অলীক পাতার অন্যান্য সংখ্যা- পড়তে হলে ক্লিক করুন Library ট্যাব টি



। । "অলীক পাতা শারদ সংখ্যা ১৪৩১ আসছে এই মহালয়াতে। । লেখা পাঠানোর শেষ তারিখ ১৫ ই আগস্ট রাত ১২ টা ।.."বিশদে জানতে ক্লিক করুন " Notice Board ট্যাব টিতে"

Monday, December 24, 2018

কবিতা-সম্পা দত্ত


বৃদ্ধাশ্রমে স্মৃতির সেই দিন গুলো

Picture Courtesy: Google Image




এখন আমার নির্বাসন,
পোষাকী ভাষায় যার নাম বৃদ্ধাশ্রম।

দশ বাই দশের এক ঘর,
মাঝখানে রোদ ঢোকার সরু একফালি জানালা।
যাতে শ্বাসরোধ না হয়
বাঁচার রসদ জোগাড় করতে-
একমনে তাকিয়ে উপভোগ করা বলতে,
এক চিলতে ঋতুপরিবর্তিত স্বচ্ছ্ব নীলাকাশ।

স্মৃতির সরনী বেয়ে নেমে আসা দিনের কথা
ছবি ,প্রতিশ্রুতি ,ড্রয়িং রুমের দেয়ালে টাঙানো
হাসি খুশি মুখে ছেলের সাথে ছবি
পুরীর সমুদ্র সৈকতে বালিয়াড়ি ফিসফিস
চুপি চুপি প্রেমের অভিসার।

আমারও ছিল রঙিন বসন্তে সেদিন সোনাঝুরি সকাল।
জরায়ুতে তুই বাড়ছিলি তিলতিল করে।
এক অনাস্বাদিত আহ্লাদ অনুভূতি ঘিরে রেখেছিলো আমার মণপ্রাণ জুড়ে।
একদিন আমার ই চোখ দিয়ে দেখলি পৃথিবীর আলো।
চলতে শিখলি বুঝতে শিখলি সব।
অনেক জল গড়িয়ে গেছে সময়ের সাক্ষী মুহূর্ত রা বন্দী ফ্রেমে।

পরিবার পেলি শুধু আমি ই সরে গেলাম দূরে।
ঘরে মা'কে নিয়ে বড্ড অশান্তি,
নিজের ঘরে হলোনা কিছুতেই ঠাঁই।

খোঁজ নিয়ে জানতে পেলি
সেখানে মা থাকবে ভালো,
নাম তো সবার জানা বড্ড  সেবা পরায়ন।
বাবা রে তুই আমায় দিলি নির্বাসন।
যার পোষাকী নাম “নবজীবন বৃদ্ধাশ্রম”।




চিত্রঋণঃগুগল ইমেজ  
পত্রসজ্জাঃস্বরূপ চক্রবর্তী




































কবিতা-ফিরোজ আখতার

অপরাজিতা'র হলুদ গাঁদা


Picture Courtesy: Google Image

হলুদ গাঁদা'র গুচ্ছগুচ্ছ পাপড়ি 
বইয়ের পাতা'র খাঁজেখাঁজে জমিয়ে রাখে 
অপরাজিতা নামের মেয়েটি ৷
বই খুললেই লোমের গন্ধ পায় ।
আমজানের জটিল ম্যাপ প্রতিভাস হয় 
প্রাক্তনের পেশিবহুল বুকের চওড়া খাঁচায়,
যেখানে একদিন মুখ লুকিয়ে সে কেঁদেছিল ৷

তারপর নোনাধরা দেওয়াল বেয়ে হঠাৎ-ই একদিন
উবে গেছিল তাদের প্রেম ৷ 

আজ, অপরাজিতা'র নীল পাপড়ি বিবশ কান্নায়
আশ্রয় চাইছে হলুদ গাঁদা'র পাপড়ি'তে ৷ হঠাৎ-ই ৷ 




চিত্রঋণঃগুগল ইমেজ  
পত্রসজ্জাঃস্বরূপ চক্রবর্তী



















সম্পাদকীয়- শীত সংখ্যা ১৪২৫ (II ND Yr. V Th Issue-XVII Th Edition)





