অলীক পাতার অন্যান্য সংখ্যা- পড়তে হলে ক্লিক করুন Library ট্যাব টি



। । "অলীক পাতা শারদ সংখ্যা ১৪৩১ আসছে এই মহালয়াতে। । লেখা পাঠানোর শেষ তারিখ ১৫ ই আগস্ট রাত ১২ টা ।.."বিশদে জানতে ক্লিক করুন " Notice Board ট্যাব টিতে"

Showing posts with label অনুগল্প. Show all posts
Showing posts with label অনুগল্প. Show all posts

Tuesday, October 20, 2020

শালুক পর্ব-অনুগল্প- অণুগল্প মালা তাপসকিরণ রায়

 

অণুগল্প মালা
তাপসকিরণ রায় 


মহুয়া 

মহুয়া আমার জীবন ছুঁয়ে ছিল

জাতপাত, রহন-সহনে সে যে ছিল অন্য ধারার নারী !

বস্তারের মনঝোলী আদিবাসী গ্রামে কিছুদিন ছিলাম। রিপোর্টার হয়ে নকশাল গতিবিধির রিপোর্ট দিতে হত। 

অরণ্যঘ জায়গা। লোকালয় থেকে দূরান্তে, শাল-মহুলের অরণ্যঘেরা এক আদিবাসী গ্রামের ঝোপড়ি ঘরে থাকতাম কাজের ফাঁকে ফাঁকে মহুয়াকে বারবার দেখেছি ও নিশ্চয় আমাকেও দেখেছে কুচকুচে কালোর মাঝে তেলাল শরীর, আবেদনে ভরে থাকা চকমকি চেহারা তার। 

রোজ মহুয়ার তাড়ি খেতে যেতাম। আদিবাসীদের নিজস্ব চোলাই, গলায় পড়লেই ছলাং দিয়ে উঠত শরীর ! বউ, বেটি, মরদ সবাই এসে ভিড় করত ভাটিতে। মেয়েরা আমায় দেখে হাসত সেদিন মহুয়া আমার সামনে এসে বলে ছিল, আজ তুর ঘর যাব, বাবু ! ও নেশায় মত্ত ছিল, উচ্ছল হাসছিল। 

-চল, বলে নেশামত্ত আমি ওকে আমার আস্তানায় নিয়ে আসলাম।

মহুয়া এসেই আমার ঘরের খাটিয়ায় ধপ করে শুয়ে পড়ল। 

-এই কি করছিস তুই! 

হিহি, হাহা করে খানিক হেসে আমার দিকে তাকিয়ে ও বলল, তু খুব সৌন্দর বাবু ! তুকে আমি ভালবাসি রে বাবু ! হেঁচকা টান মেরে ও আমায় ওর শরীরের ওপর টেনে নিলো

আমি তখন নেশায় বিভোর, বললাম, এই, কি হচ্ছে মহু ?

মহুয়া আমায় আদর-চুম্বনে ভরিয়ে দিতে দিতে বলে উঠেছিল, তু চলে যাবি জানি বাবু-আমি তুর মত সৌন্দর একটা বেটা মুর পেটে ধরতে চাই! 

                               

 

 

মা

সেদিন সবকিছু হারিয়ে গেল জানি মা বহুদিন হল মারা গেছে। তবু শোকে দুঃখে আজও, মা, বলে ডেকে উঠি কেন ?

আসলে আকাশে বাতাসে  অনির্বার লেগে আছে অনেক মায়ের চীৎকার। আজও বুঝি মায়ের পাহারায় ঘিরে আছি আমরা। কখনও 

মাঝরাত ভেঙে জেগে উঠে দেখি, আমার পাহারায় তবু মরা চাঁদ জেগে   আছে! আজও বুঝি আমার কপালে এসে মা টুক দিয়ে 

ঘুম পাড়িয়ে যাবে।

 

ক্ষমা

 

জীবন তো সময়ের পরিমাপ। তবু কি বিন্যাসে তোমার চাতুর্যতায় শরীরের বলিরেখা ঢাকা থাকে উদাসী হাওয়ায় তখনও তুমি বসন্ত খোঁজো। সেই নায়কের ফেলে আসা স্মৃতিটুকু তোমার অতীত ফিরিয়ে দেয়:

