অলীক পাতার অন্যান্য সংখ্যা- পড়তে হলে ক্লিক করুন Library ট্যাব টি



"অলীক পাতা নববর্ষ সংখ্যা ১৪৩১ প্রকাশিত, সমস্ত লেখক -লেখিকা এবং পাঠক -পাঠিকাদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা..."বিশদে জানতে ক্লিক করুন " Notice Board ট্যাব টিতে"

Saturday, April 25, 2020

গল্প-লকডাউন- শম্পা সান্যাল


লকডাউন
শম্পা সান্যাল
অলঙ্করণঃ মিঠুন দাস

তোমার এতো কথা কেন শুনি!
‘মানে?’
‘সারাদিন আমি বাড়িতে কি করছি না করছি, কি দরকার সবাইকে বলার?
‘ওমা! এতে দোষের কি আছে! করো বলেই বলতে পেরেছি! কেন? কি হয়েছে কি তাতে?’
‘ছাদে গেছি তো পাশের বাড়ির সরকারবাবু বলছেন-‘খুব কাজটাজ হচ্ছে শুনলাম!’
বললাম-‘হ্যাঁ, ঐ একটু; সময়‌ কাটাতে আর তাছাড়া মালার একার পক্ষে এখন তো আর সবকাজ করা...’
‘তাই শুনে তো আমার গিন্নি  আমাকে অষ্টপ্রহর আপনার গুণকীর্তন করে খোঁটা দিচ্ছে মশাই, গৃহযুদ্ধ বাধাচ্ছেন তো!’
-‘হাঃ হাঃ হাঃ আমি তাহলে আপনার মাথা ব্যথার কারণ এখন?’
-‘দেখুন মশাই ওসব মেয়েলী কাজ আমার আসে না, সোজা কথা। আপনার গিন্নিকে একটু বলবেন তো’
-‘সরকারদা বললেন?’
-‘তা নয়তো কি?’
-‘চোখ নেই? দেখতে পায়না ভেবেছো?  মোটেও আমার বলার জন্য বলেনি’
-‘তুমি তোমার কথাবার্তা বন্ধ রাখোতো; যেটুকু দরকার সেটুকুই বলোনা’
-‘হ্যাঁ সারাদিন মুখ বন্ধ করে গাধার খাটুনি খেটে যাই- বলেছি তো বেশ করেছি’
-‘হ্যাঁআআ! বারণ করছি কিনা’
বহুদিন পর দুজনে, একান্তে। অজান্তে, কি, জেনেবুঝেই হোক্ একটু প্রগলভতা করেই ফেললাম। 
-‘আরে! মনে নেই, বিয়ের সময় কি বলেছিলাম দু'জনে?’
-‘ক্বিইই!’
‘দোষ ঢাকবো, গুণ প্রকাশ করবো’,কি বলেছিলাম না? তুমি না বললে কি হবে, আমি তো...’
-‘থামো তো’ 
-‘থামবো না! " হাম্ তুম্ এক্ কামরে মে ...”
-‘আঃ! আস্তে! কি হচ্ছে কিইইই!’
-‘আস্তে বললে কানে যাবে!’