সুধী বন্ধুরা,

একটু দেরী ক’রে হলেও এসে গেলো অলীকপাতার শীত সংখ্যা, ২০১৮,  আপনাদের অশেষ ভালোবাসা আর সাহচর্য পাথেয় করে প্রকাশিত হল এবারের সংস্করণ, সপ্তদশ সংস্করণ, আমরা মোটামুটি সাবালক হয়ে উঠছি বলা যায়, কি বলেন?এই ভাবেই এগিয়ে চলার, সতেরো থেকে সত্তর হবার আশা রাখি, ভাবছেন বয়স বাড়লে বুড়ো হয়ে যাবে অলীকপাতা? না, অলীকপাতার রক্তে তা নেই, আমরা সবাই সজীব, চিন্তায়, মননে সৃষ্টিতে- চিরনবীন। আর তাই, এবারের বিষয়, শীতকাল হলেও শীতল হয়নি আমাদের লেখক লেখিকাদের কলম, তারই চিহ্ন দেখতে পাবেন অলীকপাতার পাতায় পাতায়, প্রতিটি সৃষ্টিতে।

বিশেষ ভাবে কিছু বলা না থাকলেও শ্রীমতি বর্ণালী গাঙ্গুলীর প্রচ্ছদে এবং আমাদের পরিবারের লেখক লেখিকাদের কলমে, ক্যামেরায় সমাজের প্রতিটি দিক -ভালো, মন্দ, সব, ফুটে উঠেছে খুব সুন্দর ভাবে, এক অদ্ভুত নিঃস্পৃহতার মাধ্যমে তাঁদের চিন্তার বিষয় গুলি তাঁরা ফুটিয়ে তুলেছেন, “দাগিয়ে তোলেন নি” । কোনও কিছু আরোপিত নয়, সব পরিমিত, আর, এটাই অলীকপাতার একটা নিজস্ব “ফ্লেভার” বলুন বা “জাত”, অথবা “আইডেন্টিটি”, গড়ে তুলছে ধীরে ধীরে...  

আমার নিজের বিশ্বাস, “কোনও কিছু সৃষ্টির সাফল্য আসে তখনই যখন স্রষ্টা তাঁর নিজের সাথে কথা বলেন, নিজের অনুভব বলেন, নিজের ভাষায় বলেন, ধার করা আবেগ, ভাষা বা মাধ্যম দিয়ে সেটা প্রকাশ করা যায়না..., তবে, আগেই বলেছি, এটা আমার নিজের বিশ্বাসের কথা, সবাই একমত নাও হতে পারেন”।

সম্পাদকীয় লেখার সময় আমার কখনই থাকেনা, এটা আমার বিনয় বা ন্যাকামি নয়, কারন পৃষ্ঠা গুলি তৈরি হলেই সাত তাড়াতাড়ি “পাবলিশ” বোতামটা টেপার জন্য হাত নিশপিশ করে, ফলে, শুধুমাত্র “সম্পাদকীয়”র নামে কথার কচকচি বা সম্পাদকের “দাদাগিরি”র জন্য দেরি করা কোনও ভালো জিনিষ নয় বলেই আমি মানি,তবে হ্যাঁ, এই অছিলায় আপনাদের সঙ্গে কথা বলতে বেশ ভাল লাগে, তাই...।

স্রষ্টার কথা বলেছি, কিন্তু, এই প্রথমবার, এই সংখ্যার সৃষ্টি গুলির কথা বলতে খুব ইচ্ছে করছে, কিন্তু আমার শত্রু হল ঘড়ির কাঁটার টিকটিক, তাহলে আসুন এক কাজ করা যাক, এবারের প্রকাশিত সমস্ত লেখার শিরোনাম গুলিই শুধু লিখে দিই, দেখা যাক, কি দাঁড়ায়।

