধ্যপনার সাহস দেখায়নি তো।
___বাবারে বাবা, আরে করেছেটা কিইই?
___কি আবার!! ঐ ফ্রিজ থেকে...... শ্বাশুড়ি সুন্দর ব্যাখ্যা দিলেন।
অরুণ___দ্যাখো, এসব দুষ্টুমি সব বাচ্চাই করে একটুআধটু। অতো ধরো না।
মিত্রা বলে __দুষ্টুমি নিয়ে বলছি না। ওর এই বুদ্ধিটা আমার ভালো লাগেনি। খেয়ে খালি বোতলটা ঢুকিয়ে রাখা, উঁহু
___বৌমার মাথায় একটা কিছু ঢুকলেই হলো! এতো বাড়াবাড়ি
___সেই!
অরুণ___ভেবোনা। বকা খাবার ভয়ে করেছে। আমরাও কি কম দুষ্টু ছিলাম! এখন আর ওরা সে সুযোগ কোথায় পায় বলো!
___বাবাই, হয়ে গেছে।
___ বাঃ হয়ে গেছে!
___দ্দাওও। তাহলে এরপর __
___বোঝো! একটা হাতে পেতেই! নতুন খেলনা পাওয়ার আনন্দ নেই!! পর পর খেলনা কিনে দেওয়া! মূল্য বুঝবে! নষ্ট করছে, আবার পেয়ে যাচ্ছে। এই আস্কারা পেতে পেতে দেখো চাহিদা কোথায় যায়!
 মনখারাপ করে মিত্রা ঘর লাগোয়া ছোট্ট ব্যালকনিতে এসে দাঁড়ায়। অসম্ভব। পিউ তো একটা নরম মাটি। ওকে সুন্দর করে গড়ে তুলতে তো পরিবারের সবাইকে চাই। খারাপ কেউ চায়না কিন্তু ধুর্। যা হবে, হবে।
                       ‌‌‌                   (৩)

রুনু এসেছে। বাড়িতে বাচ্চাদের হৈচৈ সরগরম করে রেখেছে।
___চলে এসো সবাই। শিগ্গির শিগ্গির
___কি দিচ্ছো বৌদি ওদের?
___কাস্টার্ড। তোকেও দেবো।
___না গো, আমি একটু চা খাবো। রাতে খাবো কাস্টার্ড। কিন্তু রিম্পি বুম্বা কি খাবে! তুমি ম্যাগি করে দিতে পারতে।
___কি সবসময় ম্যাগি ম্যাগি করিস! আজ খাক্, নাহয় ; কই, কি হলো, চলে এসো। পিউউউ
___এটা কি মানি?
___খাও। বলোতো খেয়ে কেমন হয়েছে!
___আমি খাবোনা
___আমিও। ও মাআআ
___দ্যাখ্ না খেয়ে।
___বৌদিকেতো আমি বললাম। ম্যাগি হলেই ওদের হয়ে যায়।
___রোজ রোজ ওগুলো খাওয়া ভালো নাকি!
___বৌমা, ম্যাগি নেই?
___আছে। এটা তো ওদের জন্যই বানালাম।
___তুমি তাহলে
___সব খাওয়ার অভ্যাস করতে হয়। কোথায় কখন
___আঃ, বৌমা! এই তোমার বড় দোষ! তুমি যেটা বলবে, সেটাই ঠিক। ওদের আর তোমার এই দুদিনে কিছু শেখাতে হবে না। ওরা যা চাইছে
___আঃ মা!! বৌদি তো ঠিকই বলছে। ওদের এতো বায়না!
___আচ্ছা, একটু মুখে দিয়ে দ্যাখো তো!
___খা না দি'ভাই। খুব ভালো রে।
মিত্রা মনে মনে ভাবে,ছোটর থেকে এতো মতামত! খাবে না তো খাবেই না!!
___ঠিক আছে, ম্যাগি বানিয়ে দিচ্ছি।
___এতো অসভ্য হয়েছিস তোরা!
___আঃ, রুনু মামাবাড়িতে এসে ইচ্ছেমতো খাবে না তো কি! একদম বকবি না।
___মা, এই করেই তো ওদের আহ্লাদ বেড়ে যায়। বাড়িতে ঠাম্মা, এখানে
মিত্রা হাসে। তবু ভালো। আমি বললে তো এখনই
___নে, ধর্।
___ওবাবা, চিঁড়ে ভাজলে এখন আবার!
___না রে! কেনা। খা। মা, নাও। আমি বাবাকে দিয়ে আসছি।
___দাদার দেরী হচ্ছে না আজকে!
___হ্যাঁ, বলেই  গেছে আজকে দেরী হবে।
___কেন বৌমা?
___এসে বলছি।
___ঢং দেখলে গা জ্বালা করে।
___ম্মা! কি বলছো! তুমি না!
___থামতো। খালি কটর কটর, আমরা যেন বাচ্চা মানুষ করিনি আর।
___চুপ করবে! বৌদি এসো!
___আসছিই
___তুমি খেলে না!
___না গো।
___ওমা! একটু খাও। আমার থেকে নাও।