ধুত্তোর! বিরক্ত হয়ে চলে আসি।  করোনা না মরোনা। চিনের সস্তা মালের মতো রোগটাও ছড়িয়ে পড়েছে সবখানে। বন্দী জীবন যাপন এখন। এরমধ্যে স্বরূপের বায়না দেখো! কে স্বরূপ? সে আছে একজন, ঠেলার জ্বালায় মরছি সকলে, আর, বলে কিনা একটা লাফিং ক্লাব খুলতে চাইছে। সত্যি বলতে, শুনেই কিন্তু একটু হাসি পেয়েই যাচ্ছে! ক্লাবে যোগ দিতে যেতে হবে না, অনলাইনে হাসবে সবাই। ভিডিও কনফারেন্স হবে সকাল ছ'টায়। তখন সবাই হাঃ হাঃ, হি হি, খ্যাক্ খ্যাক্  যেভাবে ইচ্ছে হেসে যাও। হেসেই যাও। শরীর, মন সব নাকি একদম তরতাজা হয়ে যাবে! ঠ্যাকা পড়েছে আমার! তখনই জম্পেশ ঘুমটা আসে! যার ইচ্ছে যোগ দিক্। সোজা কথা আমি ঐ লাফিং ক্লাবে নেইই। মনমেজাজ মোট্টে ভালো নেই। ছেলেমেয়ে, আত্মীয়-বন্ধু সবার চিন্তায় রয়েছি।এখন এই হাসি ঠাট্টা! আসে কোত্থেকে কে জানে!
     'দিন ধরে ভাবছি, এই যে চাইনিজ মালটা বিশ্ব বাজারটাকে গিলতে চাইছে, তার জেরে লকডাউন। জন্মে এ জিনিস দেখিনি। প্রত্যেকটা মানুষ সন্দেহজনক অত‌এব নো এন্ট্রি এবং নো আউটডোর বিজনেস। দেখতে দেখতে মনে এলো, আচ্ছা! একটা রচনা লিখতে যদি বলি, লকডাউন-আশীর্বাদ না অভিশাপ!? 
একটা বাঁধা রচনা পড়েছি না সবাই! বিজ্ঞান-আশীর্বাদ না অভিশাপ? ঠিক সেইরকম !
 এটা ঠিক যে প্রত্যেকের দেখা, ভাবার পরিসীমা বলবে-অর্ধেক গ্লাস খালি, আবার, কেউ বলবে-অর্ধেক গ্লাস পূর্ণ। অর্থাৎ এই  লকডাউনেরও দোষ- গুণ বেরোবে, নিশ্চিত ; আমি বলে দিলাম, হুঁ! 
কিন্তু আমরা তো অত্যন্ত সচেতন জনগণ! কান ধরে মুরগির মতো লাফ, লাঠির ঘা, কয়েদ-ঘর, জরিমানা এসব হচ্ছে যদিও, আরে কাগজ পড়তে কি একটু দীর্ঘদিনের অভ্যাস, মোড়ের চায়ের দোকানে এককাপ চা খেতে যাওয়া, হেলমেট ভ্যানিটি ব্যাগের মতো ঝুলিয়ে স্পীডে যাওয়ার মধ্যে যে হিরোইজম্ আছে বললে কে বুঝবে!  কেবলমাত্র ভীতু বাঙালি আমাদের মতন যারা তারা আপাততঃ ঘরবন্দী বেশির ভাগ সময়টাই। অনেকদিন পর সারাটা সময় একসাথে। বুড়ো- বুড়ি  বহুদিন বাদে দুজনে কূজনে...
এটা কারণ হিসেবে নির্ঘাত আশীর্বাদের ঘরে যাবে তবে-থাক্। সব প্রকাশ করার কি দরকার! এইমাত্র তো বেশি কথা বলার জন্য একচোট হয়ে গেছে!
মুশ্কিল হচ্ছে এরকম বাগবিতন্ডার  পর কম করে তিনদিন ভাববাচ্যে কথা চলে। এখন আর সে উপায় নেই। অগত্যা, এখন ঘরে এক কানে কালা ( এটা বল্লেই শুনতে হয়-কানে কালাই হয়, কানা হয় না) তিরিক্ষি মানুষ, আর, আমি হলাম গিয়ে ( আস্তে বলতে হবে। আমি দেখেছি, কালা যেটা শোনার না সেটা ঠিইইক্ শুনতে পায়) নিপাট ভালো মানুষ। ঘরভর্তি লোকজন নিয়ে হৈচৈ করতে দারুণ ভালোবাসি। অবশ্য সেটা তিনিও যে ভালো বাসেন না, না! তা না!  আপাততঃ সেসব বন্ধ। সবাইকে বাদ দিয়ে তাই... 
‘দুজনে মুখোমুখি  গভীর দুখে দুখি’

সামনে টিভি চলছে। ও বাবা! ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স এই বদ্ধ জীবন যাপনে বেড়ে গেছে! আড়চোখে একবার দেখে নিলাম।  এই ফাগুনে নতুন রূপ দেখতে হবে নাকি এ বয়সে!       
 অ ভি শা প ! একদম, এটা অভিশাপের পক্ষে যাবে, এ নিয়ে কারোর দ্বিধা থাকতেই পারে না।    যদিও বা অবকাশ পেলাম তবে এখন কি কিছু তারে বলা যায়! বলাটাও কি ঠিক হবে! আবার বলিও যদি, কেবল তাকেই যা বলতে চাই, আশপাশের লোকজনও যে শুনতে পায়! তাহাতে জগতের ক্ষতি কি জানিনা তবে আমার যে বিস্তর ক্ষতি! 

দু কথা বলি যদি! 
তাহাতে আসে যাবে কিবা কার?