“ ‘এই তো জীবন’, ‘স্মৃতির সাতকাহন’ দিয়ে তৈরি অনেকটা যেন ‘বৃদ্ধাশ্রমের স্মৃতির সেই দিন গুলোর” মতো ‘কল্পলোকে’ বসবাস। মা, মা তোমায় বড্ড মনে পড়ে,  ‘অপরাজিতার হলুদ গাঁদা’ আজ বইয়ের পাতার ভাঁজে খোঁজে ‘ একটু উষ্ণতা’; ‘শীতের আমেজ’ আনে ‘ইচ্ছে জ্বর’, ‘একচক্ষু হরিনের’ মত আমরা শুধু দেখি ‘দাবানল’ আর ‘চন্দ্রগ্রহণ আমার বেলা যে যায়” , ভাবি চিৎকার করে ‘যদি বলতে পারতাম’ ,  ‘দেবাশীষ দা’ এই শীতের ‘মরশুম’এ লেখোনা চিঠি ‘আকাশের ঠিকানায়’, লেখো ‘দার্জিলিঙয়ের এক সকাল’ এর গল্প, চলুক ‘অলীকপাতা আর রূপক কর্মধারা’ ...কারন......, ‘শীতকালটা এসেই গেলো’......



আপাততঃ থাক, আজকের মতো আসি, ভালো থাকুন,সৃষ্টিতে মাতুন, আশাকরি তাড়াতাড়ি আবার দেখা হবে......
স্বরূপ চক্রবর্তী
হরিদ্বার, ২৫শে ডিসেম্বর,২০১৮


কবিতা-আজাহারুল ইসলাম


দেবাশীষ দা

Picture Courtesy: Google Image


এই কদিনে বোধহয় আপনি প্রস্তুত ছিলেন
দেবাশীষ দা,
 চোদ্দ তারিখের সকালবেলার
ভবিষ্যতটাও হয়তো কয়েকদিন আগেই দেখে ফেলেছেন,

সাথে অনুষ্ঠানটিও
এই যে এই সাজানো কবিতামাখানো ঘর 
কাগজের ফুল দিয়ে সাজানো একটা পৃথিবী,

সবকিছু

আপনার ঘরের ল্যাপটপ থেকে
পেনড্রাইভ
দুটি ডেস্ক স্টপ,
এমনকি জানলার পর্দা
সঙ্গে নোটিশ বোর্ডটাও

আপনার ব্যবহৃত সবকটা টোপোসিট

হয়তো অধ্যাপক দেবাশীষ দাস ছাড়া আর কাউকে চেনে না,

বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা নিমগাছ,
কিংবা পদ্মভবনের প্রবেশদ্বার থেকে ঠিক এগোতেই

তিনধাপের সিঁড়ি বেয়ে
বেয়ে,

একটু এগোতেই দেখলাম কোনো কিছু  স্থির নেই

কেমন যেন নতুন নতুন শব্দ ঝরে পড়ছে,
শুকনো নিমপাতার মতো
আর লালঘোমটা পরানো বাড়িটা

ভিজে যাওয়া ঘোমটার আড়ালে,
কেমন যেন অদ্ভুতভাবে হাসছে,
এতোদিন যতগুলো চক আপনি ব্যবহার করেছেন,

যতবার দাগ কেটেছেন সাদা কিংবা নীল রঙের বোর্ডে,

ততবার সবকিছু নতুন হয়ে উঠছে,
সজীব হয়ে উঠছে

আপনার এঁকে দেওয়া গিরিশৃঙ্গ 
আকাশের তারাগুলিকে টেনে এনেছে তার মাথার কাছে,

দূরন্ত পর্বতচূড়া চোখ এড়িয়ে লুটিয়ে পড়েছে পদ্মভবনের 
কোণের ঘরটার ছাদে,

বিভাগের আঠাশটি দরজা,
কিংবা ওই ত্রিশ চল্লিশটা জানলা,
প্রায একশ কুড়িটা টা টুল,
কিছু চেয়ার টেবিল

আর বলতে পারেন আমরাও,

প্রফেসর দাসের মন খারাপের কথা এখনও জানতে পারেনি,

দীর্ঘ চল্লিশ টা বছর যিনি ভূগোলকে বাঁচিয়ে রাখার দায় নিয়েছিলেন 

এবং আগামীতেও নেবেন

সেই মানুষটিকে কি করে বিদায় দি করে বলুন তো,

এর চেয়ে তো একটা কবিতা লেখা যেত,

তাই না!!