এখনও ফুল ভাল লাগে তোমার। একটি লাল গোলাপ হাতে দিয়ে সেও তো একদিন বলে ছিল-ভালবাসি, ভালোবাসি তোমায়-

সে দিন কঠোরতায় তাকে তুমি ফিরিয়ে দিয়ে ছিলে। আজ মনে হয়- সে ক্ষণকাল হারিয়ে যায়নি। আবার তা ফিরে আসতে পারে আর সে সময় যখন ফিরে আসবে তুমি ক্ষমা চেয়ে নেবে তার কাছে-সে ব্যর্থ নায়ক  চুমুটির কাছে।


Download ALEEK PATA Mobile APP

DOWNLOAD ALEEK PATA ANDROID APP


| Aleekpatamagazine.blogspot.com |
  |ALEEK PATA- Your Expressive World |Online Magazine |
| Editor: Swarup Chakraborty | Publisher: Debasree Chakraborty |
| Special Puja Issue, 2020 | October-November 2020 | শারদ সংখ্যা -১৪২৭।
| Fourth Year Third Issue |24 th Edition|
|© All Rights Reserved By The Editor and The Publisher |
|a DISHA-The Dreamer Initiative |
পড়া শেষ? পত্রিকা বন্ধ করুন


শালুক পর্ব- অনুগল্প-মহালয়ার গান -সমাজ বসু

 

মহালয়ার গান
সমাজ বসু

 






পাখির শিস আর মহালয়ার মিষ্টি গানের সুরে উত্তর কলকাতার শুকিয়া স্ট্রিটের বস্তিটার ঘুম ভাঙে। সাত বছরের ছোট্ট মেয়ে মহালয়া থাকে এই বস্তিতে। তাদের ঘর ছাড়াও আরও সাতটা ঘর পাশাপাশি। এই আট ঘরের মানুষজন সবাই মিলেমিশে থাকে। পরষ্পরের প্রতি হিংসা বিদ্বেষ ভুলে,সুখে দুঃখে সবাই সবার পাশে থাকার চেষ্টা করে। উপরন্তু, মহালয়ার গান যেন সবাইকে আত্মীয়তায় বেঁধে রাখে।

সাত ঘরের বাসিন্দারা সকলেই জানে, মহালয়ার দিন ভোরে মেয়েটার জন্ম হয়েছিল বলে দাদু তার মায়ের নাম, মহামায়ার সঙ্গে মিল রেখে নাতনির ওই নাম রেখেছিলেন। নামের মধ্যেই বেশ একটা পুজো পুজো গন্ধ আছে। তাই সে সবার চোখের মণি।

আর পাঁচটা ছোট ছেলে মেয়ের মত তার খেলাধুলোয় মন নেই। গান শুনতে সে খুব ভালবাসে। গানের গলাও খুব মিষ্টি। মহালয়ার দুঃখ, তাদের ঘরে টিভি নেই। পড়শিদের অনেকের টিভি আছে। তাদের ঘরে গিয়ে গান শোনে। শুনে শুনে গানগুলো সে শিখেও নেয়। কি আশ্চর্য ক্ষমতা। তারপর সেই গান যখন সে গাইতে শুরু করে,সবাই অবাক হয়ে তার গান শোনে।

দেখতে দেখতে মহালয়ার আগের দিন‌‌‌ এসে গেল। আজ রাত পোহালেই মহালয়া। কাল আবার মেয়েটার জন্মদিনও বটে। সাত পেরিয়ে আটে পা রাখবে। কাল সারাটা দিন মহালয়ার হৈ হুল্লোড়েই কাটবে। এইসব ভেবে তার মন চঞ্চল হয়ে ওঠে। বিছানায় শুয়ে এপাশ ওপাশ করতে করতে কখন যেন সে ঘুমিয়ে পড়ে।