                                            (৪)

বছরে একবারই আসে ননদ। নন্দাইও আসে ওদের নিয়ে যেতে। দু'দিন থেকেও যায় সেসময়। দূরে থাকে, তাই ওরা আসলে মা,ভাই আহ্লাদে কি করবে বুঝে উঠতে পারে না। না, বন্ধুর মতো ননদ এলে ভালো লাগে মিত্রারও। অনেক দিন পর আত্মীয়ের বাসায় যাওয়া হয়। ঘোরা, বেড়ানোয় দিনগুলো কেটে যায় দ্রুত।  বাড়িটাও একদম জমজমাট। আকর্ষণ___প্রতিবার ওর কলকাতা চষে বাজার করায় মিত্রারও খুব আগ্রহ। দুজনে দুপুরের পর বেড়িয়ে হাতিবাগান, মানিকতলা থেকে গড়িয়াহাট___দরদাম করে কেনাকাটা! কি জানি কেন, মল গুলোতে কেনাকাটার আনন্দ পায় না এভাবে কেনায় যতোটা পায়।
রুনুও মিত্রার মতোন। আসলে ফেলে আসা দিনগুলোকে খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা। লুকিয়ে সিনেমা দেখা, পুজোর সময় বাবা মায়ের সঙ্গে, কলেজে ওঠার পর নিজের তো বটেই বন্ধুদের সামান্য কিছু কেনার থাকলেও দল বেঁধে নিউ মার্কেট, ময়দান চষে ফেলা আর ইচ্ছে মতো খাওয়া। দেরী হলে মায়ের বকুনি এখনো জোটে। ___তোরা কি রে! সেই কখন বেড়িয়েছিস! বাচ্চাগুলো....
সুবিধা, রুনু মাকে ম্যানেজ করে নেয়। একটু পরে শুরু হয় দেখানো।  কর্তাদের টিপ্পনি-সহ মজা, বাচ্চাদের আনন্দ। কিন্তু মিত্রা গন্ডগোল করে আবারো।
___এই তোরা কি রে! কতোদিন পর একসঙ্গে ভাইবোনেরা খেলবি,গল্প করবি তা না, টিভিতে কার্টুন দেখছিস সব। বন্ধ করতে উদ্যত হতেই ___না মানি, প্লিজ মানি
___আরে বৌমা, ওরা চুপচাপ বসে দেখছে, তুমি কেন ওদের বিরক্ত করছো বলোতো! দেখুক না।
___কার্টুন তো বাড়িতেও দেখে মা। পিউ একা বসে দেখে। এখন সবাই মিলে তো
___তোমার শাসনের আর শেষ নেই।
 রুনুও বলে__আরে ওদের মতো থাকতে দাও না বাবা। এ'কটাদিন স্কুলের তাড়া, হোমওয়ার্ক ওসব থেকে ওদেরও ছুটি, আমাদেরও। বাব্বা! কবে যে সব বড়ো হবে!
____বৌমাকে তো বলি, বাচ্চাদের সাথে অতো কটরকটর করতে নেই। আরো অবাধ্য হয়ে যায় তাতে।
___কটরকটর কি করি! ভালো-মন্দ বোধ তো আমরাই তৈরি করে দেবো নাকি! সহবৎ কিছু দেখে শিখবে, কিছু শেখাতে হবে। আমি কেবল সেগুলোই
___না, মা আমি তোমাকে বোঝাতে পারবো না। ছাড়ো!
____দ্যাখো বৌদি মা কিন্তু ঠিক কথাই বলছেন
হুঁঃ, মা- মেয়ে এক হয়েছেন! ঐতো দেখছি তোমার ছেলে মেয়েদের! এদের বলে কোনো লাভ নেই। আমার একটা মাত্র সন্তান। ওকে আমি মনের মতো করে তৈরি করবো। তোমরা যা ভাবো ভাবো গে যাও।    
                                        (৫)