চিত্রঋণঃগুগল ইমেজ  
পত্রসজ্জাঃস্বরূপ চক্রবর্তী






















গল্প-বনবীথি পাত্র


শীতকালটা এসেই গেলো

Picture Courtesy: Google Image
.
মোবাইলে মেসেজ টোনটা শুনেই দীপ্ত বুঝতে পারে , শ্রুতির মেসেজ । এই নিয়ে আধঘন্টা অন্তর চারটে মেসেজ এলো । হাসি হাসি মুখে মোবাইলটা বের করে পকেট থেকে , এবার একটা রিপ্লাই না পেলে ম্যাডামের মাথা গরম হয়ে যাবে । তখন পুরো প্ল্যানটাই বানচাল হয়ে যাবে হয়ত । দীপ্তর জন্য অনেক্ষা না করে অটো ধরেই হয়ত বাড়ি চলে যাবে । আর তারপর.....
উফ্ , তারপরের টুকু আর মনে করতে চায়না দীপ্ত । অভিমানের পারদ গলতে সেই মাঝরাত ।
ছোট্ট একটা মেসেজ সেন্ড করে দেয় , আমি আসছি ঠিক সময়ে ।
চারটে পঁচিশ , আধঘন্টা সময় আছে এখনো । চটপট হাতের কাজগুলো সারতে থাকে দীপ্ত ।
সময়মতো বাইক নিয়ে পৌঁছে যায় শ্রুতির অফিসের সামনে । 
                    তারপর দুজনে মিলে পৌঁছে যায়  ওদের প্রিয় সেই নির্জন গঙ্গার ঘাটে । এইখানেই ওদের দুজনের প্রথম দেখা হয়েছিল দুবছর আগে । কথাচ্ছলে আলাপ , পরিচয় , মোবাইল নম্বর বিনিময় , কিছুদিন দেখা নাহলে মনখারাপ , চুটিয়ে প্রেম , অবশেষে সাড়ে তিন মাস আগে বিয়ে । দুজনের অফিসেই কাজের এত চাপ , হানিমুনটাই হয় ওঠেনি এখনো ।
পড়ন্ত বিকাল , শেষ হেমন্তে সূর্যের আলো বড় তাড়াতাড়ি নরম হয়ে যায় । শেষ আলোর রেখাটা এলোমেলো আলপনা এঁকে যাচ্ছে জলের বুকে । গঙ্গার শিরশিরে ঠাণ্ডা হাওয়া একটা শীতের আমেজ তৈরি করছে । তবু সারাদিনের অফিসের ক্লান্তির শেষে অবশ্য হাওয়াটা মন্দ লাগছে না দীপ্তর । শ্রুতির বোধহয় একটু শীতশীত করছে , সালোয়ারের ওড়নাটা গায়ে জড়িয়ে দীপ্তর সাথে একটু ঘন হয়ে বসে । 
বাবু পাখি নেবেন , আচমকা পিছন থেকে ডাকটা শুনে চমকে উঠেছিল দুজনে । 
খাঁচায় বন্দী ছোট্ট ছোট্ট দুটো রঙীন পাখি , দেখেই পছন্দ হয়ে গিয়েছিল দীপ্তর । শ্রুতি বারণ করা সত্ত্বেও কড়কড়ে এক'শ টাকা দিয়ে কিনে নিয়েছিল খাঁচা সহ পাখি দুটো । যথারীতি মুখভার শ্রুতির , খাঁচায় পাখিকে আটকে রাখা মোটেও পছন্দ নয় ওর । এইভাবে পাখি পোষা মানে পাখিদের কষ্ট দেওয়া ।
দীপ্ত তখন ফিরে গেছে ওর ছোটবেলায় । ওদের বাড়িতে একটা খাঁচায় পোষা টিয়াপাখি ছিল , নাম ছিল কেষ্টদাস । কি সুন্দর কথা বলতো । খুড়তুতো জেঠতুতো ভাই-বোন মিলে ওরা ছ-জন ছিল । ঠাকুমার শুনে শুনে ওদের বলতো , এই তোরা পড়তে বস । ওকে না দিয়ে কেউ কিছু খেলেই চেঁচিয়ে পাড়া মাথায় করতো । কেষ্টদাস যখন মারা যায় , দীপ্তর সামনে তখন মাধ্যমিক পরীক্ষা । আপনজন মারা যাওয়ার মত কষ্ট হয়েছিল সবার । দীপ্ত তো কটাদিন পড়াশুনোয় মন বসাতেই পারেনি । ইচ্ছা থাকলেও তারপর আর পাখি পোষা হয়নি ।
সন্ধ্যেবেলা বাড়ি ফেরার পথে রেস্টুরেন্টে খাওয়ার প্ল্যান ছিল । কিন্তু তাতে রাজি হয়না শ্রুতি । একবার মুড বিগড়ে গেলে সহজে স্বাভাবিক হতে পারেনা , এইটা শ্রুতির খুব খারাপ অভ্যাস ।
দীপ্ত আজ অবশ্য আপন খেয়ালে মত্ত । বাড়ি ফিরেই খাঁচা নিয়ে ছোটে ব্যালকনিতে , যেখানে আজ থেকে ওরা থাকবে । বৃষ্টির ছাট এলে অবশ্য সরিয়ে দিতে হবে খাঁচাটা । রবিবার একটা বড় খাঁচা কিনে আনবে ওদের জন্য , তাহলে বেশ আরাম করে থাকতে পারবে ।