পরদিন কাকভোরে সবার ঘুম ভাঙতেই একি বিপর্যয়! গতকাল মাঝরাতেই এলাকার ট্রান্সফর্মার পুড়ে গেছে। ভয়ানক অন্ধকারে ডুবে আছে এলাকা। সবার চোখে দুশ্চিন্তার ছাপ। কারো ঘরেই যে রেডিও কিংবা ট্রানজিস্টর নেই। টিভিতে মহালয়ার অনুষ্ঠানও দেখা হবে না। দু চার ঘরের কিছু  কমবয়সী ছেলে ইলেকট্রিক সাপ্লাই অফিসের উদ্দেশ্যে পা বাড়াতেই, হঠাৎ তাদের কানে ভেসে এলো, মহালয়ার সেই গান- বাজল তোমার আলোর বেণু,মাতল রে ভুবন.... সবাইকে অবাক করে মহালয়ার গান ধরেছে ছোট্ট মহালয়া। একে একে সবাই ঘরের ভেতর থেকে উঠোনে নেমে এল। বেজে উঠল শঙ্খ। মহালয়ার মা, মহামায়া ধুপধুনো জ্বালিয়ে দিতেই এক মোহময়ী মায়াজাল সৃষ্টি করল। সবাই স্তম্ভিত,বিষ্মিত। মহালয়া আপন মনে গেয়ে চলেছে। আর তার সেই গানের পরশে জেগে উঠছে ভোরের সূর্য।


Download ALEEK PATA Mobile APP

DOWNLOAD ALEEK PATA ANDROID APP


| Aleekpatamagazine.blogspot.com |
  |ALEEK PATA- Your Expressive World |Online Magazine |
| Editor: Swarup Chakraborty | Publisher: Debasree Chakraborty |
| Special Puja Issue, 2020 | October-November 2020 | শারদ সংখ্যা -১৪২৭।
| Fourth Year Third Issue |24 th Edition|
|© All Rights Reserved By The Editor and The Publisher |
|a DISHA-The Dreamer Initiative |
পড়া শেষ? পত্রিকা বন্ধ করুন


কাশ পর্ব- অনুগল্প-বিলকিসের বাৎসল্য - বেলা দে

 

বিলকিসের বাৎসল্য 
বেলা দে



বিলকিসের শখ হলো জঙ্গল থেকে বেরিয়ে একটু লোকালয় ঘুরে আসবে, বাইরে কি সুন্দর সূর্যের আলো এক রোমাঞ্চকর অনুভূতি আর খিদেও পেয়েছে খুব,একবার দেখে এসেছে সংসারী মানুষগুলি কত ভালো খাবার খায় ডাল, ভাত,তরকারি আর ওদের ভাগ্যে শুধু গাছপালা সেটাও আজকাল পর্যাপ্ত নয় গুটি গুটি পায়ে হেঁটে সে এগিয়ে গেল বনবস্তির দিকে, ছোট ছোট দুটি শিশু খেলছে,

বিলকিস গিয়ে দাঁড়ায় ওদের সামনে। মংলা আর ট্যাপা আপনমনে খেলতে খেলতে হঠাৎ দেখে কিসের একটা ছায়া,তাকিয়েই আঁতকে  ওঠে, সামনে দাঁড়িয়ে এক দৈত্যাকার কালো কুচকুচে গনেশঠাকুর। আতঙ্কে বুকের রক্ত ছলকে ওঠে, দিশেহারা হয়ে ছুটতে থাকে। মংলা লুকিয়ে পড়ে নিকটবর্তী একটা জঙ্গলে। ট্যাপা দিগ বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে পুকুরে। গলা ছাড়ানো জলে হাবুডুবু খাওয়া ট্যাপাকে দেখে খুব মায়া লাগে বিলকিসের,  জলে নেমে ট্যাপাকে শুঁড় দিয়ে পেঁচিয়ে  তুলে সেভাবেই রেখে আসে মংলুর ঠিক পাশটিতে যেখানে ও লুকিয়ে ছিলো। অন্তরালে দাঁড়িয়ে বন বস্তির দেহাতি মানুষগুলি অবাক হয়ে গেল হস্তিনীর বাৎসল্য দেখে, এতকাল ওদের শুধু ভুলই বুঝে এসেছে।