সত্যি, দেখতে দেখতে কবে যে ছেলে- মেয়েরা সব  বড়ো হয়ে গেল!!  রুনু-বিপ্লব এসেছে অনেকদিন পর। নন্দাই-এর রিটায়ার্ড লাইভ। স্বামী-স্ত্রী এসেছে। ছেলে বিদেশে। মেয়েও চাকরি করে, দিল্লীতে। একটি পাঞ্জাবী ছেলের সাথে থাকে। মিত্রা অবাক হয়ে যায় দেখে। কতো সহজে বলছে!  সামনের বছর বিয়ে। তারই গল্প চলছে। ফোনে কথা হয়,  এতোসব বলেনি। ইদানিং আর আগের মতোন আসতে পারতো না। অনেক দিন পর একসাথে। হাসি ঠাট্টা সবই চলছে, কেবল কেমন যেন মনমরা আবহাওয়া। যে ছেলে মেয়ে নিয়ে সারাক্ষণ ব্যস্ততা,সেটা আর নেই। স্বাভাবিক কিন্তু,  হ্যাঁ পিউ- প্রসঙ্গ আজ বড়ো স্পর্শকাতর এই বাড়িতে। আগেও ছিল। আজো।
___দাদা, আপনার আর কতোদিন?
___ মেরে এনেছি। আর আট-ন মাস। ভালো লাগে না আর।
___আমারো তাই মনে হতো। ভাবতাম, রিটায়ার করে ঘুরে বেড়াবো কিন্তু আপনার বোনের পায়ের যা অবস্থা  তাতে
__হুঁ, আমাদেরো তাই। পিউ বলে যেতে। রিটায়ার করে যাবো বলেছি। দ্যাখা যাক্।
___বৌদি!  আর রাগ করে থেকোনা। ওতো ভালো আছে তাই না!
___হ্যাঁ, আছে বোধহয়।
___রুনু, তোর বৌদিকে বুঝিয়ে লাভ নেই রে। মা পর্যন্ত বলেছেন মেনে নিতে অথচ
___আমার কষ্টটা তোমরা বোঝো না।
____আচ্ছা!!  বলুন তো বৌদি, আপনার কষ্টটা কি??
___ও আর বলে কি হবে!! পারলাম কি আটকাতে!
মনের মতো করে একটি মাত্র সন্তানকে মানুষ করে তুলতে কতো যে শখ আহ্লাদ ছাড়তে হয়েছে। সময়ের অভাব, পয়সায় অভাব তার উপরে বাবা মা ছিলেন তাদের দেখাশোনা, আত্মীয় কুটুম্বিতা সবই তো সামলেছে। পিউকে নিয়ে সবাই গর্ব করে। ওর ব্যবহারের প্রশংসা শুনে সবাই খুশি হয়। এটার জন্য যে মিত্রাকে যে কতো কথা শুনতে হয়েছে!!  তবু তৃপ্তি, পেরেছে। মেয়েকে মানুষ করতে পেরেছে। কেবল পড়াশোনায় ভালো না, দরকার সত্যিকারের ভালো মানসিকতা, সবাইকে নিয়ে চলার শিক্ষা। পরীক্ষা দিতে যাওয়ার সময় কাজে সাহায্য করার জন্য যিনি ছিলেন, মিত্রা ওঁদের প্রণাম করার সময় বলতো পিসিকে করো। মিনু লজ্জা পেয়ে না, না বলতো। পরে কিন্তু বলতো না কারণ এই সম্মান ওর ভালো লাগতো। সম্মান দিলে সম্মান পাওয়া যায়! কখনো বন্ধুদের নামে অভিযোগ করলে মিত্রা আগে পিউকে বকতো।__ তুমি কি করেছিলে বলো।
শ্বাশুড়ি যথারীতি বলতেন, বৌমার চোখের বালি মেয়েটা। বকতে পারলে আর কিছু চায়না! ততোদিনে মিত্রা বুঝে গেছিল। শ্বাশুড়ির কথা কানে নিতো না। আসলের চেয়ে সুদের স্বাদ মিষ্টি রে___মা বলতেন। শ্বাশুড়ির কথা বললে শুনেছে এই প্রবাদ-বাক্য।
               কথা শুনেছে নিজের মায়ের থেকেই। খেয়ে প্লেট সিঙ্কে রেখে আসা বা সবাই চা খেয়েছেন, কাপ-প্লেট গুলো__ পিউ যাও রান্নাঘরে রেখে এসো কিংবা....
 মা__আঃ, ফুলি তুই ঐটুকুন মেয়েকে কি পেয়েছিস বলতো! অবাক হয়ে মিত্রা বলেছে ___আমাকে তো ওর থেকেও ছোট বয়সে কাজ করিয়েছো মা!