শ্রুতির পা ফেলা , জিনিসপত্র সরানোর আওয়াজেই বোঝা যাচ্ছিল মেজাজের উত্তাপ । সন্ধ্যের এককাপ চা টাও না করে টিভি চালিয়ে বসে যায় শ্রুতি , সাথে মোবাইল নিয়ে খুটখুট । ড্রেস চেঞ্জ করে ফ্রেশ হতে হতে দীপ্ত ভালোই বুঝতে পারছে , টিভিটা অকারণেই চলছে । শ্রুতির সেদিকে কোন ভ্রূক্ষেপ-ই নেই । হোয়াটসঅ্যাপে মগ্ন এখন সে । দীপ্ত-ই রান্নাঘরে গিয়ে চা করে এনে এককাপ নামিয়ে দেয় শ্রুতির সামনে । মানভঞ্জনের চেষ্টা না করেই চলে যায় বেডরুমে , ল্যাপটপটাকে নিয়ে শরীরটা গড়িয়ে দেয় বিছানায় । আহ্ , সারাদিন পর কি শান্তি ।
কি এমন অন্যায় করেছে পাখি দুটোকে এনে , যে এতো মেজাজ গরম হয়ে গেল ? দেখা যাক্ কতক্ষণ রাগ করে কথা না বলে থাকতে পারে । আজ নিজে থেকে কিছুতেই কথা বলবে না দীপ্ত ।
রাতে খাওয়ার টেবিলে দীপ্তর সবচেয়ে অপছন্দের খাবার , প্রেসার কুকারের সিদ্ধভাত আর ডিমের অমলেট । শ্রুতি আজ সবটুকুই করছে দীপ্তকে জব্দ করার জন্য । তবু কোন কথা না বলে ঐ ভাত-ই গিলে নেয় দীপ্ত । শ্রুতি অবাক চোখে দীপ্তর খাওয়া দেখছিল , তখনি একবার চোখাচোখি হয়ে যায় দুজনের । চট করে নজর অন্যদিকে ঘুরিয়ে , যেন দীপ্তকে দেখতে ওর বয়েই গেছে ভাব এনে সিচুয়েশনটা ম্যানেজ করার চেষ্টা করে শ্রুতি । 
খাওয়া সেরে অন্যদিনের মতই শুতে চলে যায় দীপ্ত । শ্রুতির রান্নাঘরের কাজ , তারপর রূপচর্চা সেরে বিছানায় যেতে রোজ-ই দেরি হয় । ক্লান্ত শরীরে তীর্থের কাকের মতো চেয়ে চেয়ে শ্রুতির ত্বকচর্চা দেখে । এই রাত্তিরবেলা এতো সাজের যে কি আছে বোঝেনা । আজ অবশ্য শুতে যাওয়ার আগে ব্যালকনিতে পাখি দুটোকে একবার দেখে আসে দীপ্ত । 
যা কোনদিন হয় না , আজ তাই হলো । বিছানায় শুতেই কখন যে ঘুমিয়ে গেছে বুঝতে পারেনি ।
ফোঁপানির আওয়াজে ঘুমটা ভাঙতেই নিজের-ই খারাপ লাগে দীপ্তর । অন্ধকারেও বুঝতে অসুবিধা হয়না শ্রুতি কাঁদছে । কান্নাকাটি করলেই ওর মাথা যন্ত্রণা হয় , আর মাথার যন্ত্রণা হলে যা কষ্ট পায় বেচারি চোখে দেখা যায় না । ইস্ শ্রুতিকে আজ একটু বেশি অবহেলা করে ফেলেছে , খুব কষ্ট পেয়েছে ও । আলগোছে শ্রুতির হাতটা স্পর্শ করতেই কারেন্ট খাওয়ার মত সরে যায় শ্রুতি । গায়ের ঢাকাটা আরো ভালো করে জড়িয়ে নিয়ে আরো কিছুটা দূরে সরে যায় ।
তাও শ্রুতিকে কাছে টানার চেষ্টা করে দীপ্ত । অভিমান যে এতো সহজে কমবে না সাড়ে তিনমাসের অভিজ্ঞতায় বুঝে গেছে দীপ্ত । 
তখন অনেকটা রাত , দীপ্তর বাহুপাশে আবদ্ধ শ্রুতি । 
সকালেই পাখি দুটোকে উড়িয়ে দেবো , এই তোমায় ছুঁয়ে কথা দিলাম ।
সত্যি বলছো , ওদেরকে আকাশে ছেড়ে দেবে ?
হুম দেবো তো , এই দেখো তোমাকে ছুঁয়ে বলছি । বলেই আরো কাছে টেনে নেয় শ্রুতিকে ।
শ্রুতির খিলখিল হাসির আওয়াজে বোঝা যায় মেঘ পুরোপুরি কেটে গেছে ।
দীপ্ত বেশ ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা করছে বলতেই নিজের গায়ের চাদরের গরমে দীপ্তকে টেনে নেয় শ্রুতি ।
উফ্ শান্তি , অবশেষে শীতকালটা এসেই গেলো.........