Download ALEEK PATA Mobile APP
DOWNLOAD ALEEK PATA ANDROID APP

| Aleekpatamagazine.blogspot.com |
  |ALEEK PATA- Your Expressive World |Online Magazine |
| Editor: Swarup Chakraborty | Publisher: Debasree Chakraborty |
| Special Puja Issue, 2020 | October-November 2020 | শারদ সংখ্যা -১৪২৭।
| Fourth Year Third Issue |24 th Edition|
|© All Rights Reserved By The Editor and The Publisher |
|a DISHA-The Dreamer Initiative |
পড়া শেষ? পত্রিকা বন্ধ করুন



কাশ পর্ব- অনুগল্প-মেয়ে দেখা- রুচিরা দাস

 

মেয়ে দেখা
রুচিরা দাস

 

একরাশ বিরক্তি নিয়ে বেরিয়ে পুরো ব্যানার্জী পরিবার। পুরো পরিবার বলতে মা আর ছেলে অভীক ব্যানার্জী। আজ মাসের শেষ রবিবার। তাই এটা ওনাদের মেয়ে দেখার দিন। সারা মাস ধরে এরা নানান পত্র পত্রিকা, খবরের কাগজ, অনলাইন ম্যাট্রিমনি সাইট ঘাঁটে আর এই দিনটায় অভিযানে বেরয়। গত দেড় বছর ধরে এই-ই চলছে।
প্রতিবারই কলকাতার বাইরে গেলে ওদের সঙ্গী হয় সুবীর। পাড়ারই ছেলে। একসময় ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে একটা চাকরিতে ঢুকেছিল। তারপর, মাস ছয়েকের মধ্যেই ওসবের পাঠ চুকিয়ে গাড়ী ভাড়ার বিজনেস খুলেছে। পসার ভালোই আছে। প্রাইভেট কোম্পানির ইঞ্জিনিয়ার হয়ে থাকলে এতোটা কামাই হয়তো হতো না।
ওরা বেড়িয়ে আসতেই সুবীর গাড়ীতে স্টার্ট দিলো। দুই মায়ে ব্যাটায় নিঃশব্দে উঠে আসতেই সে জিজ্ঞেস করলো-
"কি কাকিমা কেমন দেখলেন?"
ভালো মন্দ কোনো উত্তরই এলো না দেখে বুঝতে পারলো, এটা হলো না। গাড়ীর স্পিডটা একটু বাড়িয়ে দিয়ে বললো-
"এবার তাহলে পরেরটা?
" হ্যাঁ, আর কি? চল। দেখা যাক পরেরটা কি হয়।" বলল অভীক।
অভীকের বয়স কত? এই চৌত্রিশ-পয়ত্রিশ হবে। বড় একটা কোম্পানিতে ম্যানেজারের পদে রয়েছে। টাকা পয়সাও বেশ ভালোই আছে বলে তো মনে হয়। থাকার মধ্যে ওই একটা বৌয়েরই অভাব। রাস্তাঘাটে দেখা হলে মাঝে মাঝে সুবীরের সাথে কথা হয় অভীকের। বিয়ে নিয়ে বেশ চিন্তাতেই থাকে। একবার সে ভেবেছিল ওর শালীর কথা বলে দেখবে, কিন্তু কি রকম রেসপন্স পাবে সেটা আঁচ করতে না পেরে আর বলে ওঠা হয়নি। যতই হোক একটা তফাৎ তাদের মধ্যে রয়েই গেছে। সুবীর এসব ভাবছে তখনই-