___সে তখন তোরা সব পিঠোপিঠি, পেরে উঠতাম না তাই! আর দ্যাখ্ মেয়ে জনম তো! সারাজীবন তো ঐ করতেই হবে।
___না মা, আজ আর ছেলে মেয়ের ফারাক করো না। ঘরের কিছু জরুরী কাজ সেকারণেই সব্বার শেখা উচিৎ। ছোট থেকে স্বাবলম্বী হওয়া প্রয়োজন কি ছেলে কি মেয়ে সবার।
বড় বৌদি ওর কথায় সায় দিতো কিন্তু এও শুনেছে___ফুলদি পিউকে অলরাউন্ডার বানাবে রে!
অলরাউন্ডার!!    
   সেই মেয়ে এক মুসলিম ছেলের সাথে নিজের ভাগ্য জড়িয়ে নিলো! কতো স্বপ্ন সব ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেল।  আন্দাজ করতে পারছিল, কিন্তু যেদিন শুনলো শেহনাজের সাথে সম্পর্ক, নিতে পারেনি। কান্নাকাটি, অশান্তি। মেয়ে তার মতেই জেদ ধরে রাখলো। অরুণ, মা এরাও সাথ দিলো দেখে আশ্চর্য হয়ে গেছিল মিত্রা। সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবার, ছেলেও সবদিক দিয়ে ভালো কিন্তু!!  দুই বাড়ির উপস্থিতিতে রেজেস্ট্রি ম্যারেজ হলো।
___বৌদি, দ্যাখো আপত্তি ওঁরাও করতে পারতেন তবে করেননি তো!
___ওরা কেন আপত্তি করতে যাবে!! পিউর মতো মেয়ে!!
___এটা ভুল বললেন বৌদি। নন্দাই বলেন।
___কেন! ভুল কিসে!
___অন্য ধর্মের মেয়ে ওঁরাই বা নেবেন কেন? আমাদের মতোন ওঁদেরও ছুৎমার্গ আছে। ওঁরাই বা অন্য ধর্মের মেয়েকে.....
এবার অরুণ মুখ খোলে___ বিপ্লব, আলাপ করে দেখো, অত্যন্ত শিক্ষিত ভদ্র পরিবার। মিত্রা তো এতোদিনে ওঁদের বাড়িও যায়নি। শেহনাজ তো সব জেনেও মিত্রার সঙ্গে কি সুন্দর ব্যবহার করে। তাও যে কেন!!
____বৌদি, অনেক হয়েছে। দাদা রিটায়ার করলে ওদের কাছে যাও। আর মান করে থেকো না। দাদা, তুই এরমধ্যে পাশপোর্ট বানিয়ে ফেল্।
অরুণ____ সহজ ভাবে নিলে পিউ এতো তাড়াতাড়ি বিয়ে করতোও না। ওতো তোর মেয়ের থেকে ছোট অথচ মা- মেয়ের জেদাজেদিতে বিয়ে করে চলে গেল। আমরা তো ওর বিয়ে আরো একটু পরেই দিতাম!
____আমরা তো আসতেই পারলাম না। এমন সময়
মিত্রা বলে___হ্হ্যা!! আমরাই জানলাম দুদিন আগে তো তোমরা !!
মিত্রার চোখ দিয়ে টপটপ করে জল পড়ে। কতোদিন মেয়েটার সাথে কথা বলে না। দেখেনা কতোদিন! খুব ইচ্ছে করে , খুব কিন্তু!!মেয়ে বাবার সঙ্গে কথা বলে।  অভিমানে মায়ের থেকে সরে আছে। মিত্রার ধারা___অভিমানী। দেড় বছর হতে চললো, দুজনে কথা বলেনা। শেহনাজ কিন্তু মাঝে মধ্যে ওর সাথে কথা বলে। তবে, পিউর সাথে কথা বলুন, একদিনও বলেনি। মিত্রা বলে __রুনু, জানিস ওরা যে বিদেশ যাচ্ছে, তাও কি আমি জানতাম!! তোর দাদা কিন্তু জানতো, অথচ ......
এবার অরুণ হাসে।___ শোনো তাহলে!  পিউ আমাকে অনেক আগেই বলেছিল। সেইমতো ব্যবস্থা সব নিজেই উদ্যোগ নিয়ে করছিল। শেহনাজও। দুজনেই উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদন নিবেদন যা করতে হয় করছিল। তখন মিত্রা পিউকে ছাড়বে না ভেবেই বাবা-মেয়ে শলা করে মিত্রার কাছে গোপন করে গেছিলাম। বিয়েও ওরা পরেই করতো।  তারপর তো! যাক্ যা হয়ে গেছে
মিত্রা ____ক্কিইই!!
রুনু____তাই নাকি দাদা!!! বোঝো কান্ড! না বৌদি, আর রাগ করোনা। অনেক হয়েছে। একটা মাত্র মেয়ে!!
বহুদিন পর ভিডিও কলিং-এ পিসি ভাইঝি... এবং অবশেষে মা- মেয়ে মুখোমুখি। জলের ধারায় মুছে গেল সব রাগ, সব অভিমান।