ওরে বাবা! আমার খুব আসে যায়, পাগল নাকি? এমনিতেই কথা বলার লোক পাচ্ছিনে; দু কথা শোনালে ছাড়বে? দেবে না দশ কথা শুনিয়ে! মনের কথা মনেই থাক্;  বাক্যালাপ যেটুকু আছে, তাই চলুক বাপু।
                           বহুদিন পর টানা রান্নাঘরে। ওরে মালতি রে! এখনো কতোদিন! খাওয়ার সময় খুব ভয়ে ভয়ে তাকাচ্ছি, ট্যারা চোখে। প্ল্যান অবশ্য একটা ভেঁজে রেখেছি , একবার খুঁত ধরেছো তো মরেছো। 
-‘বেশ, কাল থেকে তাহলে  তুমিই ...’
আরে সেও কি কম যায়? কেমন সোনা মুখ করে খেয়ে চলেছে দ্যাখো!  একটু আধটু আবার প্রশংসাও। কিসের পূর্বাভাস বুঝতে পারছি না, একটু ধরে খেলতে হবে বুঝতে পারছি। গ্যাস বাঁচানোর নামে আমিও দুদিনের রান্না একদিনে করে নিজেকে জিইয়ে রাখছি বলেই না এইসময় বসে স্বরূপের ক্লাবের সদস্যা (এখনো অবশ্য হবো কিনা ভাবছি) আমি এই একটু! ধ্যুৎ! গেল বাঁচানো সময়টুকু আবোলতাবোল বকে! যা বলছিলাম, এরমধ্যেই একদিন শুনি

-‘বুঝলে! এরপর পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে’
-‘কিরকম?’
-‘অর্থনৈতিক মন্দা এমন জায়গায় আসবে!’
-‘মহামারীর পর দুর্ভিক্ষ এই তো শুনেছি, পড়েছিও, আজ জীবনে এ অভিজ্ঞতাও হবে।
-‘খুব হিসেব করে চলতে হবে, বুঝলে?’
-‘সেতো বটেই’
-‘দরকার হলে মালতিকে ...’
-‘হরি হে! এই তবে ছিল মনে? কোপটা এসে পড়লো শেষে এই শর্মার ঘাড়ে’ 
-‘দ্যাখো! তবে আচমকা ওর কাজ চলে যাওয়া’-
গলাটা অজান্তেই নীচু স্কেলে। প্রায় হপ্তাতেই পালা করে দুজন সহায়িকার একজনকে বরখাস্ত করি, ওরাও অভ্যস্ত হয়ে গেছে। চুপচাপ নিজের কাজ করে যথারীতি পরেরদিন, অবশ্য সেদিনটা ঘনঘন ঘড়ি দেখাটা বিশেষ জরুরী হয়ে পড়ে। আসার সময় কি পেরিয়ে গেল! সত্যি সত্যি তাহলে এবার  কি? এভাবেই বহুবছর পেরিয়ে এলাম একত্রে। আজ ওদের জন্য ভাবনাও হচ্ছে। কিন্তু আজ কর্তা যা বলছেন, ‘ওরে বাবারে! এখন ওদের হয়ে সওয়াল করতে গেলেই তো আমার অস্ত্রে আমাকে কুপোকাৎ করে দেবে’
-‘কেন! প্রায়ই তো শুনি ডট্ ডট্ ডট্’-
 -‘করোনা প্লীজ! মেরো না’
সময় বুঝে ব্যাপারটা নিয়ে বসতে হবে। আপাততঃ শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান করাই সঙ্গত, ঠিক কিনা?
উপসংহার টেনে বলি, এখন যাই, খিদে পেলে আবার বুড়োটা মোটে সহ্য করতে পারে না। আসলে, প্রেম ভালোবাসা এসব অনেকটা ঐ ডালের মতোন। বোঝা গেল না তো? উপর থেকে জোলো ডালটা উঠে গেলে মেলে ঘন ডাল। বলে না-“ ডালের মজা তলে!” তাই বয়েস বেড়েছে দুজনের, একত্রে থাকার বয়সটাও আর তাই কখন যে তলে তলে এতোটা...
‘সে কথা আজি যেন বলা যায়...




| Aleekpatamagazine.blogspot.in |
  |ALEEK PATA-The Expressive World |Online Magazine |
| Editor: Swarup Chakraborty | Publisher: Debasree Chakraborty |
| Special Lock-down Issue,2020 | April 2020 |হাসিরাশি সংখ্যা।
।নববর্ষ ১৪২৭| Third Year Fifth Issue |22nd Edition|
|© All Rights Reserved By The Editor and The Publisher |
|a DISHA-The Dreamer Initiative |


 সূচি পত্র / Index


















No comments:

Post a Comment

Please put your comment here about this post

Main Menu Bar



অলীকপাতার শারদ সংখ্যা ১৪২৯ প্রকাশিত, পড়তে ক্লিক করুন "Current Issue" ট্যাব টিতে , সবাইকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা

Signature Video



অলীকপাতার সংখ্যা পড়ার জন্য ক্লিক করুন 'Current Issue' Tab এ, পুরাতন সংখ্যা পড়ার জন্য 'লাইব্রেরী' ট্যাব ক্লিক করুন। লেখা পাঠান aleekpata@gmail.com এই ঠিকানায়, অকারণেও প্রশ্ন করতে পারেন responsealeekpata@gmail.com এই ঠিকানায় অথবা আমাদের ফেসবুক গ্রুপে।

অলীক পাতায় লেখা পাঠান