-"এই সুবীর, তুই এখানে আগে এসেছিস?" জিজ্ঞেস করলো অভীকের মা।
-"হ্যাঁ কাকিমা, দুএকবারবার। আগে যখন আমি একাই গাড়ি নিয়ে বেরোতাম তখন এসেছি।"
-"তাহলে এখানে কোনো ভালো মন্দির আছে কি না একটু বল না, বাবা।
-"সে বোধহয় একটা আছে। মানে ছিল। তাও বোধহয় বছর তিনেক আগের কথা। একটু জিজ্ঞেস করে দেখতে হবে। কিন্তু, কাকিমা আজ হঠাৎ মন্দির…?" জিজ্ঞেস করলো সুবীর।
"আর বলিস না রে। ছবিতে যেমন দেখেছিলাম, একেবারেই তা নয়। আজকাল কি সব টেকনোলজি এলো, মানুষের ছবিও পাল্টে দিচ্ছে। মেয়েটা বেশ কালো। আমার এতো সুন্দর ফর্সা ফুটফুটে ছেলের সাথে একটা ওরকম মেয়ের বিয়ে দেওয়া যায় বল?"
-"কিন্তু কাকিমা, এতো কিছু ভাবতে ভাবতে তো অভীকদার বয়সও বেড়ে যাচ্ছে। আর আজকাল ওসব কেউ দেখে নাকি? আমার বৌটাও তো কালো। তাতে কি হয়েছে… আমার বা বাবা মায়ের যত্ন-আত্তি কি কিছু কম করে?"
আরও কিছু বলতে হয়তো যাচ্ছিল, হঠাৎ মিররে তাকিয়ে পেছনের মুখগুলো দেখে মনে হলো হয়তো এসব অপাত্রে দান। তাই থেমে গেলো।
সঙ্গে সঙ্গে অভীকের মা বললো- "তাড়াতাড়ি চালা সুবীর। আমাদের তো আবার বাড়ীও পৌছতে হবে। আর ঠাকুরের দয়ায় যদি এবারেরটা একটু দেখতে শুনতে ভালো হয় তাহলে তো কথাবার্তা বলতে একটু টাইমও লাগবে। দেখ না, কাছাকাছির মধ্যে যদি কোনো কালি মায়ের মন্দির থাকে তাহলে ভালো হয়। আমি আবার কালি মাকে খুব মানি। তবে একটু পুজো দিয়ে যাই।"
সুবীর, আচমকা ব্রেকটা কষে দিলো। আপনা আপনিই বোধহয় পা টা পড়ে গেল। নাকি এই সময়ই একটা এরকম ঝাঁকুনির দরকার ছিলো। কে জানে?
কিন্তু, পেছনে তাকিয়ে বুঝলো, না তেমন ঝাঁকুনি আর দিতে পারলো কই? কালি মন্দিরে পুজো দিয়ে ছেলের জন্য ফর্সা মেয়ের প্রার্থনা করা পরিবারের একজন তো ফুরফুরে হাওয়া পেয়ে প্রায় এলিয়েই পড়েছে আর অন্যজন আকুল নয়ন বাইরে তাকিয়ে তাদের ত্রাতা কৃষ্ণাঙ্গী দেবীর বাসস্থান খুঁজেই চলেছে। অতএব, সুবীর স্টিয়ারিংটা শক্ত করে ধরে আবার ড্রাইভিংয়ে মন দিলো।