                                         (৬)

               বাবা-মেয়েতে বড্ড ভাব।  এখনো এটা করিস অথবা করিসনা বলা যায়নি মিত্রার তবে মেয়ে এখন আর সবসময় চুপ করে শোনে না বরং শাসন করে ওদেরকেই। প্রায়ই পিউ বলে___মা, তোমার মতো শাসন কেউ করেনা। আমাকে উঠতে বসতে, হ্যাঁ, এখন একথাগুলো শেহনাজের  সামনেই হাসতে হাসতে বলে, অন্যদের সামনেও বলে। মিত্রা মুখে হাসিকে টেনে আনে যদিও, ভিতরটা গুমরে মরে।
শাসনটাই দেখলি রে!!
ভিতটা তৈরি করে দিয়েছিলাম বলেই না সহজে অন্য ধারায় অবলীলায় মিশে যেতে পেরেছিস!!
হার- জিৎ ঠিক কার যে হলো!!
আপনারা কি জানেন????



 Back To Index















আষাঢ়ে গপ্পো-লাল আলো -সান্ত্বনা দাস

লাল আলো 

 সান্ত্বনা দাস




         সেই ঘরটায় ওরা চারজন এখনও বসে থাকে। সারাদিনে নিজেদের কাজ সেরে সন্ধ্যাবেলা ওরা চলে আসে এই ঘরটায়। আগেও আসত, তখন ওরা ছিল পাঁচজন বিমল, অতীন, মাধব, শুভ আর সোমনাথ। পাহাড়ের কোল ঘেঁষে ছোট একটা গ্রাম ।একটু দূরেই শহর। একটু পর পর ট্রেন যায়। গ্রামের নাম ফলবতী। পাশ দিয়ে ছুটে চলেছে ঝির ঝিরে নদী তির তির করে।ফুলে ফলে গ্রামের শ্রী আছে। স্কুল আছে। পাঁচ বন্ধু স্কুলে যায়, পড়াশোনার পর শুরু ওদের ডানপিটেমি। ছুটির দিন গুলতি মেরে আম পাড়া, পাখি ধরার খাঁচা যত রসদ জড়  ছিল ঐ পোড়ো ঘরটায়। গ্রামের পাশে জঙ্গলের মধ্যে  ঘর। বড়রা  বলত 'যাসনা ওখানে, ভূত প্রেত দত্যি দানো আছে ,সাঁঝবেলায় সব জড় হয় ওখানে।' ডানপিটেগুলো চিৎকার করে বলত 'তোমাকেও নিয়ে যাব দাদু '।কার বাড়িতে মড়া পোড়ানো, কোথায় রোগীকে হাসপাতালে দেওয়া সোমনাথ বিমলের দল আগে হাজির। অতীনের মায়ের খুব জ্বর সেবার, সারা রাত অতীন আর মাধব বসে বসে মায়ের মাথায় জলপটি দিল। তিন্নি বোনের বিয়েতে পাঁচজনে মিলে খাটাখাটনি করে তুলে দিল বিয়ে। তিন্নির মা নেই, অসুবিধে কাউকে সেরকম বুঝতে দেয় নি। 