চিত্রঋণঃগুগল ইমেজ  
পত্রসজ্জাঃস্বরূপ চক্রবর্তী




















কবিতা-সম্পা দত্ত।



দার্জিলিংয়ের এক সকাল

Picture Courtesy: Google Image




কুয়াশা ভেজা ভোর,
শীত ছুঁয়ে আছে সকাল-
পাহাড়ের গায়ে পাহাড় মিশে গেছে,
ব‍্যালকনি জড়িয়ে শীত-কামড়।
ঝাউ পাইন রডোডেনড্রন সেট্রোনীলা-
শিশির বিন্দু মেখে যুবতী মেয়ে,
গভীর রাতে জোনাকির আলো,
লক্ষ হীরা জ্বল জ্বল করছে।
শৈল সুন্দরী ধাপসিঁড়ি বেয়ে
ঝাউতলা পাকদন্ডী বেয়ে বেয়ে চলে।
এক অনন্য শীত-সকাল
বরফ মেঘ এসে ভিজিয়ে দিল মন।।

দার্জিলিংয়ের এক সকাল-






চিত্রঋণঃগুগল ইমেজ  
পত্রসজ্জাঃস্বরূপ চক্রবর্তী

















Main Menu Bar



অলীকপাতার শারদ সংখ্যা ১৪২৯ প্রকাশিত, পড়তে ক্লিক করুন "Current Issue" ট্যাব টিতে , সবাইকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা

Signature Video



অলীকপাতার সংখ্যা পড়ার জন্য ক্লিক করুন 'Current Issue' Tab এ, পুরাতন সংখ্যা পড়ার জন্য 'লাইব্রেরী' ট্যাব ক্লিক করুন। লেখা পাঠান aleekpata@gmail.com এই ঠিকানায়, অকারণেও প্রশ্ন করতে পারেন responsealeekpata@gmail.com এই ঠিকানায় অথবা আমাদের ফেসবুক গ্রুপে।

অলীক পাতায় লেখা পাঠান