Download ALEEK PATA Mobile APP

DOWNLOAD ALEEK PATA ANDROID APP


| Aleekpatamagazine.blogspot.com |
  |ALEEK PATA- Your Expressive World |Online Magazine |
| Editor: Swarup Chakraborty | Publisher: Debasree Chakraborty |
| Special Puja Issue, 2020 | October-November 2020 | শারদ সংখ্যা -১৪২৭।
| Fourth Year Third Issue |24 th Edition|
|© All Rights Reserved By The Editor and The Publisher |
|a DISHA-The Dreamer Initiative |
পড়া শেষ? পত্রিকা বন্ধ করুন


Friday, August 28, 2020

অনুগল্প-সমাজের জলছবি-জ্যোতিকা পোদ্দার


সমাজের জলছবি


জ্যোতিকা পোদ্দার

অনুগল্প ১
ভগবান না শয়তান

Image Courtesy: Google Image Gallery


হঠাৎ সকালে অরূপের ফোন।
 শর্মিলা তখন হসপিটালে যাওয়ার জন্য রেডী হচ্ছে...
আজ একটা জটিল অপারেশন আছে। মেয়েটা প্রেগনেন্ট হওয়ার পর থেকেই ভীষণ রকমভাবে শারীরিক সমস্যায় ভুগছিল।
গ্রামের মেয়ে অল্পবয়সে বিয়ে হয়েছে, বিয়ের পরপরই প্রেগনেন্ট হয়ে পড়েছে, সতেরো বছর বয়স, জননাঙ্গ গুলির গঠনও ঠিকমতো হয়নি,তারমধ্যে অপুষ্টি ...
গ্রামের হাতুড়ে ডাক্তার দেখাচ্ছিলো। কিন্তু তার হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে তাড়াতাড়ি অন্য ডাক্তারের কাছে রেফার করে দিয়েছেন তিনি।
এখন ডক্টর শর্মিলার আন্ডারে ভর্তি সেই মেয়েটি।
খুবই ব্যস্ত শর্মিলা আজ। তার মধ্যেই অরূপের ফোন।
 ফোনটা তুলে শর্মিলা বলে,
-হ্যালো! বলো অরূপ।
-শর্মি আজ আমার পিসিদিদা এসেছে , তোমাকে দেখবে, একসাথে লাঞ্চ করবে বলল। তুমি কিন্তু চটপট হসপিটাল থেকে চলে এসো আমাদের বাড়িতে।
-অরূপ,আজকের অপারেশনটা খুব ক্রিটিক্যাল। জানিনা তাড়াতাড়ি যাওয়া সম্ভব হবে কিনা। কিন্তু আমি চেষ্টা করবো।
-শর্মি মনে রেখো আর কিছুদিনের মধ্যেই আমাদের বিয়ে- এইধরনের ফ্যামিলি প্রোগ্রামগুলো অ্যাটেন্ড করতে হবে তোমাকে।
-বললাম তো আমি চেষ্টা করব।
অরূপের বাড়িতে দুপুরের মধ্যাহ্নভোজের আসর জমজমাট,কিন্তু শর্মিলা এখনো আসেনি-
অরূপ বারবার ফোন করছে, কিন্তু ফোন সুইচ-অফ।
এতবড় গাইনোকোলজিস্ট শর্মিলা, একটা ছোট্ট অপারেশন করতে এত সময়!
এত জটিল বড়বড় কেস সে এক নিমিষে সমাধান করেছে,
অরূপের বাবা হঠাৎ টিভিটা চালালেন,
-খবরটা শুনি যতক্ষণ শর্মিলা না আসে।
টিভি চালাতেই সবাই হতবাক-
হসপিটালে প্রসূতির মৃত্যুতে ডাক্তার এবং নার্সকে মারধোর,হসপিটাল ভাঙচুর, ড: শর্মিলার অবহেলায় প্রসূতির মৃত্যু,নিউজ মিডিয়া তোলপাড়।
ডক্টর শর্মিলা বারবার বলছেন,মহিলার শারীরিক জটিলতা ছিল তিনি সেটা আগেই পেশেন্টের বাড়ির লোকদের বলেছিলেন,
তবুও অনেক চেষ্টা করে তিনি,কিন্তু মা, বাচ্চা কাউকে বাঁচাতে পারেননি।
টিভিতে পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে শর্মিলার সালোয়ারের কাঁধের কাছটা টানাহেচড়ায় ছিঁড়ে গেছে-

পিসিদিদা বলে উঠলেন,
-ছিছি একি অলুক্ষুনে মেয়ে বাবা,তাকে তোরা এই বাড়ির বউ করতে  যাচ্ছিলি ?
-আহা গো,মা বাচ্চা দু'জনকেই মেরে ফেলল!
-এমন খুনি শয়তান মেয়ে ঘরের বউ! মেনে নিতে পারলেন না অরূপের মা অনিতাদেবী।
 অরূপের  সাথে বিয়ের সম্বন্ধটা ভেঙ্গে গেলো শর্মিলার।
পুলিশ ভেরিফিকেশন এবং পোস্টমর্টেমের পর দেখা গেল মেয়েটির শারীরিক জটিলতা এতটাই ছিল যে কোন ভাবেই তাকে বাঁচানো যেতনা,তবুও সব দোষ হল ড:শর্মিলার।
এত কিছুর মধ্যেও শর্মিলা অবাক হলো অরূপের ব্যবহার দেখে,শর্মিলার এত বড় বিপদের সময় পাশে থাকা তো দূরের কথা-তার পরিবার যা সিদ্ধান্ত নিল তাতেই মত দিল।
দুঃখী শর্মিলা ট্রান্সফার নিয়ে শহর ছেড়ে চলে গেল উত্তরবঙ্গের এক গ্রামীণ হসপিটালে।
কেটে গেল পাঁচবছর...