         সেবার পুজোয় অন্নদা মাসীকে সবাই টিফিনের পয়সা জমিয়ে কাপড় কিনে দিল। রাস্তার পাশে তেঁতুল বাগান  লোকে এড়িয়ে যায় ঐ রাস্তা বলে কে যেন বসে থাকে গাছে ।ওরা যায় তেঁতুল পাড়তে। এরকম করে  ওরা কৈশোর পার হতে চলল। 
স্কুল শেষ করে শহরে কলেজে ভর্তি হল। ট্রেনে করে যায় ট্রেনেই ফেরে, একসঙ্গে। একদিন হঠাৎ ট্রেন থেকে সবাই নেমে পার হয়েছে শুধু সোমনাথ পার হতে পারল না। লাল সিগন্যাল হঠাৎ নিবে গিয়েছিল, হয়ত যান্ত্রিক গোলযোগ । বিপরীত দিক থেকে এসে পড়ল আর একটা ট্রেন। সোমনাথ আর উঠল না। চার বন্ধু ঝাঁপিয়ে পড়ল ওর দেহটার ওপর,বলল 'তুই আমাদের ছেড়ে যাস না সোমনাথ '। সোমনাথের হাতটা একটু উঠল, হয়ত ওদের আশ্বস্ত করতে চাইল তারপর স্থির হয়ে গেল। 
              
        গ্রামের লোকজন চোখের জলে বিদায় জানাল ওকে। তার পর থেকে ঐ স্টেশনে আর ট্রেন অ্যাকসিডেন্ট হয় নি। একটা লাল আলো যথা সময় স্টেশনে সিগন্যাল দেয় ।সবাই দেখে দূর থেকে। না কেউ কাছে যায় না। সন্ধ্যা বেলা শেষ ট্রেনে ফেরের  চার বন্ধু অতীন বিমল শুভ আর মাধব। লাল আলোটা সিগন্যাল দেয়, ট্রেন থামে। চার বন্ধু এগিয়ে চলে ঐ পোড়ো ঘরটার দিকে, সঙ্গে চলে সেই লাল আলো, কখনও চারজনের মধ্যিখানে কখনও শেষে। ওরা কোনো দিকে  তাকায় না, নিজেদের মধ্যে শুধু কথা বলে। ঘরে ঢুকে যায় সবাই। বেশ কিছুক্ষণ পরে ওরা বার হয়। লাল আলোটা আর থাকে না। এখন গ্রামের সবাই আর বলে না 'ওখানে যাস না ভূত আছে, বলে ওদিকে যাস না, ওখানে আমাদের সোমনাথ আছে '।

 Back To Index






















কবিতা-রাজনীতি - পল্লব সরকার

রাজনীতি 

   পল্লব সরকার 




রাজনীতি রাতারাতি 
   বদলে দেয় দিন, 
আগাড়ে-ভাগাড়ে জীবন যার
    নিমেষেই রঙিন ।
ক্ষমতার বিন্দু ইন্দু সম
    গগনে বিরাজ করে,
অমাবস্যার কালো তারও যে ছিল 
ভুলে যায় চিরতরে ।
কলন্ক যত  বেড়ে যায় তত
   ঔজ্জ্বল্যের মহিমা ,
জনগন মন মলিন চেতন
শতবার করে ক্ষমা।

 Back To Index





















Main Menu Bar



অলীকপাতার শারদ সংখ্যা ১৪২৯ প্রকাশিত, পড়তে ক্লিক করুন "Current Issue" ট্যাব টিতে , সবাইকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা

Signature Video



অলীকপাতার সংখ্যা পড়ার জন্য ক্লিক করুন 'Current Issue' Tab এ, পুরাতন সংখ্যা পড়ার জন্য 'লাইব্রেরী' ট্যাব ক্লিক করুন। লেখা পাঠান aleekpata@gmail.com এই ঠিকানায়, অকারণেও প্রশ্ন করতে পারেন responsealeekpata@gmail.com এই ঠিকানায় অথবা আমাদের ফেসবুক গ্রুপে।

অলীক পাতায় লেখা পাঠান