হঠাৎ ডা:সেনের কেবিনে হন্তদন্ত হয়ে হাজির হয় এক মহিলা,মহিলার কথাতে বোঝা গেল  বাপের বাড়িতে  এসে তার মেয়ের খুব সংকটজনক অবস্থা,মেয়েটি সাড়ে সাতমাসের গর্ভবতী।
ভদ্রমহিলা ড: সেনের পায়ে পড়ে বললেন,
-যেভাবে পারেন আমার মেয়েকে বাঁচান।

ডা:সেনের অক্লান্ত চেষ্টায় প্রিম্যাচিউর ডেলিভারি হলো মহিলার, কিন্তু মা বাচ্চা দুজনেই প্রাণে বাঁচল।
অপারেশন থিয়েটার থেকে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বেরোলেন ডা:সেন।

ছুটে এলেন মহিলার স্বামী এবং শ্বাশুড়ীমা,ভদ্রমহিলা কেঁদে বললেন,
-ডাক্তারবাবু আপনি মানুষ না, ভগবান! আমার বউমা আর আমার একমাত্র বংশধরকে আপনি প্রাণভিক্ষা দিয়েছেন।
মুখ থেকে মাক্সটা খুলে ফেললেন ড:সেন।
এতবছর পর আবার মুখোমুখি অনিতা দেবী অরূপ আর ড:শর্মিলা।।

সমাপ্ত



অনুগল্প ২

শৈশব চুরি

Image Courtesy: Google Image Gallery


-হ্যাঁরে মালতি আজ আসতে এত দেরি হল কেন কাজে? সঙ্গে আবার কে রে? সেনগিন্নি বলে।
-বৌদি আজ বাড়ি থেকে বেরোতে একটু দেরি হয়ে গেল,কালকে সারারাত আমার বরের কাশি সঙ্গে শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল ,বৌদি এই হল আমার মেয়ে।
সেনগিন্নি মেয়েটাকে ভালো করে জরিপ করে বলে,
-বাহ! মালতি! তোর মেয়েটাতো বেশ, কি নাম রে তোর?
-আমার নাম কুমারী বিনীতা দাস।
-বাহ! মালতি তোর মেয়েতো বেশ চটপটে রে, হ্যাঁরে মালতি খাওয়া-পরায় মেয়েকে দিবি নাকি!
-আমার মেয়ের ঘরে আমার নাতিটা চারবছরের হয়েছ, খুব দুরন্ত হয়েছে,মেয়ে আবার চাকরি করে, তাই ছেলেটাকে চোখে-চোখে রাখার জন্য খাওয়া-পরার লোক খুঁজছিল।
-তোর মেয়েকে দেখে ঠিক লাগছে, ভালো মাইনে দেবে,আলাদা ঠিকে ঝি,রান্নার লোক আছে। ওর কাজ হবে খালি ছেলেকে ধরা, আমার মেয়ের শাশুড়ির বয়স হয়েছে তো, পারেনা।

-না গো বৌদি;  আমার বিন্তিকে কাজে লাগাব না; ও পড়াশোনা করছে, ক্লাস ফোরে পড়ে।,ক্লাস থ্রি থেকে ফোরে উঠতে ফার্স্ট হয়েছে,আমি ওকে অনেক দূর পড়াবো,ও বড় অফিসার হবে-মালতির দুচোখে স্বপ্ন।
সেনগিন্নি মুখ বেঁকিয়ে বলে,
- যেমন তোর মর্জি, তোকে বলা রইল যদি বিন্তির বয়সী কাউকে পাস তো বলিস।
রাত্রিবেলায় বিন্তির চুলে তেল লাগিয়ে দিতে দিতে মালতি বলে,
-বিন্তিরে তোকে নিয়ে আমার অনেক স্বপ্ন, আমার মত বাড়ি বাড়ি কাজ করতে তোকে আমি দেবনা, তোকে লেখাপড়া শিখিয়ে মানুষের মত মানুষ করব, জানিস তো আমরা খুব গরীব ছিলাম. ছোট ছোট চারটি ভাইবোনকে রেখে বাবা মারা গেল, মা আমাদের ভাইবোনেদের দুবেলা খাবার জোগানোর জন্য লোকের বাড়ি বাড়ি বাসন মাজার কাজ ধরল, মার একার রোজগারে সংসার চলেনা,মার সঙ্গে আমিও যেতে শুরু করলাম কাজে, তখন আমার বয়স এগারো। তারপর ১৫-১৬বছর হতে না হতেই আমার বিয়ে হয়ে গেল, তুই হলি, তোর বাবা রিক্সা চালায়, দু-চার পয়সা যা হয় মদ বিড়ি সিগারেট উড়িয়ে দেয়,কিছু বলতে গেলে অশ্রাব্য গালিগালাজ,মারধোর, সংসার চালানোর জন্য আবার ঠিকে কাজে লেগে গেলাম,মরণ পর্যন্ত এই কাজ আমাকে করে যেতেই হবে,কিন্তু তুই আমার স্বপ্নপূরণ করবি।
বিন্তি বলে,
-হ্যাঁ  মা, আমি লেখাপড়া করব।

-খক খক খক, উফ!
 আবার তোমার কাশিটা বেড়েছে, ও বিন্তি! তোর বাপের জন্য এক গ্লাস জল আন। কত করে বলি মদ বিড়ি সিগারেট খেওনা,শুনবে না কথা।
-খক..! খক ...! খক...!
-ওমা একি এ যে কাশির সাথে রক্ত উঠছে...!
-ডাক্তারবাবু কি হয়েছে ‌এর ? সারাদিন খুব কাশে কাল যা যা পরীক্ষা করতে বললেন- এই যে সব পরীক্ষার রিপোর্ট।

গম্ভীর মুখে ডাক্তারবাবু সমস্ত রিপোর্ট দেখে বললেন,
-তোমার বরের ফুসফুসে ক্যান্সার হয়েছে।
-ওমা! কি হবে ডাক্তারবাবু! এ রোগ কি আর সারবে না?
 মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়ে মালতি।
ডাক্তারবাবু বলেন,
- এ হলো রাজরোগ। চিকিৎসা করতে যেমন সময় লাগবে তেমনি লাগবে টাকা! খুবই সময় সাপেক্ষ, তুমি ঠিকমত  ওষুধপত্রের জোগাড় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে পারলে চেষ্টা করে দেখতে পারি বাঁচাতে পারি কিনা! পারবে কি চিকিৎসার খরচ চালাতে? তাহলে হসপিটালে এডমিট করে নিচ্ছি।
চোখ মুছে মালতি বলে,
-পারবো ডাক্তারবাবু আপনি মানুষটারে বাঁচান..!
 সেদিন বিকেলে-
-সেনবৌদি,এই যে বিন্তি; পাঠিয়ে দাও, তোমার মেয়ের কাছে খাওয়া পরায়।
বিন্তির অজান্তেই চুরি হয়ে গেল তার শৈশব
এইভাবে প্রতিদিন কতশত শৈশব যে চুরি হয়-তার খবর রাখে কজন...!


সমাপ্ত


| Aleekpatamagazine.blogspot.com |
  |ALEEK PATA-The Expressive World |Online Magazine |
| Editor: Swarup Chakraborty | Publisher: Debasree Chakraborty |
| Special Monsoon Issue,2020 | July-September 2020 |রিমঝিম সংখ্যা।
| Third Year Sixth Issue |23 rd Edition|
|© All Rights Reserved By The Editor and The Publisher |
|a DISHA-The Dreamer Initiative |
 সূচি পত্র / Index


Main Menu Bar



অলীকপাতার শারদ সংখ্যা ১৪২৯ প্রকাশিত, পড়তে ক্লিক করুন "Current Issue" ট্যাব টিতে , সবাইকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা

Signature Video



অলীকপাতার সংখ্যা পড়ার জন্য ক্লিক করুন 'Current Issue' Tab এ, পুরাতন সংখ্যা পড়ার জন্য 'লাইব্রেরী' ট্যাব ক্লিক করুন। লেখা পাঠান aleekpata@gmail.com এই ঠিকানায়, অকারণেও প্রশ্ন করতে পারেন responsealeekpata@gmail.com এই ঠিকানায় অথবা আমাদের ফেসবুক গ্রুপে।

অলীক পাতায় লেখা পাঠান